২২ জুন ২০১২, শনিবার, ০৪:০২:০৫ অপরাহ্ন


দেশকে রুহিন হোসেন প্রিন্স
তারাও বুঝেছে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৫-০৬-২০২৪
তারাও বুঝেছে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে রুহিন হোসেন প্রিন্স


বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, কিছু দল অনেক সময় মনে করেছে যে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যেতে গেলে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বললে সে-টায় বিপত্তি বাধতে পারে। হয়তো তাদের ভবিষ্যতে ক্ষমতা যেতে সমস্যা হবে। একারণে এই ধরনের ডাকে কিছুটা কনফিউশান তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ১ জুন কর্মসূচি সফল হওয়ার মাধ্যমে সে কনফিউশান শেষ হয়ে গেছে। তারাও তাদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছে দেশবাসীর সাথে থাকতে হলে যে কোনো গণহত্যা বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের দাঁড়াতে হবে। 

ফিলিন্তিনে গণহত্যা বন্ধ, জাতিসংঘ সদস্যপদ থেকে বর্বর ইসরাইলকে বহিষ্কার, মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ উন্মাদনার বিরুদ্ধে ১ জুন দেশব্যাপী সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আয়োজক মূলত বাম প্রগতিশীল উদার গণতান্ত্রিক ও ম্রাজ্যবাদ ও আগ্রাসন বিরোধী মতে বিশ্বাসীরা। এমন আয়োজনের পর বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সের কাছে জানতে চাওয়া হয় এধরনের কর্মসূচির সফলতাও বিভিন্ন দিক নিয়ে। নিচে তার সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো। এটি নিয়েছেন আমেরিকা থেকে প্রকাশিত পাঠকপ্রিয় দেশ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ 

দেশ: ফিলিন্তিনে গণহত্যা বন্ধ, জাতিসংঘ সদস্যপদ থেকে বর্বর ইসরাইলকে বহিষ্কার, মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ উন্মাদনার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ১ জুন দেশব্যাপী সংহতি সমাবেশ নিয়ে কিছু বলুন। 

রুহিন হোসেন প্রিন্স : আমরা জানি প্যালেস্টাইনে একটা গণহত্যা চলছে। বাংলাদেশের জনগণ বিভিন্ন সময়ে এই গণহত্যার বিরুদ্ধে তারা তাদের অবস্থান নানাভাবে জানিয়েছে। প্যালেস্টাইনে ইসরাইলের দ্বারা গণহত্যার শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের জনগণ এর বিরুদ্ধেই তাদের অবস্থানও পরিস্কার করেছে। আমরা বেশ কিছুদিন আগে বিভিন্ন সংগঠন কথা বলে এই ১ জুন কর্মসূচিটি পালন করলাম। আজকের এই দিনটি টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া অনেক গ্রামেও এ কর্মসূচিটি পালিত হয়েছে, যার যার ব্যানারে..। আমি এই ব্যাপারে অনেক উদাহরণ দিত পারি। আমাদের কাছে খবর আছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি গ্রামের একটি পুরো পরিবার তারা এধরনের কর্মসূচির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে দাঁড়িয়ে প্যালেস্টাইনে ইসরাইলের গণহত্যার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেছে। রাজধানীতে সূত্রাপুর, মোহাম্মদপুরের স্থানীয় ক্লাব থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনগণ প্যালেস্টাইনে এই ইসরাইলেল বর্বর হামলা বিরুদ্ধে একিই দিনে প্রতিবাদ করতে দাঁড়িয়ে গেছে। আমরা এই কর্মসূচিটি এজন্য ঘোষণা করেছিলাম যে আমাদের মধ্যে কোনো দলীয় আবরণ থাকবে না। বাংলাদেশের মানুষ এদিনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনিদের পাশে তাদের অবস্থানের জানান দিক। এবং আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদ নীতির বিরুদ্ধে কথা বলুক। এধরনের কর্মসূচির মধ্যে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে কোনো দল নয় বাংলাদেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষ ফিলিস্থিনি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। এ উদ্দেশ্য নিয়েই এই কর্মসূচি আমরা আহবান করেছিলাম। এবং এই কর্মসূচি আমরা সফলভাবেই পালন করেছি, সব জনগণ অংশ নিয়েছে তাতে। 

দেশ : আপনার কি ধারণা এই কর্মসূচিতে সব শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে?

