১৫ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ০৩:৩৫:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্ন্যাপ সুবিধাভোগীদের ভাতা চুরি রোধে বড় পদক্ষেপ ২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা বাড়তে পারে ৪.৭ শতাংশ যৌন নিপীড়নের মামলায় ক্যারলকে ৫.৬ মিলিয়ন দিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঢালিউডের দু’জন চিত্রনায়িকার বক্তব্যে নিয়ে অনেক প্রশ্ন তরুণ স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা ‘জামানত ছাড়া ঋণ পাবেন’ রাজধানীর বুক থেকে নদী গায়েবের চেষ্টা রুখে দিল পরিবেশবাদিরা বাংলাদেশি অভিবাসীরা কি যুক্তরাষ্ট্রের বোঝা? নেতৃবৃন্দ নীরব কেন ৩১ অঙ্গরাজ্যে মারাত্মক ডায়রিয়া সৃষ্টিকারী পরজীবীর প্রাদুর্ভাব ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৩ জন মানুষের মৃত্যু বারবার দেশে ফেরার ঘোষণায় হালকা হচ্ছেন হাসিনা


জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা জরুরি
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৫-০৭-২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা জরুরি প্রতীকী ছবি


দেশের প্রমাণিত গ্যাস সম্পদ দ্রুত নিঃশেষ হতে থাকা, পেট্রোবাংলা বাপেক্সের ৫০ এবং ১০০ কূপ খনন থেকে কাক্সিক্ষত সাফল্য না পাওয়ার পাশাপাশি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা ভেঙে পড়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি পরামর্শকরা দেশের নিজস্ব জ্বালানি কয়লা এবং গ্যাস সম্পদ আহরণ এবং কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নবায়ণযোগ্য জ্বালানির অবদান বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়ে এলেও আমলা নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট প্রভাবিত বিগত সরকারদ্বয় আমলে নেয়নি। দেশে এখন এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস ঘাটতি। উৎপাদনরত গ্যাসক্ষেত্রগুলোর গ্যাস উৎপাদন প্রতিদিন কমতে থাকায় ২০২৭, ২০২৮ গ্যাস উৎপাদনে ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস দ্রুত নিঃশেষ হয়ে আসছে। দৈনিক এক হাজার ২০০ এমএমসিএফডি থেকে এখন উৎপাদিত হচ্ছে ৭৪৫ এমএমসিএফডি। চলতি ধারায় ২০২৭ নাগাদ উৎপাদন ৫০০ এমএমসিএফডির নিচে নেমে যেতে পারে। অথচ এ সময়ের মধ্যে নতুন কূপখনন বা অতিরিক্ত এলএনজি আমদানির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০২৭-২০২৮ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপক ঘাটতি এবং শিল্প কারখানাগুলো পরিচালনায় ব্যাপক সঙ্কট দেখা দিতে পারে। এমনিতেই দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর, রফতানি কমে আসছে। নতুন সরকার সবে বসলো। চার মাসে এখনো দেশের কয়লা উত্তোলন বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত পর্যন্ত যেতে পারেনি। নতুন এফএস আরো নির্মাণের বাস্তবসম্মত উদ্যোগ দৃশ্যমান হচ্ছে না। জ্বালানি সেক্টরের মূল প্রতিষ্ঠান চলছে গতানুগতিক ধারায়। নতুন সরকার এখন পর্যন্ত সার্বক্ষণিকভাবে একজন যোগ্য-দক্ষ চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে পারেনি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, স্বল্প সময়ে হলেও অগ্রাধিকার তালিকায় না রেখে সরকার জ্বালানি সংকটের ব্যাপ্তি আর গভীরতা উপলব্ধি করতে পারছে না।

সরকার সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান বাড়ানোর ব্যাপক পরিকল্পনার কথা জানালেও বর্তমান ব্যবস্থাপনায় সেটি অর্জনের সম্ভাবনা সীমিত বলেই মনে করে বিশেষজ্ঞরা। সরকারের সময় মাত্র চার মাস হয়েছে। তবে সরকার জ্বালানি বিদ্যুৎ প্রশাসন এবং ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করার কোনো লক্ষণ পরিলক্ষিত চলছে না। গতানুগতিক ধারায় পরিচালিত হলে কোনোভাবেই ঘনীভূত সংকট থেকে বাড়িয়ে আসার সম্ভাবনা নেই।

সুপারিশ করবো সরকার যেন অবিলম্বে জ্বালানি সেক্টরের সরকারি সংস্থাগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাযথ পেশাদারদের পদায়ন করে নিজস্ব জ্বালানি গ্যাস এবং কয়লা আহরণ এবং উত্তোলন বিষয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার। কয়লা উত্তোলন বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিলে বিপদে পড়বে জ্বালানি খাত। সাগরের পাশাপাশি স্থলভাগেও প্রণোদনা দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এখন জরুরি। 

দেশীয় জ্বালানির অবদান বাড়ানোই এখন জরুরি। সরকারের উচিত দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ভোলার গ্যাস ন্যূনতম সময়ে গ্রীডে সঞ্চালন করার। সরকার সাগরে গ্যাস অনুসদ্ধানের জন্য নতুন পিএসসি বিডিং রাউন্ড ঘোষণা করেছে। কিন্তু ভূরাজনীতির প্রভাবে বাংলাদেশ সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে পারবে কি না-এ শঙ্কায় শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে খুব একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। সরকারের উচিত ব্যাপক প্রচার আর ঘনিষ্ঠ যোগযোগ। আর এ কাজের জন্য প্রয়োজন পেট্রোবাংলায় একজন দক্ষ অভিজ্ঞ চেয়ারম্যান। কেন সরকার গড়িমসি করছে বোধগম্য হচ্ছে না।

সবুজ জ্বালানির অবদান বাড়ানোর সরকারি উদ্যোগ প্রশসংনীয়। কিন্তু বর্তমান সরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন আকাশ কুসুম স্বপ্ন। স্রেডাকে সংস্কার করে অনেক দক্ষ করতে হবে। ব্যাক্তি খাতকে ব্যাপক প্রণোদনা দিয়ে এবং রেগুলেটরি কার্যক্রমকে জোরদার করে দেশে আন্দোলন সৃষ্টি করতে হবে। 

জ্বালানি বিদ্যুৎ সেক্টরে স্থায়ী সাফল্য পেতে হলে জনবলকে আধুনিক প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করতে হবে। বিপিএই, বিপিআইএম কার্যক্রম পর্যালোচনা করে জোরদার করতে হবে। 

সর্বোপরি, একটি সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করে অনেকটা এ সেক্টর নিয়ে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। অনুধাবন করা উচিত পরিস্থিতি ভয়াবহ। নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

শেয়ার করুন