৩১ জানুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ৬:৪০:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চিয়তা ‘উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিনঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই রয়েছে’ এনসিপির ৩৬ দফার ইশতেহার, কী আছে তাতে? ১২ ফেব্রুয়ারী ধানের শীষের পাশাপাশি হ্যা ভোট দেয়ারও আহ্বান তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের জয়, নাইকোকে ৫১৬ কোটি টাকা জরিমানা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ- ইসি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে- জাহাঙ্গীর তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশের আহ্বান নিরাপদ কর্মপরিবেশের দায়িত্ব নিয়োগকর্তারই `খুব ঠান্ডা শীত এলে এখনো পিঠে ব্যথা হয়, কারাগারে নির্যাতনের ফল'


‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ : ১০ হাজারের বেশি অভিবাসী গ্রেফতার
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২১-০১-২০২৬
‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ : ১০ হাজারের বেশি অভিবাসী গ্রেফতার মিনিয়াপোলিসে নথিহীন অভিবাসীদের গ্রেফতার করতে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালাচ্ছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট


যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় ফেডারেল সরকারের অভিবাসন অভিযান ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ শুরুর পর থেকে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) গত ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এ পর্যন্ত মিনেসোটায় তিন হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা বা কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ডিএইচএসের সহকারী সচিব ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে, আতশবাজি নিক্ষেপ করেছে, সরকারি গাড়ির টায়ার কেটেছে এবং ফেডারেল সম্পত্তি ভাঙচুর করেছে। তিনি দাবি করেন, এসব পরিস্থিতিতে কর্মকর্তারা নিজেদের, সাধারণ জনগণ এবং ফেডারেল সম্পত্তি রক্ষায় ন্যূনতম প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করেছেন।

অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম গত সোমবার মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে চলমান অভিবাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১০ হাজারের বেশি অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ঘোষণা করেন। নোয়াম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন-এ অভিযান মিনিয়াপোলিসে শান্তি ও জনসুরক্ষা ফিরিয়ে এনেছে এবং আটকরা শহরে ‘আমেরিকানদের হত্যা, শিশুদের ক্ষতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছিল। তিনি আরো জানান, গত ছয় সপ্তাহে প্রায় ৩ হাজার জন গ্রেফতার করা হয়েছে।

নোয়ামের এই ঘোষণায় কিছু তথ্য প্রকাশ করা হলেও গ্রেফতারের প্রকৃতি ও বিস্তারিত বিবরণ এখনো স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। তবে অভিবাসন বিষয়ক সমালোচকরা এই সংখ্যাকে অত্যধিক বলে মনে করছেন। আ্যারন রেইখলিন-মেলনিক, আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো, বলেছেন যে এ সংখ্যার সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বাস করা উচিত নয়। মিনিয়াপোলিস সম্প্রতি আইস এজেন্টের গুলিতে রেনি গুডের মৃত্যুর পর দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গুড আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ বাধাগ্রস্ত করছিল এবং নোয়াম তাকে ‘ঘরোয়া সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

নোয়ামের ঘোষণায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, মিনিয়াপোলিসে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অর্থনৈতিক প্রতারণারও অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, কমপক্ষে ১৯ বিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি ঘটেছে এবং এটি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এ দাবির কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ এখনো দেখানো হয়নি। এদিকে স্থানীয় নাগরিক অধিকার গ্রুপ ও সংস্থাগুলো এ অভিযানকে সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, ফেডারেল কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ জাতিগত বা বর্ণগত লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এবং এটি নাগরিকদের সংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের শঙ্কা সৃষ্টি করছে।

মিনিয়াপোলিসে গ্রেফতার অভিযান এবং অভিবাসী আইনের কঠোর প্রয়োগ ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি অনুযায়ী অভিবাসী কার্যক্রমে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে গ্রেফতারের প্রকৃতি, অপরাধের ধরন বা আইনি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘোষণা প্রশাসনের অভিবাসী নীতি ও নাগরিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপের মধ্যে তীব্র বিতর্ক এবং জনসাধারণের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এবং কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরকে লক্ষ্য করে তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, ইলহান ওমরের কারাগারে থাকা উচিত, এমনকি তাকে সোমালিয়ায় পাঠানো উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, ওমর ও গভর্নর ওয়ালজ আইসের কার্যক্রমের বিরোধিতা করে রাজ্যে কথিত দুর্নীতির বিষয় থেকে জনমতের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, মিনেসোটায় প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি জালিয়াতি হয়েছে, যদিও এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) সম্প্রতি শিশু পরিচর্যা কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগে ডেমোক্র‍্যাট-নিয়ন্ত্রিত পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে ১০ বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল তহবিল স্থগিত করেছে। এ তালিকায় রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, ইলিনয়, মিনেসোটা ও নিউইয়র্ক। এর আগে ট্রাম্প মিনেসোটায় সেনা মোতায়েনের জন্য ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ প্রয়োগের হুমকি দিলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিছুটা পিছু হটেছেন। শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এ মুহূর্তে এর প্রয়োজন নেই, তবে দরকার হলে আমি তা ব্যবহার করবো।

গভর্নর টিম ওয়ালজ ট্রাম্পের মন্তব্যের সরাসরি জবাব না দিলেও এক বিবৃতিতে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন পরিস্থিতি শান্ত করি। প্রতিশোধের এই অভিযান বন্ধ করুন। এটাই আমাদের পরিচয় নয়।

শেয়ার করুন