৩০ জানুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার, ১১:১৩:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চিয়তা ‘উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিনঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই রয়েছে’ এনসিপির ৩৬ দফার ইশতেহার, কী আছে তাতে? ১২ ফেব্রুয়ারী ধানের শীষের পাশাপাশি হ্যা ভোট দেয়ারও আহ্বান তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের জয়, নাইকোকে ৫১৬ কোটি টাকা জরিমানা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ- ইসি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে- জাহাঙ্গীর তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশের আহ্বান নিরাপদ কর্মপরিবেশের দায়িত্ব নিয়োগকর্তারই `খুব ঠান্ডা শীত এলে এখনো পিঠে ব্যথা হয়, কারাগারে নির্যাতনের ফল'


রাজনীতির মাঠেও জাইমা রহমান!
মাসউদুর রহমান
  • আপডেট করা হয়েছে : ২১-০১-২০২৬
রাজনীতির মাঠেও জাইমা রহমান! সবার সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন জাইমা রহমান


২০০১ সনের পহেলা অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একটি মুহূর্তে-এখনো ভেসে ওঠে দাদুমণি খালেদা জিয়ার সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে আনমনে থাকা ছোট্ট জাইমার কথা! দাদু ভোট দিতে এসেছেন, সঙ্গে জাইমা। দাদু জাইমার হাত স্পর্শ করিয়ে ভোট বক্সে ফেলছেন ব্যালট। জাইমা ততকিছু বোঝেননি। তাকিয়ে ছিলেন ক্যামেরার ফ্লাশের দিকে, বক্সে ফেলা গণতন্ত্রের প্রতীক ভোট ব্যালটের দিকে। সাংবাদিক ও পোলিং অফিসারসহ ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের উৎসুক চাহনির দিকে। ছোট্ট সেই জাইমা এখন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। যেখানে বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে বড় হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটা পারেননি। বাবা তারেক রহমানের সঙ্গে ওয়ান-ইলেভেনকালীন সময় নির্বাসন জীবন বেছে নিতে হয়েছে। শৈশব, কৈশোরের বড় অংশটা পার করতে হয়েছে সুদূর লন্ডনে।

প্রায় ১৭ বছর লন্ডনের আবহাওয়ায় বড় হওয়া জাইমা কেমন-এ আগ্রহ বাংলাদেশের অনেকেরই। ২৬ অক্টোবর ১৯৯৫ সনে জন্ম নেওয়া জাইমা রহমান গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে বাবা তারেক রহমান, মা জোবাইদা রহমানের সঙ্গে দেশে ফিরেছেন। বাবা-মার পাশাপাশি কয়েকবার দেখাও গেছে তাকে। ঠিক বড় কোনো ভূমিকাতে নয়। বাবা দেশে ফিরেছেন এক ক্রান্তিলগ্নে। একে তো নেতৃত্বশূন্য বাংলাদেশ, অন্যদিকে গুরুতর অসুস্থ দাদু খালেদা জিয়ার শিয়রে এসে দাঁড়াতে। এরপর পরম শ্রদ্ধেয়া দাদু খালেদা জিয়া তো বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলেই গেলেন! 

সর্বশেষ লন্ডনে চিকিৎসা করিয়ে যখন দেশে ফিরছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তখন হিথ্রো বিমানবন্দরের কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে জাইমাকে কিছুটা দায়িত্বশীল ভূমিকায় দেখা গেছে। তারও আগে বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে ট্রাম্পের এক অনুষ্ঠানেও তিনি গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। তখন থেকেই জাইমা যে সেই ছোট্ট খুকী আর নেই, এখন যে সে পরিণত, লেখাপড়া শেষ করে একজন ব্যারিস্টার, সেটা পুরাপুরি জেনেছে বাংলাদেশের মানুষ। 

