৩০ জানুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার, ১১:১৫:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চিয়তা ‘উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিনঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই রয়েছে’ এনসিপির ৩৬ দফার ইশতেহার, কী আছে তাতে? ১২ ফেব্রুয়ারী ধানের শীষের পাশাপাশি হ্যা ভোট দেয়ারও আহ্বান তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের জয়, নাইকোকে ৫১৬ কোটি টাকা জরিমানা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ- ইসি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে- জাহাঙ্গীর তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশের আহ্বান নিরাপদ কর্মপরিবেশের দায়িত্ব নিয়োগকর্তারই `খুব ঠান্ডা শীত এলে এখনো পিঠে ব্যথা হয়, কারাগারে নির্যাতনের ফল'


ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতে পাল্টে যেতে পারে মাঠের হিসাব নিকাশ
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৮-০১-২০২৬
ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতে পাল্টে যেতে পারে মাঠের হিসাব নিকাশ প্রতীকী ছবি


চলতি মাসের ২২ তারিখ থেকে শুরু হয়ে গেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। মাঠে সক্রিয়ভাবে আছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। এছাড়া আছে জাতীয় পার্টির দুই অংশের প্রতিদ্বিন্দ্বীরা। আছে ইসলামী আন্দোলনসহ আরাও কয়েকটি দল। পুরো নির্বাচনী প্রচারণায় যেমন আছে কথার ফুলঝুড়ি, আশ্বাস আর ভবিষ্যত পরিকল্পনার ছড়াছড়ি, তেমনি দেখা যাচ্ছে আক্রমণাত্মক বক্তব্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি ভয়াবহ হাতছানি। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ৩০০ সংসদীয় আসনে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

দেশের ২৯৮টি নির্বাচনী এলাকায় মোট ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন। নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী ১ হাজার ৭৩২ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ২৪৯ জন। তবে বর্তমানে ২৯৮টি আসনের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হলেও পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের জন্য নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ কারণে ওই দু’টি আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা আগামী ২৭ জানুয়ারির পর জানা যাবে।

এদিকে এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২৮৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৩টি আসনে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে জাতীয় পার্টি ১৯২টি, গণঅধিকার পরিষদ ৯০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৩৪টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২টি এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩০টি আসনে তাদের প্রার্থী দিয়েছে।

স্বাধীনতা বিরোধীদের বয়কটের ডাক দিয়ে বিএনপি’র শুরু

সিলেট নগরের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে গত বৃহস্পতিবার শুরু হয় বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভা । এতে দেশবাসীর সাহায্য ও দোয়া কামনা করে তারেক রহমান ধানের শীষকে জয়যুক্ত করার জন্য সবার কাছে আহ্বান জানান। তবে তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় সরাসরি যারা বিরোধীতা করেছে তাদেরকে টার্গেট করে, যা বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ। এর পাশাপাশি সমসাময়িক রাজনীতিতে যারা একটি নয়া মাইনাস ফর্মূলায় ইন্দন দিয়েছে বা গোপনে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে তাদেরকে টার্গেট করে বক্তব্য দিচ্ছেন তারেক রহমান। এসব বিষয়গুলি ফুটে উঠে তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণায়। মাইনাস ফমূলায় বিশ্বাসীদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, ‘কেউ কেউ বলে, অমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি। এবার একে দেখেন।

এর পাশাপাশি তিনি মুক্তিযুদ্ধে স্বপক্ষের ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ায় বিশ্বাসীদের এককাতারে আনতে কৌশল নিয়েছেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যে যুদ্ধ, যে যুদ্ধে লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে, আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি, সেই মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি। যাদের ভূমিকার জন্য এই দেশের লক্ষ লক্ষ ভাইয়েরা শহীদ হয়েছেন। এই দেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোনদের সম্মানহানি হয়েছে। তাঁদের তো বাংলাদেশের মানুষ দেখেই নিয়েছে।’ অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালকে সব সময় মাথায় তুলে রাখতে চাই, কারণ সেটাতেই আমাদের অস্তিত্ব, বাংলাদেশের অস্তিত্ব।’এমন বক্তব্য বিএনপি’র আরও অনেকে দিচ্ছে। ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন এক প্রচারণা অন্ষ্ঠুানে বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ফলে এধরনের প্রচারণায় বোঝা যাচ্ছে বিএনপি একটি রাজনৈতিক দলকে স্বাধীনতা বিরোধী দল হিসাবে প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার কৌশলকে প্রাধান্য দিচ্ছে। বিএনপি মনে করছে আওয়ামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। তা-ই সরাসরি তাদের কাছে ভোট চাওয়ার বদলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন জনগণকে তাদের কাতারে নিয়ে আসার কৌশল নিয়েছে বিএনপি। এতে বিএনপি দলমত নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে এককাতারে নিয়ে আসা যাবে। 

