২২ জুন ২০১২, শনিবার, ০৩:০২:৩৭ অপরাহ্ন


অন্যপিঠও দেখালো আইপিএল
খন্দকার সালেক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৯-০৫-২০২৪
অন্যপিঠও দেখালো আইপিএল আইপিএলের ট্রফি হাতে কেকেআর


বলিউড বিনোদন সংযুক্ত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ টি২০, ২০২৪ শেষ খেলাটি দেখে ভেবে বিস্ময় জাগতেই পারে। যেই টুর্নামেন্টজুড়ে ব্যাটসম্যানরা নির্দয়ভাবে সংহার করেছে। ২২০, ২৩০, ২৫০ রান হয়েছে অনেক ম্যাচে। আবার অনেক খেলায় হিমালয়সম টার্গেট তাড়া করে ম্যাচ জয় করেছে দ্বিতীয় ইনিংস খেলা দল। আর ফাইনালে আসা দুটি দল কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং সান রাইজার্স হায়দ্রাবাদ নিজেদের আগের ম্যাচগুলোতে বড় স্কোর করেছে, অথচ সবার ধারণা মিথ্যে প্রমাণ করে গত ২৫ মে ফাইনালে প্রথম ব্যাটিং করা এসআরএইচ ১৮.৩ ওভারে ১১৩ রানে গুটিয়ে যায়, জবাবে মাত্র ১০.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১১৪/২ করে ৮ উইকেটে আবারও আইপিএল শিরোপা জয় করে বলিউড বাদশা শাহরুখ খান মালিকানার দল জনপ্রিয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। আলোচিত, সমালোচিত আইপিএল নানা মুখরোচক ক্রিকেটযুদ্ধের অবতারণা করে শেষ ম্যাচটিতে স্রোতের বিপরীত ধারা উপহার দিলো। এবারের মতো এক-দুই পেশে ফাইনাল খেলা আগে কেউ দেখেনি বিশ্বকাপ ক্রিকেটে।

খেলার আগে ক্রিকেট বিশ্লেষক, বোদ্ধাদের ধারণা ছিল আইপিএল ২০২৪ দুটি মাত্র শক্তির গতিশীল দলের ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। মারকুটে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান ট্রাভিস হেড, ভারতীয় বিস্ময় অভিষেক শর্মা, দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক এইডেন মারকরাম, হেনরিক ক্লাসেন সম্মিলিতভাবে অথবা কয়েকজন এবারের আইপিএলে রেকর্ড চুক্তিতে খেলা অস্ট্রেলিয়ান ফাস্ট বলার মিচেল স্টার্ক, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুই অলরাউন্ডার সুনীল নারিন এবং আন্দ্রে রাসেলের মুখরোচক লড়াই হবে। কিন্তু স্রোতের বিপরীত খেলা দেখলো বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ক্রিকেট পূজারী, ট্রাভিস হেড গোল্ডেন ডাক পেলো, অভিষেক শর্মা করলো মাত্র ২ রান। দ্বিতীয় ওভার শেষে ৬ রানে ২ উইকেট হারানো হায়দ্রাবাদের দলটি আর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি। আক্রমণাত্মক বোলিং আর তুখোড় ফিল্ডিং করে কেকেআর ১১৩ রানেই গুটিয়ে দেয় হায়দ্রাবাদের দলটিকে। কামিন্স (২৪), এইডেন মারকরাম (২০), হেনরিক ক্লাসেন (১৬), নীতিশ রানা (১৩) ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কের স্কোর করতে পারেনি। খেলার ভাগ্য তাই মাঝ পথেই নির্ধারিত হয়ে যায়। বড় ম্যাচের বড় তারকা আন্দ্রে রাসেল (৩/১৯), টুর্নামেন্টের সবচেয়ে উচ্চ সম্মানী পাওয়া মিচেল স্টার্ক (২/১৪) গুঁড়ো করে দেয় প্রতিপক্ষের প্রতিরোধের দুর্গ।

জবাবে ব্যাটিং করতে এসে কেকে আর অধিনায়ক ভেঙ্কটেশ আয়ার (৫২*) এবং আফগান ওপেনার রামানুল্লাহ গুড়বাজের (৩৯) সাবলীল বাটিংয়ের জোয়ারে ভাসিয়ে দিলো প্রতিপক্ষকে। আইপিএলের অন্যতম সফল দল কেকেআরের মুকুটে যোগ হলো আরো একটি পালক।

সবাই জানে ক্রিকেট বিশ্বে বিশ্বকাপ ছাড়া আর কোনো টুর্নামেন্ট নিয়ে এত আলোচনা বিতর্ক হয় না। প্রতিবারের টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই সবার দৃষ্টি থাকে কোনো ফ্রাঞ্চাইজি কাকে দলে নিয়ে কি ধরনের দল গঠন করলো। আইপিএল ইতিহাসের দুটি সফল দল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস অথবা চেন্নাই সুপার কিংস প্লে অফ রাউন্ডে আসতে পারলো না। বিশ্বসেরা কিছু খেলোয়াড় বিরাট কোহিলি, গেলেন ম্যাক্সওয়েল, ফাফ ডুপ্লেসি, ক্যামেরুন গ্রিনকে নিয়ে প্লে অফ রাউন্ডে এসেও ঝরে গেল।

স্বভাবতই ফাইনাল খেলাটি টুর্নামেন্টের স্রোতধারার বিপরীতমুখী হওয়ায় বিস্ময় জেগেছে। আমি আইপিএল জয়ী কেকেআরের সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছি না তবে। তবে সমগ্র সিরিজজুড়ে রোমা রোমা ক্রিকেট শেষে ম্যাড়মেড়ে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করতে পারে।

টুর্নামেন্ট শেষ। দুই দলে থাকা বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপ খেলতে পাড়ি জমাবে। আইপিএল খেলে অন্য কোনো দলের কি সুবিধা হয় জানি না, ভারত কিন্তু উপকৃত হয় প্রতিবারেই বিশ্বমানের। নতুন তরুণ প্রতিভা আবিষ্কারে।

শেয়ার করুন