চঞ্চল চৌধুরী
সময়টা যেন চঞ্চল চৌধুরীর জন্য থেমে নেই। একের পর এক সিনেমার কাজ, ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র, আবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সিনেমার প্রতিনিধিত্ব সব মিলিয়ে তিনি এখন ব্যস্ততার শীর্ষে। এর মধ্যেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিত নতুন সিনেমা ‘শাস্তি’-তে যুক্ত হওয়া তার অভিনয়জীবনে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। কাজ, ইন্ডাস্ট্রি ও দর্শক সবকিছু নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত পাঠকপ্রিয় দেশ পত্রিকার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলমগীর কবির
প্রশ্ন: এই সময়টাকে কীভাবে দেখছেন?
চঞ্চল চৌধুরী: সত্যি বলতে সময়টা খুব ব্যস্ত, কিন্তু আনন্দেরও। সম্প্রতি রেদওয়ান রনির ‘দম’ এর শুটিং শেষ করেছি। তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর কাজ শুরু হয়েছে, রায়হান রাফীর ‘আন্ধার’ শেষের পথে। এর মধ্যেই নতুনভাবে যুক্ত হলাম ‘শাস্তি’ সিনেমায়। প্রতিটি কাজই আলাদা রকম, আলাদা চ্যালেঞ্জের এই বৈচিত্র্যটাই আমাকে কাজের প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলে।
প্রশ্ন: রবীন্দ্রনাথের গল্পে কাজ কতটা আলাদা অনুভূতি?
চঞ্চল চৌধুরী: এটা আমার কাছে ভীষণ বিশেষ একটি অভিজ্ঞতা। এর আগে কখনও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পে কাজ করার সুযোগ হয়নি। তাঁর গল্প মানেই গভীর মানবিক টানাপোড়েন, সমাজ ও মানুষের মনস্তত্ত্বের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ। তাই এখানে অভিনয় শুধু অভিনয় নয়, এক ধরনের দায়িত্বও। আমি চাই দর্শক যেন গল্পের আত্মাটাকে অনুভব করতে পারে।
প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সিনেমার অবস্থান কীভাবে দেখছেন?
চঞ্চল চৌধুরী: গত দুই–তিন দশকে আমাদের সিনেমা অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছে। এখন আমরা শুধু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আন্তর্জাতিক উৎসবগুলোতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছি, স্বীকৃতিও পাচ্ছি। রটারড্যাম চলচ্চিত্র উৎসবে একসঙ্গে তিনটি বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নিঃসন্দেহে গর্বের। এটা কোনো একক মানুষের অর্জন নয়-পুরো ইন্ডাস্ট্রির সম্মিলিত সাফল্য।
প্রশ্ন: তবু ইন্ডাস্ট্রির কাঠামো নিয়ে আপনার আক্ষেপ আছে কেন?
চঞ্চল চৌধুরী: কারণ আমরা এখনও একটি পূর্ণাঙ্গ প্রফেশনাল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে পারিনি। সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে আরও দায়িত্বশীল হতো, তাহলে অনেক আগেই পরিবর্তন আসত। অভিনয় শুরু করার সময় আমরা ভেবেছিলাম পরিস্থিতি বদলাবে, কিন্তু কাঠামোগত সমস্যাগুলো রয়ে গেছে। এটিই সবচেয়ে কষ্টের জায়গা।
প্রশ্ন: ঈদকেন্দ্রিক সিনেমা মুক্তিকে কীভাবে দেখেন?
চঞ্চল চৌধুরী: এটা আমাদের বাস্তবতা। প্রযোজক থেকে শিল্পী কেউই বছরে একটি সিনেমা করে জীবন চালাতে পারবে না। তাই বছরে দুই-তিনটি সিনেমায় কাজ করতে হয়, যেগুলোর মুক্তি সাধারণত ঈদকে কেন্দ্র করেই হয়। এটা অভিযোগ নয়, বাস্তবতা। আগে পরিবার ও জীবিকা নিশ্চিত করতে হবে, তারপর নতুন ভাবনার জায়গা তৈরি হবে।
প্রশ্ন: এক ঈদে একাধিক সিনেমা মুক্তি পাওয়া নিয়ে সমালোচনা হয় এটা কতটা যুক্তিযুক্ত?
চঞ্চল চৌধুরী: আমি মনে করি, যদি সিনেমাগুলো ভালো হয়, দর্শক সবই দেখবে। ঈদে যদি ভালো আটটি সিনেমা মুক্তি পায়, দর্শক আটটিই গ্রহণ করবে। আমাদের দেশের মানুষ সিনেমাপ্রেমী। দর্শক কখনো ভালো কাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় না। খারাপ কাজ করে দর্শক না এলে অভিযোগ করাটা বরং অন্যায়।
প্রশ্ন: দর্শকের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
চঞ্চল চৌধুরী: দর্শকই আসল বিচারক। আমার আগের কাজগুলো ‘মনপুরা’, ‘রূপকথার গল্প’ কিংবা সাম্প্রতিক সিনেমাগুলো- দর্শক গ্রহণ করেছে কারণ সেখানে গল্প ও নির্মাণের আন্তরিকতা ছিল। দর্শক সবসময় ভালো কনটেন্টের পাশে থাকে। আমরা যদি দায়িত্বশীল হই, দর্শক কখনো বিমুখ হবে না।
প্রশ্ন: শাকিব খানের সঙ্গে ‘তুফান’ এর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
চঞ্চল চৌধুরী: খুব ইতিবাচক। শাকিব খানের আলাদা দর্শক আছে, আমাদেরও আলাদা দর্শক রয়েছে। একসঙ্গে কাজ করলে সব ধরনের দর্শকের কাছে পৌঁছানো যায়। ‘তুফান’ প্রমাণ করেছে, সমন্বয় থাকলে সিনেমা ও ইন্ডাস্ট্রি দুটোই লাভবান হয়।