০৯ জানুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার, ০১:৪৮:৫৩ পূর্বাহ্ন


২০২৬ সালে অভিবাসন নীতিতে পাঁচটি বড় পরিবর্তন
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-০১-২০২৬
২০২৬ সালে অভিবাসন নীতিতে পাঁচটি বড় পরিবর্তন ইউএসসিআইএস


২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় একাধিক বড় ধরনের পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে, যা ভ্রমণ, ভিসা প্রাপ্তি এবং নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়াকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করবে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিকে আরো কঠোর, নিরাপত্তাকেন্দ্রিক এবং অর্থনৈতিকভাবে নির্বাচনী করার দিকে অগ্রসর হয়েছে। এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য হিসেবে প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, শ্রমবাজার সুরক্ষা এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় কঠোর যাচাই নিশ্চিত করার কথা বলছে।

এইচ -১বি ভিসা ব্যবস্থায় বড় সংস্কার, বেতন ও দক্ষতার ওপর জোর

ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব প্রকাশ করে। এই ভিসা কর্মসূচিটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত, যার মাধ্যমে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা সায়েন্টিস্টসহ উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেয় মার্কিন কোম্পানিগুলো। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানায়, নতুন প্রস্তাবের আওতায় নিয়োগদাতাদের বেশি বেতন প্রস্তাব দিতে উৎসাহিত করা হবে এবং শুধু উন্নত দক্ষতা প্রয়োজন এমন পদেই এইচ-১বি আবেদন সীমিত করা হবে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি ঘোষণাপত্রে এইচ-১বি ভিসা আবেদনের জন্য অতিরিক্ত ১ লাখ ডলার ফি নির্ধারণ করেন। ইউএসসিআইএসের মুখপাত্র ম্যাথিউ ট্র‍্যাগেসার বলেন, আগের লটারিভিত্তিক পদ্ধতি অনেক ক্ষেত্রে অপব্যবহার করা হয়েছিল, যেখানে কিছু নিয়োগকর্তা কম বেতনে বিদেশি কর্মী আনার চেষ্টা করতেন। নতুন নিয়ম ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে বলে ডিএইচএস জানিয়েছে।

অনাগরিকদের জন্য বিস্তৃত ফেসিয়াল রিকগনিশন ব্যবস্থা 

২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর ডিএইচএসএকটি নতুন নিয়ম জারি করে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী সব অনাগরিকের জন্য ফেসিয়াল রিকগনিশন বা মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, বিমানবন্দর, স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দরসহ অনুমোদিত সব প্রবেশ ও প্রস্থান পয়েন্টে ফেসিয়াল বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই নিয়মটি গ্রিনকার্ডধারীসহ যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসকারী সব অ-মার্কিন নাগরিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। যদিও মার্কিন নাগরিকদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক নয়, তবে তারা স্বেচ্ছায় এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন বলে ডিএইচএস জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে বিদেশি পর্যটকদের সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই

জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি পর্যটকদের সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। ডিসেম্বর মাসে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক নোটিশে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি ) জানায়, ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের আওতায় ভ্রমণকারীদের ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথরাইজেশন আবেদনের সময় গত পাঁচ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে। এই সিদ্ধান্তটি জানুয়ারি ২০২৫ সালে জারি হওয়া নির্বাহী আদেশ ১৪১৬১-এর আলোকে নেওয়া হয়েছে, যার উদ্দেশ্য বিদেশি সন্ত্রাসী ও জননিরাপত্তা-সংক্রান্ত হুমকি প্রতিরোধ। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে গোপনীয়তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ট্রাম্প গোল্ড কার্ড-১ মিলিয়ন ডলারে স্থায়ী বসবাস ও নাগরিকত্বের পথ 

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন বহুল আলোচিত ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’ কর্মসূচির। এ উদ্যোগের আওতায় ১ মিলিয়ন বিনিয়োগের বিনিময়ে বিদেশি নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ এবং ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব পাবেন। সোনালি রঙের এই কার্ডে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিকৃতি, স্ট্যাচু অব লিবার্টি ও মার্কিন পতাকা সংযুক্ত রয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, এই কর্মসূচি দ্রুত শত শত বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আনতে পারে, যা কর হ্রাস, উন্নয়ন প্রকল্প এবং জাতীয় ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হবে। আবেদন প্রক্রিয়া চলবে trumpcard.gov ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এবং আবেদনকারীদের কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

নতুন নাগরিকত্ব পরীক্ষায় বাড়লো প্রশ্নের সংখ্যা

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পরীক্ষার নতুন সংস্করণ কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থীদের ১২৮টি প্রশ্নের তালিকা থেকে মৌখিকভাবে ২০টি প্রশ্ন করা হবে, যার মধ্যে অন্তত ১২টির সঠিক উত্তর দিতে হবে।নতুন পরীক্ষায় ভৌগোলিক প্রশ্ন বাদ দেওয়া হয়েছে এবং প্রার্থীদের সরকার ব্যবস্থার তিনটি শাখার নাম বলতে হবে। ইউএসসিআইএস বলছে, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো নিশ্চিত করা যে নতুন নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, সরকার ব্যবস্থা ও মূল্যবোধ সম্পর্কে গভীর ধারণা রাখেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিকে আরো কঠোর ও নির্বাচনী করে তুলেছে। সমর্থকদের মতে, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও শ্রমবাজার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তবে সমালোচকরা বলছেন, এসব নীতি অভিবাসীদের জন্য নতুন বাধা তৈরি করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বহুত্ববাদী ঐতিহ্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

শেয়ার করুন