বিএনপি’র অতীত নিয়ে নাড়াচাড়ার কৌশল

এদিকে জামায়াত বিএনপি’র অতীত নিয়ে নাড়াচাড়ার কৌশল নিয়েছে। দলটি বিএনপি’র অতীত শাসনামল নিয়ে কৌশলে কোথাও সরাসরি বক্তব্য দিচ্ছে। চট্টগ্রামের এক জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন, বিএনপি নির্বাচিত হলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে। তারেক রহমানের এই বক্তব্যের দুই ঘণ্টা পর বিকেল সোয়া তিনটার দিকে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠে ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় দলটির আমির শফিকুর রহমান এর কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘একটা দল শুনলাম ইদানীং বলছেন, তাদের হাতে দেশ আসলে তারা নাকি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করবেন। যাদের সংসদ সদস্য (প্রার্থী) ৩৯ জন গুরুতর ঋণখেলাপি, কায়দা করে তাদের বানানো হয়েছে ক্যান্ডিডেট (প্রার্থী)। তাঁরা বাংলাদেশের মানুষকে দুর্নীতিমুক্ত করবেন!’ তিনি আরও বলেন, ‘বগলের নিচে ঋণখেলাপিদের নিয়ে সংসদ নির্বাচন করবেন আর জনগণকে আপনারা ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ উপহার দেবেন- এ সমস্ত ঘুম পাড়ানো, মনভোলানো গান আর চলবে না। সদিচ্ছা থাকলে আগে এদের আপনারা বাদ দিন।’ তিনি বলেন, ‘যাঁরা বলছেন দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দেব, তাঁরা নিজেদের আগে দুর্নীতিমুক্ত করুন।’

প্রতিদিনই ছড়িয়ে পড়ছে সহিংসতা

এদিকে উপরের বক্তব্যগুলিকে তো বাকযুদ্ধ হিসাবে ধরে নেওয়া যায়। যুক্তি পাল্টা যুক্তি হিসাবে কেউ কেউ নিচ্ছেন। কিন্তু মাঠের চিত্র-তো প্রতিদিনই পাল্টে যাচ্ছে। দিনের পর দিন বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে সহিংসতা গত ২৫ জানুয়ারি রোববার চার জেলায় নির্বাচনি সংঘাতে আহত ৪৫। নির্বাচনি অফিস ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, মহাসড়ক অবরোধও হয়েছে। গণমাধ্যমের খবরে দেখা গেছে রোববার লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, ময়মনসিংহের ভালুকা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ-হামলায় ৪৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় নির্বাচনি অফিস ও কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ এবং মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। দুটি স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় জেলা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন প্রার্থীরা। এছাড়া চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকের বাড়িতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে। 

বিএনপি ও জামায়াত মুখোমুখি হয়ে যাচ্ছে

এদিকে সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে মাঠে বিএনপি ও জামায়াত প্রায়ই মুখোমুখি অবস্থানে চলে যাচ্ছে। সর্বশেষ ভোলায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পালটাধাওয়াসহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এর আগে রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নির্বাচনী গণসংযোগ কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ও সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে একে অপরকে দায়ী করেছে।

শেষ কোথায়?

নির্বাচনী প্রচারে উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনাও ছড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, সংঘাতে জড়াতে চাইলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রার্থীর নাম উল্লেখ না করে ইশরাক হোসেন বলেন, তাঁর একটি বক্তব্য অত্যন্ত প্রচারিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘ঢাকা শহরের সব প্রার্থীকে সাইজ করে দেবেন। সেই প্রার্থী যদি বলতেন ঢাকা শহরের সব প্রাার্থীকে হারিয়ে দেবেন বা পরাজিত করে দেবেন, তাহলে কোনো সমস্যা ছিল না। সাইজ শব্দটার অর্থ কী? 