দেশে ফিরে বাবার পাশে ছায়ার মতো লেগে থাকা, পরামর্শ দান এগুলো নিয়মিত করেছেন। তাছাড়া লন্ডনে বসে বাবা তারেক রহমানও তো একটা টিভি স্কিন, একটা চেয়ার টেবিলের ওপর ভর করে ভার্চুয়ালি চষে বেড়াতেন গোটা বাংলাদেশের আনাচ-কানাচে থাকা ছাত্রদল, যুবদল থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরের বিএনপির নেতাকর্মীর বাড়িঘরে। কার সাহায্য প্রয়োজন, কার বিপদ-আপদ সে সঠিক নেতৃত্ব দেবেন, কে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন, ভারতের পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী শাসকদের যাঁতাকলে পড়ে, সেগুলো তো তিনিই হ্যান্ডেল করেছেন ওই দেড়যুগ ধরে। জাইমা পাশ থেকে এসব দেখে দেখে নিজের লেখাপড়ার সঙ্গে বাংলাদেশের চিত্রটাও আত্মস্থ করেছেন। জেনেছেন বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকা জনগণের কথা। নারীদের কথা। মা জোবাইদা রহমান অত্যন্ত বুদ্ধিমতী ও মেধাবী চিকিৎসক। তিনিও তো কম যান না। চাচা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানী, বাবা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের আদর্শে বলীয়ান জোবাইদা মেয়ে জাইমাকে বাংলাদেশের সব জনপদের হিসাবনিকাশগুলো বুঝিয়েই বড় করেছেন। বাবা তারেক রহমানের ক্যালকুলেটিভ কর্মযজ্ঞ জাইমাকে বিস্তারিত বুঝিয়ে কোনোরকম পিছিয়ে রাখেননি ওই সফল নারী। 

তিনি দেখেন তার দাদু খালেদা জিয়া সত্য ন্যায়ের সংগ্রাম করতে গিয়ে কীভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবু দেশের মানুষ থেকে তাকে দূরে সরাতে পারেনি কেউ। তাই আপসহীন খেতাবে ভূষিত। তার সেই ন্যায়নীতি জাইমাকেও যে আকৃষ্ট করেছে সেটার প্রমাণ দিলেন তিনি ইতিমধ্যে। 

রাজনীতিতে কী আসছেন জাইমা? 

এমন প্রশ্ন এখন অবান্তর। দাদা মহান স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের ফ্রন্টলাইনার সেক্টর কমান্ডার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শেষ রক্তবিন্দু ছিল এ দেশের মানুষের মুক্তির জন্য। ১৯৮১ সনে কতিপয় বিপথগামী সেনাসদস্য কর্তৃক শহীদ হন তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে। এরপর দাদি খালেদা জিয়ার দীর্ঘ এক লড়াইকাল। এর মধ্যে তিনি সুদূর লন্ডনে বসে দেখেছেন, তার দাদা-দাদু, বাবা ও তার নিজের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মাইনুল রোডের বাড়ি থেকে দাদিকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়া। চাচা আরাফাত রহমান কোকোকে অনেকটাই চিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। দাদির দীর্ঘ মানুষের থাকার অনুপযোগী পুরোনো ভবনে কারাভোগ, পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়া, বারবার অসুস্থ হয়ে যাওয়া, প্রতিনিয়ত দাদির মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই। দেশ ও মানুষের জন্য আজন্ম সংগ্রাম। জাইমা তো তবু অনেক কিছু শিখেছেন, জেনেছেন। কিন্তু দাদি খালেদা জিয়াকে তো স্রেফ গৃহবধূ থেকে দেশের মানুষের স্বার্থে, স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তের জন্য বেরিয়ে আসতে হয়েছিল দলের (বিএনপির) হাল ধরার মাধ্যমে। বাবা তারেক রহমানকে নির্ঘাত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে চরম অসুস্থ ও ট্রেচারে করে লন্ডনে নির্বাসনে যাওয়া ও সেখানে থেকে ১৭ বছরের লড়াই-এগুলো জাইমাকে আকর্ষণ করবে, দ্বগ্ধ করবে এটাই স্বাভাবিক। সামনেই দাদা-দাদুর হাতে গড়া দল বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ এক সময়। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। ৩০ পার হওয়া জাইমা দেশ ও জনগণ ও বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্তে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণী ও প্রচারণায়ও নামছেন এটাই স্বাভাবিক। 

