যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস)
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস) আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের কর দাখিল মৌসুম শুরু করেছে এবং ২০২৫ কর বছরের ফেডারেল ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্ন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ শুরু করেছে। আইআরএস জানিয়েছে, আগামী ১৫ এপ্রিল নির্ধারিত শেষ সময়সীমার আগেই প্রায় ১৬ কোটি ৪০ লাখ (১৬৪ মিলিয়ন) ব্যক্তিগত কর রিটার্ন জমা পড়বে বলে তারা আশা করছে। করদাতাদের সহায়তার জন্যআইআরএস ওয়েবসাইটে বিভিন্ন টুল ও ফাইলিং অপশন রাখা হয়েছে।
তবে প্রতি বছরের মতো এবারও করদাতাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন যে কবে নাগাদ তারা তাদের ট্যাক্স রিফান্ড হাতে পাবেন। আইআরএসের তথ্যমতে, বেশিরভাগ কর রিফান্ড ২১ দিনের মধ্যেই প্রদান করা হয়। রিফান্ড পাওয়ার সবচেয়ে দ্রুত উপায় হলো ডাইরেক্ট ডিপোজিট। নির্বাহী আদেশ ১৪২৪৭ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে আইআরএস ধাপে ধাপে কাগজের রিফান্ড চেক প্রদান বন্ধ করতে শুরু করেছে। ফলে এখন অধিকাংশ করদাতাকে রিফান্ড পেতে তাদের ব্যাংক রাউটিং নম্বর ও অ্যাকাউন্ট নম্বর দিতে হবে, যাতে টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা হয়।
এদিকে আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিট (ইআইটিসি) এবং অ্যাডিশনাল চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট (এএসিটিসি)-এর আওতায় রিফান্ড পাওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে আইআরএস। আইআরএসের তথ্যমতে, যেসব করদাতা ডাইরেক্ট ডিপোজিট বেছে নিয়েছেন এবং যাদের রিটার্নে কোনো সমস্যা নেই, তারা আগামী ২ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ডেবিট কার্ডে রিফান্ড পেয়ে যাবেন। কিছু করদাতা তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে আরো আগেই রিফান্ড পেতে পারেন। আইআরএস জানিয়েছে, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে হোয়্যার’স মাই রিফান্ড? টুলে অধিকাংশ আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিট (ইআইটিসি ও অ্যাডিশনাল চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট (এএসিটিসি) আবেদনকারীর সম্ভাব্য জমার তারিখ দেখানো হবে।
আইআরএসের তথ্য অনুযায়ী, রিফান্ড পাওয়ার সময় অনেকটাই নির্ভর করে করদাতা কোন পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দিচ্ছেন তার ওপর। গত বছরের কর মৌসুমে প্রায় ৯৩ শতাংশ করদাতা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে বা ই-ফাইল রিটার্ন জমা দিয়েছিলেন। যারা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেন, তারা সাধারণত ২১ দিনের মধ্যেই রিফান্ড পেয়ে থাকেন। অর্থাৎ, কেউ যদি ২৬ জানুয়ারি ফর্ম ১০৪০ জমা দেন এবং রিটার্নে কোনো ত্রুটি বা অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন না হয়, তাহলে ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই তার রিফান্ড পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে কাগজে রিটার্ন জমা দিলে রিফান্ড পেতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি সময় লাগতে পারে। কারণ এসব রিটার্ন আইআরএসের কর্মীদের হাতে হাতে যাচাই ও প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। এ কারণে কাগজে রিটার্ন জমা দেওয়া করদাতাদের ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
আইআরএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানো বলেন, আমেরিকার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের এই বছরে আইআরএস ও এর কর্মীরা আবারও করদাতাদের সেবা দিতে প্রস্তুত, যাতে তারা তাদের কর দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেন। তিনি আরো বলেন, ২০২৬ সাল শুধু স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরের ২৫০ বছর পূর্তিই নয়, একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক ফাইলিংয়ের ৪০ বছর পূর্তি। ১৯৮৬ সালের মতো এবারও আমরা করদাতাদের কাগজের বদলে ই-ফাইল ব্যবহারে উৎসাহিত করছি, যাতে রিটার্ন দ্রুত প্রক্রিয়া করা যয়। রিফান্ড দ্রুত পেতে ডাইরেক্ট ডিপোজিট ব্যবহারেরও অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
আইআরএস করদাতাদের দ্রুত রিফান্ড পেতে তিনি ই-ফাইল ও ডাইরেক্ট ডিপোজিট ব্যবহারের পাশাপাশি সঠিক ও সম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে রিটার্ন দাখিল করার পরামর্শ দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা এ বছর করদাতাদের জন্য কিছুটা সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। তাদের মতে, গত বছর আইআরএসে কর্মী ছাঁটাই এবং ফেডারেল শাটডাউনের প্রভাবের কারণে এবারের কর মৌসুমে গ্রাহকসেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। আরবান-ব্রুকিংস ট্যাক্স পলিসি সেন্টারের সিনিয়র ফেলো জ্যানেট হল্টসব্লাট এক ব্লগ পোস্টে বলেন, করদাতাদের উচিত কম প্রত্যাশা নিয়ে প্রস্তুত থাকা। আইআরএসে ফোন কলের উত্তর না পাওয়া, তথ্য পেতে দেরি হওয়া এবং রিফান্ড বিলম্বের ঝুঁকি রয়েছে।
আইআরএস আরো জানিয়েছে, তারা ধাপে ধাপে কাগজের রিফান্ড চেক প্রদান বন্ধ করছে। এর ফলে এখন বেশিরভাগ করদাতাকেই রিফান্ড পেতে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে টাকা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য রিটার্ন দাখিলের সময় ব্যাংকের রাউটিং নম্বর ও অ্যাকাউন্ট নম্বর প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আইআরএসের হোয়্যার’স মাই রিফান্ড?বা আমার রিফান্ড কোথায়? অ্যাপ বা অনলাইন টুল ব্যবহার করে করদাতারা তাদের রিফান্ডের অবস্থা জানতে পারবেন। আইআরএস যখন জানাবে যে রিফান্ড পাঠানো হয়েছে, তখন সাধারণত ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হতে সর্বোচ্চ পাঁচদিন সময় লাগতে পারে। ট্যাক্স বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, দ্রুত রিফান্ড পেতে হলে করদাতাদের অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া, সঠিক তথ্য প্রদান এবং ডাইরেক্ট ডিপোজিট বেছে নেওয়া উচিত। এতে করে ভুলের সম্ভাবনা কমে এবং রিফান্ড দ্রুত পাওয়া সম্ভব হয়।