রুহিন হোসেন প্রিন্স : সব দল বলতে তো...

দেশ: না মানে সব মতের মানুষ?

রুহিন হোসেন প্রিন্স : হা হা আমি সব মতের মানুষ মনে করি-মোটামুটি যারা খোঁজ পেয়েছে জেনেছে এমন প্রতিবাদ কর্মসূচির কথা তারাতো অংশ নিয়েছে। যারা আসতে পারেনি তারাতো বলেছে এই কর্মসূচির পরে যে তারা আরো আগে জানতে একযোগেই আরো বেশি জনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সাহায্য করতো। আসলে দেশের রাজনৈতিক ডামাডোলে অনেক কর্মসূচি থাকাতে এই ইস্যুটা সামনে আসতে পারেনি। তাহলে আরো অনেকে নামতো। কিন্ত তারা না নামলেও তাদের সমর্থনতো আছেই। এধরনের কর্মসূচির মাধ্যম আরা আরেকটা জিনিস লক্ষ্য করেছি। তা হলো অনেকেই জানেন ইরাকে যখন মার্কিন হামলা হয়েছিল তার প্রতিবাদে কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ দলমত নির্বিশেষেই রাজপথেই নেমেছিলাম। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে বাংলাদেশের জনগণ এই রকমই প্রতিবাদি হওয়া উচিত। অনেক দল মত থাকবে..। কিন্ত পরস্পর পরস্পরের সাথে কো-অর্ডিনেশন করবো, যেনো পরস্পর পরস্পরের সাথে একসাথে থাকতে পারি। এই আমরা যতটুকা পেরেছি করেছি। ভবিষ্যতে এইভাবে যে কোনো ইস্যুতে আমরা রাজপথে নামতে পারি। 

দেশ: আপনি কি বোঝাতে চান যে বাংলাদেশের জনগণকে সাম্রাজ্যবাদসহ অন্য যে কেনো ইস্যুতে এক সাথে কাজ করা?

রুহিন হোসেন প্রিন্স : নি:সন্দেহে.. নি:সন্দেহে..। যে কোনো গণহত্যা, সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাধের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ অবশ্য এমনিতেই বিরোধীতা করে তার ঐতিহ্যের কারণেই। বরং অনেক দল অনেক সময় দেখবেন তার নিজস্ব কারণে এসব ইস্যুত কথা বলে না। কিন্তু এসব দল শেষ বেলায় তাদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই দেখবে এধরনের কর্মসূচির পক্ষে চলে আসবে..। কথা বলবে। কিন্তু অনেক সময় হয় না। কারণ আমরা অনেক কিছুকে দলীয়করণ করে ফেলেছি। আমরা আহবান করেছিলাম এই কর্মসূচি হবে যার যার অবস্থান থেকে। কোনো ব্যক্তি বা দল নয়। সবাই এটার আহবানকারী। 

দেশ: আপনি কি মনে আপনারা এই কর্মসূচিটি সফলভাবে পালন করতে পেরেছেন দলীয় ব্যানারের বাইরে থেকেও?

রুহিন হোসেন প্রিন্স : আমি অবশ্যই মনে করি। এই ধরনের কর্মসূচির আগেও বাংলাদেশের মানুষ ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরাইলী হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। বরং কিছু দল অনেক সময় মনে করেছে যে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যেতে গেলে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বললে সেটায় বিপত্তি বাধতে পারে। হয়তা তাদের ভবিষ্যতে ক্ষমতা যেতে সমস্যা হবে। একারণে এই ধরনের ডাকে কিছুটা কনফিউশান তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ১ জুন কর্মসূচি সফল হওয়ার মাধ্যমে সে কনফিউশান শেষ হয়ে গেছে। তারাও তাদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছে দেশবাসীর সাথে থাকতে হলে যে কোনো গণহত্যা বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের দাঁড়াতে হবে।

শেয়ার করুন