সীমান্তে বাংলাদেশ ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীরা মুখোমুখী ও সমস্যা সমাধানে আলপরত/ফাইল ছবি
সংকীর্ণমনা মুসলমান নিধনকারী ভারতের মোদির হিন্দুত্ববাদী সরকার বাংলাদেশকে কি গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায়? বিষয়টা নিয়ে আলোচনার সময় এসেছে। সরাসরি কথা না বলা হলে বিষয়টা আরো গভীরে চলে যেতে পারে। ইতিমধ্যে ভারত জামায়াতে ইসলামকে চাপ দিয়েছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কথা বলতে।
আবার মোদি সংসদে বাংলায় বলেছেন, বাংলা ভাষী পেলে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে। এরপর জয়শঙ্কর এসে তারেক জিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ ৪৫ মিনিট কথা বলেছেন। কারণটা কী? বাংলাদেশের মানুষ গত দু’বছর থেকে বলতে গেলে জুলাই বিপ্লব থেকে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার ‘খুনের পর খুন, গুম ও ধর্ষণের যে নারকীয় কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তা নিয়ে ভারত কোন প্রকার মন্তব্য করেনি; কিন্তু এমন নয় যে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারত কোন কথা বলেনি। যখন হিন্দুরা প্রকাশ্যে বাংলাদেশের আইনজ্ঞকে হত্যা করে তখন ভারত কোন কথা বলে না; কিন্তু যখন কোনো হিন্দুকে হত্যা করা হয় তা যেভাবেই হোক ভারত শুধু প্রতিবাদ নয়, প্রতিশোধের হুঙ্কার দেয়। বাংলাদেশে ধর্ষণকারী প্রাক্তন হিন্দু নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস নামে ইসকন থেকে বহিষ্কৃত এক হিন্দুকে যখন গ্রেফতার করা হয় তখন ভারত থেকে হুঙ্কার উঠে ইসকনের সঙ্গে সঙ্গে।
তার জামিন না মঞ্জুরে যখন মুসলিম আইনজ্ঞ আদালতে তর্ক করে তখন তাকে কুপিয়ে হত্যা করে ইসকনের লোকেরা। তারপরও বাংলাদেশের মুসলমানরা হিন্দুদের জানমাল রক্ষার্থে ঐক্যবদ্ধ ছিল। কিন্তু সেদিনও ভারতের সব রকমের উস্কানি ছিল বাংলাদেশে দাঙ্গা শুরু করার।
তবে মুসলিমরা তা হতে দেয়নি। এরপর ভারতই প্রথম বাংলাদেশে নির্বাচন করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলে। বাংলাদেশের সব ধরনের শান্তি, শৃঙ্খলার জন্য সেনাবাহিনীর ওপর দায়িত্ব বর্তালেও সেনাবাহিনীর জেনারেল ওয়াকার যত শিগগির সম্ভব আওয়ামী লীগসহ সব দলকে নির্বাচনে আনার অনুমতি দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেন। ওয়াকার চেয়েছিলেন শুরুতে নিজেই ক্ষমতা নেবেন। তার ক্ষমতায় আসার বিষয়ে ভারতের সায় ছিল। কিন্তু বাঁধ সঙ্গে ছাত্র-জনতা, তারা ড. ইউনূসকে ক্ষমতায় নিয়ে আসেন। ইউনূসকে ক্ষমতা না দেওয়ার জন্য ওয়াকার যারপরনাই বাধা দেয়। ওয়াকারকে উসকে দেয় ভারত। তখন ভারত বিষয়টাকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলেনি। বলেছে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার কথা। যাতে তারা নাক গলাতে পারে, ইউনূস সরকার ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে। কিন্তু তখন ছাত্রলীগের হয়ে ভারত থেকে আওয়ামী লীগের নেতারা উসকানি দিয়ে চলে। তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য জেনারেল ওয়াকার আওয়ামী লীগের ৬২৪ জনকে নিরাপদে ভারতে পাঠিয়ে দেয়। আর সেনাবাহিনীকে বিপ্লবী জনগণের মুখোমুখি করে। তখন বাংলাদেশের জাগ্রত জনতা সেই ফাঁদে পা দেয়নি। কিন্তু ভারত চেয়েছিল পলাতকদের আশ্রয় দিয়ে প্রতি বিপ্লবী তৎপরতা সৃষ্টি করতে। অর্থাৎ বাংলাদেশে দাঙ্গা সৃষ্টি করতে। শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশের মানুষ তা করেনি।
এরপর আওয়ামী লীগের ভারতপন্থী তৎপরতা শুরু হয় বাংলাদেশে। ঝটিকা মিছিল করে জনগণকে উসকে দিয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশে দাঙ্গা সৃষ্টি করতে চায়। কারণ তাদের অস্ত্রজোগানদাতা ছিল ভারত। যেভাবে ফয়সল দাউদ অস্ত্র দিয়ে গুলি করে শরীফ ওসমান হাদিকে। সে সময়ও আওয়ামী লীগ অনেক জুলাই বিপ্লবীকে হত্যার তৎপরতা চালায়। কিন্তু সচেতন বাংলাদেশের মানুষ তাতে সায় দেয়নি। এরপর উপায়ন্তর না দেখে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. ইউনূস ২০২৫ সালের ১২ মে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে। যদিও দল নিষিদ্ধের কথা বলেছিল অনেকে তা সরকার করেনি।
ইউনূস সরকার আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণও বন্ধ করে। কিন্তু তারপর থেকে শুরু হয় জেনারেল ওয়াকারের সুর অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের। তার সুর ভারতীয় সুরের মূর্ছনায় একাকার হয়ে যায়। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ও বিপ্লবীযোদ্ধারা তাতে সায় না দিয়ে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখে। এ কথা বোঝা যায় না, ভারত কেন অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের জন্য চাপ দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে?