এর আগে জাইমার সহাস্য ঘোষণা নারী অধিকারের আন্দোলনে তিনিও শামিল হয়েছেন সেই দৃঢ়তা জানানোর মাধ্যমে, যা প্রমাণিত তার বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম বক্তব্যে। আর সেটা হলো দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী যে নারীসমাজ, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নারীকে পেছনে রেখে পূর্ণতা পাবে না যে, কিছুই-সে কণ্ঠস্বর উচ্চ করেই জানান দিলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তার আলোচিত ওই বক্তব্যে যে সারমর্ম ফুটে ওঠে তাহলো-নারী ক্ষমতায়িত হলে জাতির ভবিষ্যৎ বদলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি অত্যন্ত নমনীয়তার সঙ্গে বক্তব্য শুরু করা দেখে বিস্মিত বাংলাদেশের নারীসমাজ। বাংলাদেশের মানুষ, পৃথিবীর সবচেয়ে ফাস্ট শহরে লেখাপড়া করা এক মেয়ে ১৭ বছরেও বাংলাদেশের সাধারণ একজন মেয়ের মতোই কোমল, স্নিগ্ধতা ছড়িয়েছে তার কণ্ঠে, তার বাচনভঙ্গিতে, চলাফেরায়। 

তিনি সূচনায় বললেন, এটা আমার প্রথম বক্তব্য। আমি এখানে শিখতে এসেছি। আমি যা বলবো, তা অনেকগুলো আপনারও বলেছেন। দাদু খালেদা জিয়ার আজন্ম গণতন্ত্রের জন্য যে লড়াইয়ে জাইমাও আকৃষ্ট হয়েছেন, তারও প্রমাণ দিলেন। বললেন, এখানে ভিন্নমতের অনেকেই রয়েছেন। কিন্তু একস্থানে বসে একে অপরের কথা শোনা এটাও একটা গণতন্ত্রের সুন্দর উদাহরণ। 

বাংলাদেশে জাইমার প্রথম বক্তব্যে যা শোনা গেল- 

তিনি বলেছেন, ‘যখন নারীদের দূরে না ঠেলে স্বাগত জানানো হয়, তখন তারা কেবল নিজেদের জীবনই বদলায় না, তারা তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং জাতির ভবিষ্যৎও বদলে দেয়। বাংলাদেশ যদি সত্যিকারের টেকসই উন্নয়ন চায়, তাহলে ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ কেবল শিক্ষা, অফিস বা নীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, আমাদের ঘর, প্রতিষ্ঠান এবং মানসিকতাতেও পৌঁছাতে হবে আর এ দায়িত্ব আমাদের সবার।’ জাইমার এমন বক্তব্যে তিনি যে নারী অধিকার রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেলেন।

গত ১৮ জানুয়ারি রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ‘জাতি গঠনে নারী : নীতি, সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শীর্ষক’ পলিসি ডায়ালগে বক্তব্য রাখছিলেন ব্যারিস্টার জাইমা।

তিনি বলেন, আমি আজ এখানে দাঁড়িয়েছি ভিন্ন এক অনুভূতি ও আবেগ নিয়ে। বাংলাদেশের এই পলিসি লেভেলে আমার প্রথম বক্তব্য এটা। আমি এমন কেউ নই, যার কাছে সব প্রশ্নের উত্তর আছে বা সব সমস্যার সমাধান জানা আছে। তবু আমি বিশ্বাস করি, নিজের ছোট্ট জায়গা থেকে ও সমাজের জন্য, দেশের জন্য, কিছু করার আন্তরিকতা আমাদের সবার মধ্যে থাকা উচিত। আজ আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে।’

দাদা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে স্মৃতিচারণ 

জাইমা রহমান বলেন, নারীর মর্যাদা ব্যক্তিগত ও জনপরিসর উভয় ক্ষেত্রেই স্বীকৃত হওয়া উচিত; এই বিশ্বাস আমাদের পরিবারের বাইরেও আমার দাদা-দাদির জীবন ও নেতৃত্বে প্রতিফলিত হয়েছিল। আমার দাদা, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জানতেন যে, নারীদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন কখনোই পূর্ণ হতে পারে না। তিনি নারীদের ঘরে, কর্মক্ষেত্রে ও জনপরিসরে সক্ষম অবদানকারী হিসেবে দেখতেন। এই বিশ্বাসই একজন নেতা হিসেবে নেওয়া তার সিদ্ধান্তগুলোকে প্রভাবিত করেছিল। তার নেতৃত্বে পোশাক খাতের সম্প্রসারণের ফলে লাখ লাখ নারী প্রথমবারের মতো প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে প্রবেশের সুযোগ পান, অর্জন করেন স্বাধীনতা ও আয়ের ক্ষমতা।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাতনি বলেন, নারী ও কন্যাশিশুদের জীবনমান উন্নয়নে সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য ও কাঠামো প্রয়োজন এই দৃঢ় বিশ্বাস থেকে একই সময়ে মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এগুলো কেবল নীতিগত সিদ্ধান্তই ছিল না, বরং তার ব্যক্তিগত মূল্যবোধেরই বহিঃপ্রকাশ।

