৩১ জানুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ৬:৪০:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চিয়তা ‘উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিনঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই রয়েছে’ এনসিপির ৩৬ দফার ইশতেহার, কী আছে তাতে? ১২ ফেব্রুয়ারী ধানের শীষের পাশাপাশি হ্যা ভোট দেয়ারও আহ্বান তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের জয়, নাইকোকে ৫১৬ কোটি টাকা জরিমানা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ- ইসি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে- জাহাঙ্গীর তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশের আহ্বান নিরাপদ কর্মপরিবেশের দায়িত্ব নিয়োগকর্তারই `খুব ঠান্ডা শীত এলে এখনো পিঠে ব্যথা হয়, কারাগারে নির্যাতনের ফল'


নিউইয়র্কে অভিবাসী সুরক্ষায় ফর অল অ্যাক্ট দ্রুত পাসের প্রস্তুতি
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৮-০১-২০২৬
নিউইয়র্কে অভিবাসী সুরক্ষায় ফর অল অ্যাক্ট দ্রুত পাসের প্রস্তুতি নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা আন্দ্রিয়া স্টুয়ার্ট-কুজিনস


নিউইয়র্ক স্টেটে অভিবাসীদের সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের পথে অগ্রসর হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন স্টেট সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা আন্দ্রেয়া স্টুয়ার্ট-কাজিনস। ২৭ জানুয়ারি নতুন আইনসভা অধিবেশনের প্রথম দিনেই তিনি প্রথমবারের মতো নিউইয়র্ক ফর অল অ্যাক্ট-এর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। এই আইনটি স্টেট ব্যাপি স্যাংচুয়ারি নীতিকে আইনি স্বীকৃতি ও সম্প্রসারণ দেবে।

অলবানি শহরে এক সংবাদ সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্টুয়ার্ট-কাজিনস বলেন, নিউইয়র্কবাসীকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব ও আমাদের নেওয়া উচিত। তিনি জানান, সিনেট এই মুহূর্তের গুরুত্ব উপলব্ধি করছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে নিউইয়র্ক ফর অলসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এসব আইন বাজেটের আগেই অথবা বাজেট প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও পাস হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

নিউইয়র্ক ফর অল অ্যাক্ট বিলটি নিউইয়র্কে অভিবাসীদের সুরক্ষা সম্প্রসারণের জন্য প্রস্তাবিত। এর মূল লক্ষ্য হলো স্টেট এবং স্থানীয় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোকে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সীমাহীন সহযোগিতা থেকে বিরত রাখা। আইনটি প্রস্তাব করে যে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা পুলিশ কর্মকর্তা যদি আদালতের আদেশ বা জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট ছাড়া অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করে বা সম্পদ ব্যয় করে, তা আইনত দায়মুক্ত হবে না।

বিলটি স্থানীয় সরকারি কর্মীদের বাধ্য করবে না অভিবাসীদের অবস্থান, স্থিতি বা পরিচয় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ বা আইস -এর কাছে প্রেরণ করতে। এছাড়াও, ফেডারেল অভিবাসন এজেন্সিগুলিকে রাজ্য বা স্থানীয় সরকারের কোনও নন পাবলিক স্থানে বিনা ওয়ারেন্টে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আইনটি নিশ্চিত করবে যে আটক ব্যক্তিদের তাদের আইনি অধিকার সম্পর্কে জানানো হবে এবং তারা অভিবাসন প্রক্রিয়ায় আইনি সহায়তা পেতে পারবে।

নিউইয়র্ক ফর অল অ্যাক্ট প্রথম ২০২০ সালে চালু হয়, তবে তা এখনও ভোটে নেওয়া হয়নি। বিলের সমর্থকরা মনে করেন, এটি রাজ্যের অভিবাসী সম্প্রদায়কে ফেডারেল ডিটেনশন এবং নির্বাসনের চাপ থেকে রক্ষা করবে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষায় সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে অভিবাসীরা আরও সুরক্ষিত এবং ন্যায়সঙ্গত পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।