বর্তমানে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। তারপরও ভারত বলতে শুরু করেছে অন্তর্ভুক্তিমূলক বা ইনক্লুসিভ নির্বাচনের কথা। অর্থাৎ আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার কথা। কিন্তু যোগী আদিত্যনাথ ও ভোজবাজির যোগ ব্যায়ামবীর মোদি হিন্দু মহাসভার কুকীর্তিবিদরা এই আপ্তবাক্য এখনো আওড়ে যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ ভারতের বাংলাদেশর অভ্যন্তরীণ বিষযে হস্তক্ষেপ।
বাংলাদেশ ভারতের কাছে বারবার দাবি জানিয়ে আসছে শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে। তার মানে হচ্ছে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে শেখহাসিনাকে ভারত তার দেশে নিয়ে যায়। এ ছিল বাংলাদেশের বিপ্লবের বিরুদ্ধে ভারতের সরাসরি হস্তক্ষেপ।
আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ভারতে দিনাতিপাত করছেন রাজার হালে, আরো গত ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশে শরীফ ওসমান হাদিকে খুনের পরিকল্পনা করে। ওসমান হাদিকে বহুবার খুনের হুমকি দেওয়া হয়। তিনি নিজে সেসব বিষয়ে প্রকাশ করেছেন। কিন্তু গুলিবিদ্ধ হওয়ার পূর্বে তাকে কোনো প্রকার প্রটেকশন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়নি। হাদি মরে সকল বিপ্লবীযোদ্ধার প্রটেকশনের ব্যবস্থা করে গেছে।
২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার গঠনের পর শ্রীলঙ্কার গার্ডিয়ান সংবাদ মাধ্যমে লেখা হয়েছিল-ভারতে বাংলাদেশের ছাত্রলীগ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে- যাতে যে কোনো সময় তারা সামরিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে এবং বাংলাদেশে প্রয়োজনে অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে। তার প্রত্যক্ষ কর্মকাণ্ড শুধু শরীফ হাদির খুনের মাধ্যমে নয়, বরং তারপর খুনিরা জুলাইযোদ্ধা মোতালেব সিকদারকে গুলি করে। তিনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। এই সব জুলাইযোদ্ধারা ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ছিল সোচ্চার। আর ভারত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে তাতে সন্দেহ নেই।
ওসমান হাদির ইস্যু পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কিছুটা নিষ্প্রভ হয়েছে। কিন্তু এখনো তার রেশ কাটেনি। দেখা গেছে সিলেটে চলছে নতুন করে উত্তেজনা। মানুষ সে উত্তেজনাকে দেশে দাঙ্গা সৃষ্টিতে ব্যবহার করেনি। সংগ্রামী হাদিকে নিয়ে বাংলাদেশে রচিত হচ্ছে সংগ্রামী গান। পাকিস্তানি শিল্পীরা হাদিকে নিয়ে রচনা করেছে কোরাস। হাদির ভারতবিরোধী চেতনা দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে যে অনুরণন তুলেছে তা নির্বাপিত হবে না। এই চেতনাকে বহু বছর শান্তিকামী জনগণ ধারণ করবে। হাদি বলেছিলেন তার মৃত্যুর পর আরো ৯৯ জন হাদি থাকবে। তবে তিনি মিথ্যা (!) বলেছিলেন। আসলে ৯৯ লাখ হাদির জন্ম নেবে যারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করবে। শুধু তাই নয়। বর্তমানে ভারতে চলছে মুসলিম নিধন, কারা নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে তা বলা মুশকিল নয়। উত্তর প্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের তাণ্ডব চলছে। সেখানে সম্প্রতি নিহত হয়েছে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দানেশ রাও। অথচ কে খুন করেছে তার নামটি পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। বাংলাদেশের মুসলিমরা তা নিয়ে কথা বলেনি। তবে একদিন বলবে। আর সেদিন দাঙ্গা কি বাংলাদেশে সীমিত থাকবে?
বাংলাদেশে বিএনপির নেতা সালাউদ্দীন, মির্জা ফখরুল-তারা ভারত প্রবাসী তসলিমা নাসরিনের পথ অনুসরণ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘরবসতি করতে চায়। যেমন তসলিমা নাসরিন এসবের জন্য বলেছিলেন (!) তারা পোকা মাকড়ের সঙ্গে ঘরবসতি করতে চায়। ভারতের কমজাতরা সম্প্রতি মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে খেলতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই কমজাতরা আরো কত কি দেখাবে তা জানা নেই। তবে একদিন বাংলাদেশের মানুষ রোষে কেটে পড়লে সে রোষ বাংলাদেশে থাকবে না। বঙ্গোপসাগরে আনবিক বোমার পরীক্ষাও তা ঠেকাতে পারবে না।