দাদি খালেদা জিয়াকে নিয়ে মন্তব্য 

জিয়াউর রহমানের মূল্যবোধকে খালেদা জিয়া এগিয়ে নিয়ে যান মন্তব্য করে তাদের দৌহিত্রী জাইমা বলেন, ‘আমার দাদি বেগম খালেদা জিয়া, যিনি শিক্ষার মাধ্যম নারীর ক্ষমতায়ন এবং আত্মবিশ্বাস অর্জনের গুরুত্ব বুঝেছিলেন। তার নেতৃত্বে কন্যাশিক্ষাকে সুযোগ নয়, অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। বিনামূল্যের মাধ্যমিক শিক্ষা, পাশাপাশি খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা ও নগদ অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি এসব উদ্যোগ দেশের লাখো মেয়েকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং অসংখ্য পরিবারের জীবনধারা বদলে দেয়। তার প্রণীত মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছাত্রী সহায়তা প্রকল্প মাধ্যমিক শিক্ষায় প্রথমবারের মতো লিঙ্গসমতা আনে এবং বাংলাদেশ ছাড়িয়ে অন্যান্য দেশেও অনুকরণযোগ্য মডেল হয়ে ওঠে।’

যে গল্প শেয়ার করলেন জাইমা 

৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর গত বছরের শুরুতে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়া হয়েছিল। তখনকার এক ঘটনা তুলে ধরে জাইমা রহমান বলেন, ‘দাদি যখন আমাদের সঙ্গে লন্ডনে ছিলেন গত বছরের প্রথমের দিকে, তিনি যখন এসেছিলেন তখন হাসপাতালে ছিলেন কিছু চিকিৎসার জন্য। ওখানে বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন দেশ থেকে নার্স ছিলেন, ডাক্তার ছিলেন এবং এক নার্স ছিলেন নাইজেরিয়া থেকে, নাইজেরিয়া ওয়েস্ট আফ্রিকাতে।

‘আম্মা-আব্বা একদিন দাদুকে সকাল সকাল দেখতে গিয়েছিল, তো নার্স বলেছেন যে, ওহ আমি তো আপনার মাকে চিনেছি। আম্মু-আব্বু বললো কীভাবে? আপনার মা-ই প্রথম ইলেকটেড প্রাইম মিনিস্টার বাংলাদেশের না?’ আম্মু-আব্বু তো অবাক; হ্যাঁ আপনি কীভাবে জানেন? তো নার্স তারপর বললেন, আপনাদের তিনি যে এতো কিছু করেছেন মেয়েদের শিক্ষার জন্য স্পেশালি প্রাইমারি এডুকেশন, ফুড ফর এডুকেশন, ক্যাশ ফর এডুকেশন- এগুলো আমাদের সরকার ওই ৩৫-৩০ বছর আগে দেখে ইমপ্লিমেন্ট করেছিল। আর ওই কারণে লাখ লাখ মেয়ে ওদের দেশের গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় এখনো শিক্ষা পাচ্ছে অন্তত প্রাইমারি এডুকেশন লেভেলে।’

অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে নারীনিরাপত্তার বিষয়ে জাইমা রহমান বলেন, এমনি তো নিরাপত্তা, অনলাইনে তো সেফটি, সিকিউরিটি হয়তোবা নেই। যেটা হয়তোবা সামনাসামনি মানুষের বিকজ অব মানুষের আচরণ-বিচরণ, কালচার তারা হয়তোবা কিছুটা হবে। প্রথম যদি আমরা শুরু করি আন্ডার ২৫ উইম্যান দে ফেস মোস্টলি অনলাইন অ্যান্ড অফলাইন।