যদিও গভর্নর ক্যাথি হোকুল এখনো নিউইয়র্ক ফর অল অ্যাক্টের প্রতি সমর্থন জানাননি, চলতি মাসের স্টেট অব দ্য স্টেট ভাষণে তিনি কিছু নতুন অভিবাসন সংক্রান্ত উদ্যোগের ঘোষণা দেন। এর মধ্যে অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর সঙ্গে সহযোগিতা করা সিটিগুলোর জন্য স্টেট পর্যায়ের জননিরাপত্তা অনুদান বন্ধ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। তবে অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মতে, এসব পদক্ষেপ নিউইয়র্ক ফর অল অ্যাক্টের লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট নয়, বিশেষ করে মিনেসোটায় সাম্প্রতিক সহিংস অভিবাসন অভিযানের প্রেক্ষাপটে।

গত সপ্তাহে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা স্টেট ক্যাপিটলে সমাবেশ করে নিউইয়র্ক ফর অল অ্যাক্ট দ্রুত পাসের দাবি জানান এবং আদালতে অভিবাসীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের আহ্বান করেন। ওই সমাবেশে স্টেট সিনেটর মাইক জিয়ানারিস ও অ্যান্ড্রু গুনার্ডেস এবং অ্যাসেম্বলি সদস্য ক্যাটালিনা ক্রুজ ও কারিনেস রেয়েসসহ অনেক নির্বাচিত প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। মিনিয়াপোলিসে নিকোল রেনে গুড নিহত হওয়ার ঘটনার পর এই দাবিগুলো আরও জোরালো হয়ে ওঠে। স্টুয়ার্ট-কাজিনস নিজেও সমাবেশে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যদিও সময়সূচির কারণে তা সম্ভব হয়নি।

আইনসভা নেতারা সাধারণত প্রতিদিনের অসংখ্য সমাবেশে উপস্থিত থাকেন না। তাই স্টুয়ার্ট-কাজিনসের অংশগ্রহণের চেষ্টা তার অগ্রাধিকারের দিকটি স্পষ্ট করে বলে মনে করছেন অভিবাসী নেতারা। নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের নির্বাহী পরিচালক মুরাদ আওয়াওদেহ বলেন, তিনি নিউইয়র্ক ফর অল নিয়ে এগোতে প্রস্তুত। আমরা আশা করি এটি শুধু স্লোগান নয়, বরং এই রাজ্যকে ঘর বলা প্রতিটি মানুষের জন্য বাস্তবতা হয়ে উঠবে।

এর আগে মার্টিন লুথার কিং ডে উপলক্ষে দেওয়া বক্তৃতায় স্টুয়ার্ট-কাজিনস যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন প্রয়োগ নীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আজকের আমেরিকায় মানুষ তাদের গায়ের রং, ভাষা কিংবা জন্মস্থানের কারণে প্রোফাইলিংয়ের শিকার হচ্ছে। আমাদের প্রতিবেশীদের মুখোশধারী সরকারি এজেন্টরা রাস্তায় ধরে নিয়ে যাচ্ছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই আটক করছে।

নিউইয়র্ক ফর অল অ্যাক্টের পৃষ্ঠপোষক স্টেট সিনেটর অ্যান্ড্রু গুনার্ডেস বলেন, স্টুয়ার্ট-কাজিনসের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, মিনেসোটা ও সারা দেশে যা ঘটছে, তা দেখে তিনি বুঝেছেন যে আমাদের এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।তবে আইন পাস করতে স্টেট অ্যাসেম্বলি স্পিকার কার্ল হিয়াস্টির সমর্থনও প্রয়োজন। তার দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এদিকে, অ্যাক্সেস টু রিপ্রেজেন্টেশন অ্যাক্টের পৃষ্ঠপোষক ক্যাটালিনা ক্রুজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই অধিবেশনে অভিবাসী সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় বাস্তব আইন ও বিনিয়োগ ছাড়া আমরা অলবানি ছাড়ব না।

শেয়ার করুন