তাঁরা কি তাহলে ভায়োলেন্সিং সাইড (সহিংসতার উপায়) খুঁজছেন? তাহলে আমরা তো আর ভেসে আসিনি। আন্দোলন-সংগ্রাম আমরাও করেছি...এখন যদি তাঁরা আমাদের সাথে সে ধরনের একটা খেলা শুরু করতে চান বা সংঘাতে জড়াতে চান, তাহলে আমরা সে বিষয়ে কোনো ছাড় দেব না।’-এই হচ্ছে রাজনৈতিক মাঠে ভোটের লড়াইয়ের নমুনা। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে কারো কারো অভিমত সামনের দিনের কয়েকটি ঘটনা বা ভূ-রাজনৈতিক ইস্যু মাঠের হিসাব নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সতের বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি’র নেতাকর্মী কতটা চুপচাপ থাকবে তা সময় বলে দেবে। কেননা যখন খবর বেরুচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা জমে না উঠার আগেই নির্বাচনী প্রচার ঘিরে বিএনপির কয়েকটি অভিযোগ, আপত্তি জানিয়ে দিয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও অবাধ পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। অন্যদিকে দলের নেতাকর্র্মীদেরকে কেন্দ্র পাহারা দিয়ে বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর বাড়ি ফেরার কথা বলা হচ্ছে। আবার যখন শোনা যাচ্ছে এক সময়ে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হওয়া জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়ে ‘বন্ধুত্বের পথে’ হাঁটতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এধরনের খবরের জবাবে ইতোমধ্যে মাঠ অন্যরকম উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, এটাকে ভয়ঙ্কর অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন। এর পাশাপাশি বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজ পত্রিকায় একটি খবর বেরিয়েছে, ফরহাদ মজহার সাহেব একজন বিশিষ্ট দার্শনিক, তিনি বলতেছেন, জামায়াতের সঙ্গে আমেরিকার একটি গোপন আঁতাত হয়েছে। এই আঁতাত বাংলাদেশের জন্য মোটেও ভালো নয়। এটা বাংলাদেশের ক্ষতি করবে।’ 

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী আমীর শফিকুর রহমানের সঙ্গে ঢাকার ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের বৈঠক নিয়েও নানান ধরনের আলোচনা চলছে। খবরে বলা হচ্ছে ঢাকার বসুন্ধরায় জামাতের দফতরে যান ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারা কুক। কারো কারো ব্যাখ্যা এটা ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের আগে এই বৈঠক ও খবরগুলি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তা-ই একদিকে এক সময়ে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হওয়া জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়ে ‘বন্ধুত্বের পথে’ যুক্তরাষ্ট্রের হাঁটতে চাওয়া, অন্যদিকে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ কে বিশ্লেষকরা ভিন্নভাবেই দেখছেন। পরিস্থিতি আরও সন্দেহজনক হয়ে উঠছে যখন দেখা যায় বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও বর্তমান রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলে বসেন ‘বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনে অনিয়ম হলেই কেবল জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে’। 

এধরনের মন্তব্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কূটনীতিক নড়াচড়া-যোগাযোগ ও বৈঠকের পর নির্বাচনী মাঠে কোনো ধরণের পরিবর্তনের আভাস মিললে সেক্ষেত্রে দেশের রাজনৈতিক মাঠ পুরোপুরি অন্যদিকে টার্ন নিতে পারে। সেক্ষেত্রে সতের বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি কতটা চুপ থাকবে তা সময় বলে দেবে। অন্যদিকে এর বিপরীতে জামায়াতের নেতৃত্বে ১০ দলীয় জোটও চুপচাপ বসে থাকবে বলে কেউ মনে করে না। আর সে-ই পরিস্থিতিতে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত দলটি কি আচরণ করে পরিস্থিতি কোন দিকে নিয়ে যায় তা নিয়ে শঙ্কায় অনেকে। আর এসব কারণেই কি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিনে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হবে বলে আগে ভাগে জানিয়ে দিলেন অন্তর্বর্তী সরকার?

শেয়ার করুন