‘ইন টার্মস অব প্রোটেকশন-ডিজিটাল লিটারেসি স্কিলস ইনটার্মস অব সফট ডিফেন্সেস এজ ওয়েল শেখানো উচিত। বিকজ অব দেওয়ার ইজ অ্যা অ্যাসপেক্ট অব কনফিডেন্স, যদি আমরা কনফিডেন্ট ফিল করি, আমরা বুঝি যে ওকে হাউ আর অলসো সেফ অনলাইন অ্যান্ড অফ লাইনে। তাহলে ওটা তো মাইন্ডসেটের একটা বিষয় এসে পড়ে.. এটা এক নম্বর। দুই নম্বর বিষয় হচ্ছে যে, ইন টার্মস অব লিগ্যাল প্রোটেকশন আমরা আবার বলবো, বিভিন্ন ধরনের আইন করা হয় কিন্তু এগুলো বাস্তবায়ন হয় না-এটা আমরা কোর্ট সিস্টেমেও দেখতে পারছি।

তিনি বলেন, কোর্ট সিস্টেমে অনেক অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বিষয়ের কারণে হচ্ছে না; বহু বছর রয়ে যাচ্ছে, কোনো কিছু হচ্ছে না। আমাদের চিন্তা করতে হবে-প্রথমে কীভাবে থামানো যাবে। আমরা বললাম, হয়তোবা কমিউনিটি ট্যাক্স যদি করা হয়, রিপোর্টিং সিস্টেম যদি করা হয়-বেটার স্ট্রিট লাইটিং ঢাকা শহর ছাড়াও অনেক রাস্তায় ঠিক মতো লাইটিং থাকে না রাত্রে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নারীর ক্ষমতায়নে বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যায় এখন ৫১ শতাংশ নারী এবং ৪৯ শতাংশ পুরষ। সেদিক থেকে আমি এখানে মাইনরিটি। আমাদের নারীদের সামনে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব ফ্যামিলি কার্ড চালু করার কথা বলেছেন।

উপস্থাপক কাজী জেসিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) চেয়ারম্যান, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী হক চৌধুরী, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ব্র্যাক ইন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদসহ বিভিন্ন পেশার নারীরা।

সবশেষ 

বাংলাদেশের নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় যখন দেশে ফিরলেন তারেক রহমান তখন সব ফোকাস তাকে ঘিরেই। আজও সেই ফোকাস! চমক যে তখনো বাকি এটা কেউ অনুমান করেনি। সবাই ভেবেছিলেন, যেকোনো মুহূর্তে বা ধীরে ধীরে সামনে আসবেন জোবাইদা রহমান। হয়তো আসবেনও। কিন্তু এ মুহূর্তে তিনি তারেক রহমান ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ফ্যামিলির গার্ডিয়ান হিসেবে পেছনেই দাঁড়িয়ে আছেন পরম মমতা ও দেশের মানুষের কাছে এক শ্রদ্ধেয়া নারী হিসেবে। 

তার স্থানে সবাইকে চমকে দিয়ে উঠে এলেন কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তারুণ্যের এ উত্থানের বাংলাদেশে জিয়া পরিবারের সঠিক সিদ্ধান্তেই সম্ভবত জাইমা এলেন ফ্রন্টলাইনে। শুরু করলেন বাংলাদেশের অবহেলিত ও পিছিয়ে থাকা নারী সমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই খুবই সতর্কতার সঙ্গে। 

বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তে ছড়িয়ে যাওয়া জাইমার মনমুগ্ধকার বক্তব্য দলমত নির্বিশেষে সবাইকেই শুনতে দেখা যায়। রীতিমতো আলোড়ন। জিয়া পরিবারের সদস্য হিসেবে তারেকের পর কে? ওই উত্তর মেলাতে হলেও জাইমা কতটা পারফেক্ট ইতিমধ্যে এ হিসাবও শুরু। বিএনপিতে এ নিয়ে উচ্ছ্বাস। বিএনপি বিদ্বেষীরা আবার বিস্মিত! অনেকে বলেই ফেলেছেন, পরিবারতন্ত্রের মধ্যেই কী থাকছে বিএনপি? এর উত্তর অনেক দূরের কথা। তবে তারেক রহমানের পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরের জাইমাও যে দেশের মানুষের জন্য লড়াইয়ের জন্য তৈরি হয়েছেন দাদি খালেদা জিয়ার আদর্শে, তার কিছুটা হলেও ইঙ্গিত তিনি ইতিমধ্যে দিয়ে ফেলেছেন তার নিখুঁত বাংলা ও ইংরেজিতে দেওয়া শব্দচয়নের বক্তব্যে। মানুষ বিমুগ্ধতার সঙ্গেই দেখলেন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নেতৃত্বর গুণাবলিতে বড় হতে যাওয়া সম্ভব্য এক নেত্রীকে। যার নাম ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

শেয়ার করুন