ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট যদি আমদানির ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত তার বৈশ্বিক শুল্কগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করে, তবে দেশটি বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে এমন সতর্কতা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১২ জানুয়ারি ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেন-‘জাতীয় নিরাপত্তার এই বড় সুযোগে সুপ্রিম কোর্ট যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে রায় দেয়, তবে আমরা সর্বনাশে পড়ব!’ তার দাবি, এমন রায় হলে সরকারকে এখন পর্যন্ত শুল্ক থেকে আদায় হওয়া ‘শত শত বিলিয়ন ডলার’ ফেরত দিতে হতে পারে এবং বেসরকারি বিনিয়োগে ক্ষতি হতে পারে ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত।
ট্রাম্প তার বেশিরভাগ শুল্কারোপের আইনি ভিত্তি হিসেবে ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট-এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতিকে জাতীয় জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে গত নভেম্বরে মৌখিক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতি জরুরি ক্ষমতার এমন ব্যবহারে সন্দেহ প্রকাশ করেন। ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে আমদানির ওপর ট্রাম্পের শুল্কের ফলে ফেডারেল সরকার প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করে। আমদানির সময় এসব শুল্ক পরিশোধ করে কোম্পানিগুলো। তবে ট্রাম্পের মতে, সম্ভাব্য ফেরত শুধু শুল্ক রাজস্বেই সীমাবদ্ধ নয়; উচ্চ শুল্ক এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা ও যন্ত্রপাতিতে যে বিনিয়োগ হচ্ছে, সেটিও ঝুঁকিতে পড়বে।
তিনি লিখেন-‘এই বিনিয়োগগুলো যোগ করলে অঙ্কটা ট্রিলিয়নে পৌঁছে যায়। এটা হবে সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলা, আর আমাদের দেশের পক্ষে তা পরিশোধ করা প্রায় অসম্ভব।’ ট্রাম্প আরো দাবি করেন, এ ধরনের অর্থ দ্রুত ও সহজে পরিশোধ করা সম্ভব-এমন কথা বলা ভুল ও বিভ্রান্তিকর। শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে যে বিপুল বেসরকারি বিনিয়োগের দাবি ট্রাম্প করছেন, তার একটি অংশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ট্রিলিয়ন ডলার হিসাব কীভাবে করা হয়েছে, তা-ও তিনি ব্যাখ্যা করেননি। ট্রাম্পের জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে শুল্কারোপ অবৈধ ঘোষণা করা হলে তা তার অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক এজেন্ডার কেন্দ্রীয় অংশে বড় ধাক্কা দেবে এবং বাণিজ্য আলোচনায় তার প্রিয় হাতিয়ার দুর্বল করবে বলে বিশ্লেষকদের মত। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
সুপ্রিম কোর্ট আগামী ১৪ জানুয়ারি পরবর্তী রায়গুলো ঘোষণা করতে পারে, তবে শুল্ক সংক্রান্ত মামলার রায় ওই দিনই আসবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। আদালত আগাম জানায় না কোন মামলার রায় কবে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত আগস্টে একটি ফেডারেল আপিল আদালত ব্যবসায়ীদের করা মামলায় ট্রাম্পের অধিকাংশ শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছিল।
এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আদালত বিপক্ষে রায় দিলে তার কাছে একটি গেম ২ পরিকল্পনা প্রস্তুত আছে, যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, জরুরি ক্ষমতার তুলনায় বিকল্প পথগুলো ধীরগতির।