৩১ জানুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ৬:৪৩:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চিয়তা ‘উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিনঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই রয়েছে’ এনসিপির ৩৬ দফার ইশতেহার, কী আছে তাতে? ১২ ফেব্রুয়ারী ধানের শীষের পাশাপাশি হ্যা ভোট দেয়ারও আহ্বান তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের জয়, নাইকোকে ৫১৬ কোটি টাকা জরিমানা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ- ইসি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে- জাহাঙ্গীর তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশের আহ্বান নিরাপদ কর্মপরিবেশের দায়িত্ব নিয়োগকর্তারই `খুব ঠান্ডা শীত এলে এখনো পিঠে ব্যথা হয়, কারাগারে নির্যাতনের ফল'


মুসলিম অধিকার সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের সমন্বিত আক্রমণ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩১-১২-২০২৫
মুসলিম অধিকার সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের সমন্বিত আক্রমণ


যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সাস ও ফ্লোরিডা স্টেটে মুসলিম অধিকার ও অ্যাডভোকেসি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে রিপাবলিকানদের নাগরিক অধিকারকর্মীরা একটি সমন্বিত এবং বহুস্তরীয় আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়কে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, বিশেষ করে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) ও মুসলিম ব্রাদারহুডকে স্টেট পর্যায়ে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আইন, প্রশাসনিক ও আইনসভাভিত্তিক এই পদক্ষেপগুলো মুসলিম নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর কার্যক্রমকে দুর্বল করে দেওয়ার এবং তাদের চুপ করানোর লক্ষ্য রাখছে।এই পদক্ষেপগুলো মুসলিম সম্প্রদায়কে ‘জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করার একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা।

তাদের মতে, টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ও ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডি স্যান্টিসসহ স্টেট ও ফেডারেল পর্যায়ের রিপাবলিকান রাজনীতিকরা মুসলিম সংগঠনগুলোর অর্থায়ন সীমিত করা এবং তাদের সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন।বিশেষ করে ইসরায়েল–গাজা যুদ্ধের পর এই প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে। এই উদ্যোগগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হলো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন হিসেবে পরিচিত কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার)। সাম্প্রতিক সময়ে টেক্সাস ও ফ্লোরিডা স্টেট পর্যায়ে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কেয়ার এবং মুসলিম ব্রাদারহুডকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যে ক্ষমতা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের এখতিয়ারভুক্ত। ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল পলিসি অ্যান্ড আন্ডারস্ট্যান্ডিং-এর নির্বাহী পরিচালক তুকা নুসাইরাত বলেন,আমরা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত, বহুস্তরীয় আক্রমণ হিসেবে দেখছি যে আইনি, নির্বাহী ও আইনসভাভিত্তিক পদক্ষেপের মাধ্যমে মুসলিম নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে দুর্বল ও চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র‌্যান্ডি ফাইন প্রকাশ্যে কেয়ার -কে ‘মুসলিম সন্ত্রাসী সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে স্টেট ও ফেডারেল পর্যায়ে একাধিক প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। তিনি এর আগে ফ্লোরিডা সিনেটে একটি অ-বাধ্যতামূলক প্রস্তাব পাশ করান, যাতে স্টেটগুলোর সকল সংস্থাগুলোকে কেয়ার -এর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানানো হয়। পরে কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়ে তিনি কেয়ার -কে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার বিল উত্থাপন করেন।ফাইন বলেন,গভর্নর ডি স্যান্টিস ও অ্যাবট এই বিষয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এটি আমি ইতিবাচকভাবে দেখি। যুক্তরাষ্ট্রে মূলধারার মুসলিম সন্ত্রাসী হুমকিকে এখন গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে।

তবে নাগরিক অধিকারকর্মীরা এসব বক্তব্যকে বিপজ্জনক ও উসকানিমূলক বলে আখ্যা দিয়েছেন। কেয়ার -এর ফ্লোরিডা শাখার যোগাযোগ পরিচালক উইলফ্রেডো রুইজ বলেন,সরকারি পর্যায় থেকে যখন এই ধরনের বক্তব্য আসে, তখন তা কেবল কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও হুমকি বাড়িয়ে তোলে।

৭ অক্টোবর ২০২৩-এ হামাসের হামলা ও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলোর ওপর নজরদারি ও চাপ বেড়েছে। কংগ্রেসে ‘সন্ত্রাসবাদে সহায়তাকারী’ সংগঠনগুলোর করমুক্ত সুবিধা বাতিলের লক্ষ্যে একাধিক বিল উত্থাপিত হয়েছে। এসব উদ্যোগের আওতায় কেয়ার সহ ও অন্যান্য মুসলিম সংগঠনের নামও বারবার উঠে এসেছে। গভর্নর অ্যাবট এক বিবৃতিতে দাবি করেন,মুসলিম ব্রাদারহুড ও কেয়ার -এর লক্ষ্য হলো শরিয়াহ আইন চাপিয়ে দেওয়া এবং বিশ্বে ইসলামের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।

কেয়ার এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং টেক্সাস ও ফ্লোরিডা রাজ্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছে।

কেয়ারের জাতীয় উপপরিচালক এডওয়ার্ড আহমেদ মিচেল বলেন,এগুলো রাজনৈতিক প্রচারণা হলেও এর বাস্তব আইনি ও সামাজিক পরিণতি হতে পারে,যদি এসব সিদ্ধান্ত বাতিল না করা হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সরকারি পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের ফলে মুসলিম ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে অনলাইন ঘৃণা, হুমকি ও সহিংসতার আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কেয়ার জানিয়েছে, টেক্সাসে গভর্নরের আদেশের পর তাদের বিরুদ্ধে অনলাইন হুমকির সংখ্যা বেড়েছে।

সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেইট-এর নির্বাহী পরিচালক রাকিব হামিদ নায়েক বলেন, ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য এখন স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। এটি একটি মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে।বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, শরিয়াহ আইনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্থাপিত বিল ও মুসলিম সংগঠনবিরোধী আইনগত উদ্যোগগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি তৈরি করতে পারে।

শেয়ার করুন