১২ জুন ২০২৬, বুধবার, ০৬:০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন


আসছেন চঞ্চল-রিচি-তিশা ও সজল নূর
জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশ ডে প্যারেড ১৭ মে
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৬-০৫-২০২৬
জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশ ডে প্যারেড ১৭ মে সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ


নিউ ইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহৎ আয়োজন ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৭ মে। বাংলাদেশি কমিউনিটির অবস্থান আরো সুদৃঢ়ভাবে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে শতাধিক সংগঠনের অংশগ্রহণে এ প্যারেড আয়োজন করা হচ্ছে। গত ২ মে সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের ‘সানাই পার্টি’ সেন্টারে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্যারেড কমিটির পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। আরো জানানো হয় প্যারেডে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে আসছেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান, তানজিম তিশা ও সজল নূর। মূলধারার রাজনীতিবিদদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছেন নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল, নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি, কংগ্রেসম্যান আলেক্সজান্ডিয়া ওকাসিও কর্টেট, কংগ্রেসম্যান গ্রেস মেং, কংগ্রেসম্যান টম সুয়াজি। ইতিমধ্যেই কংগ্রেসম্যান গ্রেস মেং ও টম সুয়াজি নিশ্চিত করেছেন তারা আসছে। অন্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় কাউন্সিলম্যান এবং অ্যাসেম্বলিম্যানরাও আসছেন।

আয়োজকরা জানান, ৬৯ স্ট্রিট থেকে ৩৭ অ্যাভিনিউ হয়ে ৮৭ স্ট্রিট পর্যন্ত এই প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে। এতে থাকবে বাঙালি সংস্কৃতির নানা উপাদান নিয়ে সাজানো ফ্লোট, পাশাপাশি জনপ্রিয় শিল্পীদের নাচ-গান পরিবেশনা। নিরাপত্তার বিষয়ে জানানো হয়, নিউ ইয়র্ক পুলিশে কর্মরত বাংলাদেশি-আমেরিকান সহস্রাধিক অফিসার প্যারেডের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

প্যারেড কমিটির সদস্য সচিব ফাহাদ সোলায়মান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। তিনি জানান, প্যারেড উপলক্ষে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বিভিন্ন পর্বে কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন।

প্যারেডের গ্রান্ড মার্শাল এম আজিজ বলেন, বাংলাদেশ ডে প্যারেড আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এখানে দলমত নির্বিশেষে আমাদের অংশগ্রহণ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এ প্যারেডে বাংলাদেশ সোসাইটির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করছেন। তিনি বলেন, আমাদের সকলের উচিত বাংলাদেশ ডে প্যারেডকে সফল এবং স্বার্থক করা। কারণ এই নামের সঙ্গে আমাদের প্রিয়জন্মভূমি বাংলাদেশের নাম জড়িত। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজ থাকতে পারে কিন্তু দেশ নিয়ে বিভাজন থাকতে পারে না।

সূচনা বক্তব্যে অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী জানান, ইতোমধ্যে ১২০টি সংগঠন ব্যানার-ফেস্টুনসহ অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছে এবং আরো অনেকে অপেক্ষমাণ রয়েছেন। তার আশা, এবারের আয়োজন প্রবাসীদের জন্য একটি জমকালো ও ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে পরিণত হবে।

কনভেনর গিয়াস আহমেদ বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও প্যারেডে অংশ নিতে পারেন। আয়োজনে আরো উপস্থিত ছিলেন গ্র্যান্ড মার্শাল এম আজিজ, প্যারেড কো-অর্ডিনেটর আব্দুস সোবহান, ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর ফেড রকি, ফয়সাল আজিজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মেরাজ, পিয়াল, আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম, বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী শুভ্র দেব, রাশেদ আহমেদ, অ্যানি ফেরদৌস, নিলোফার ইয়াসমীন, আনিসুল কবীর জাসির, আব্দুর রশিদ বাবু, আহসান হাবিব, শাহাদাত হোসেন, সাকিল মিয়া, মোহাম্মদ সেলিম, আমিন খান জাকির, শাহ জে. চৌধুরী, ময়নুজ্জামান চৌধুরী, বিপ্লব সাহা, হুমায়ুন কবীর ঢালি, নূরুল আজিম, নূর আমিন, একেএম রফিকুল ইসলাম ডালিম, সরওয়ার খান বাবু, জাহাঙ্গীর সরওয়ার্দী, শাখাওয়াত বিশ্বাস, রিদওয়ান হক, নাসির আলী খান পল, ফারুক হোসেন মজুমদার, কাজী আমিনুল ইসলাম স্বপন, আলাউদ্দিন বুলু, রুহুল আমিন সরকার, খায়রুল খোকন, মাওলানা কাজী কাইয়্যুম, সোহেল হোসেন, আকবর হায়দার কিরণ, নাসরীন আহমেদ, সাইফুল ইসলাম, দেওয়ান কাউছার, শিল্পী কবীর বকুল, আফতাব জনি প্রমুখ। এছাড়াও ছিল নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে আয়োজকরা জানান, জ্যাকসন হাইটসের এই আয়োজনকে সফল ও স্মরণীয় করে তুলতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

জ্যাকসন হাইটসে ঐক্যের সুর : প্রস্তুত বাংলাদেশ ডে প্যারেডের থিম সং

আসন্ন ১৭ মে, ২০২৬ তারিখে নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে অনুষ্ঠিতব্য ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’ ঘিরে প্রবাসীদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। এই উদযাপনের মূল আকর্ষণ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে একটি প্রাণবন্ত থিম সং, যার মাস্টারিংয়ের কাজ সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে।

দেশের প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীত পরিচালক ইবরার টিপুর সুরে গানটিতে প্রাণ দিয়েছেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় একঝাঁক কণ্ঠশিল্পী। তারা হলেন- কামরুজ্জামান বকুল, বিন্দুকণা, শাহ মাহবুব, তৃনিয়া হাসান, কৃষ্ণা তিথী এবং নাজু আকন্দ।

গানটি রচনা করেছেন খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক ও কবি হুমায়ূন কবীর ঢালী। গানের কথায় প্রবাসে একতা, ভ্রাতৃত্ব এবং দেশপ্রেমের এক অনন্য মেলবন্ধন ফুটে উঠেছে। লিরিক্সে উঠে এসেছে উৎসবের ডাক-‘এসো সবাই মিলে দলে দলে/ জ্যাকসন হাইটসে যাই চলে’। হুমায়ূন কবীর ঢালী জানান, গানটিতে একদিকে যেমন ঢোল-তবলার ছন্দে বাংলার মাটির ঘ্রাণকে জড়িয়ে রাখার আকুতি আছে, তেমনি বিশ্বদরবারে বাংলা ভাষাকে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকারও প্রতিফলিত হয়েছে। পাশাপাশি গানের চরণে চরণে বিভেদ ভুলে ‘বাঙালির সম্মান’ ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে লাল-সবুজের স্বপ্ন আর দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের মূর্ছনা পৌঁছে দেওয়াই এই গানের অন্যতম উদ্দেশ্য। সুর ও কথার গাঁথুনিতে এমন এক আবহ তৈরি করা হয়েছে যা প্যারেডে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বাড়তি উদ্দীপনা যোগাবে।

পুরো আয়োজনটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’-এর সদস্য সচিব ফাহাদ সোলায়মান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই থিম সংটি শুধু প্যারেডের দিনেই নয়, বরং প্রতিটি প্রবাসী বাঙালির হৃদয়ে দেশাত্মবোধের নতুন জোয়ার সৃষ্টি করবে।

শেয়ার করুন