২২ জুলাই ২০১২, সোমবার, ০৭:৫৭:৫০ অপরাহ্ন


রাজপথ ছাত্রদের দখলে
কোটা আন্দোলনে সমর্থন তবু সন্দেহ
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০৭-২০২৪
কোটা আন্দোলনে সমর্থন তবু সন্দেহ কোটা সংস্কারে আন্দোলন


বিএনপি কোটা আন্দোলন সমর্থন করে। কিন্তু হঠাৎ করে এমন একটা আন্দোলনে গোটা বাংলাদেশ প্রকম্পিত হওয়ার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা এটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের কারণ আছে বলে মনে করছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালীন সময় ‘রাসেল ভাইপার’ সাপ নিয়ে মিডিয়ায় তোলপাড় হয়। ভয়ে আতঙ্কিত হয় দেশ। বলাবলি হচ্ছিল হঠাৎ সাপের উপদ্রপ বেড়ে যাবার কারণ কী। কিন্তু খবরগুলো এমনভাবে প্রকাশিত হচ্ছিল সেটা যেন একটা মহাবিপর্যয়ের মতো। 

এমনও নিউজ হয় যে রাজধানী ঢাকাতেও ঢুকে যাচ্ছে এই বিষধর সাপ মানুষের আতংক তৈরি হয় এতে। অথচ সাপের উপদ্রপের ব্যাপারে বলা হচ্ছিল পানি বাড়ার সাথে সাথে সাপ তার নিজের থাকার স্থানে অবস্থান না করতে পেরে কিছু কিছু সাপ এমনিতেই বেড়িয়ে আসে লোকালয়ে। এটা নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা। কিন্তু ব্যাপক হারে বিস্তার সেটার হেতু তাৎক্ষণিক ঠাহর করা না গেলেও কিছুদিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যাবধানে রাসেল ভাইপারের উপদ্রপ নেই। থেমে গেছে নিউজ। থেমে গেছে আতংক। 

এরপরই কোটা আন্দোলনের উত্থান! যা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে সেটা নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ যেমনটা রাসেল ভাইপার নিয়ে এখনও বিশ্লেষণ চলছে। 

এ ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘এটাকে (কোটা আন্দোলন) আমরা দুইভাবে দেখি। একটা হচ্ছে, দেশে বিপুল সমস্যা আছে সেটাকে ডাইভার্ট করার জন্যে আন্দোলন তৈরি করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, কোটা বিরোধী ছাত্রদের এই দাবিকে আমরা সমর্থন করি কারণ এটা যৌক্তিক দাবি। এটাকে আমরা অযৌক্তিক বলার কোনো কারণ দেখি না।”

কোটা আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৫০ বছর পরেও ৫৬% আপনি কোটা দিয়ে রাখবেন- এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এখানে যেটা হচ্ছে মেধার বিকাশ হচ্ছে না, মেধাবীদের এডমিনিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন জায়গাগুলোতে নিতে পারছেন না। একটা বড় ক্ষতি হয়ে গেছে।’

একই সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি বিদ্যমান শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গেও। শিক্ষকদের আন্দোলন যুক্তি সঙ্গত দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক। আপনি এর আগে একরকম কথা বলেছেন, এখন করছেন আরেক রকম। আপনি বলেছেন যে, যারা পেসশন পায় তাদের কোনো দরকার নেই। যারা বাইরে পেনসন পায় তাদেরকে নিয়ে আসতে পারে, ঐচ্ছিক এখন কম্পলসারি করে দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, কারণ হচ্ছে সরকারের আর্থিক খাতে যে দূরাবস্থা তাদের টাকা-পয়সা সব শেষ হয়ে গেছে। এখন তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে মানি হয়ে আসছে, বিভিন্ন অটোনোমাস বডি আছে এদের মধ্যে অনেকগুলো বডি আছে যাদের কাছে বহু সারপ্লাস মানি ছিলো সেগুলো নিয়ে নিয়েছে। কোথাও কিছু বাকি রাখছে না, সব নিয়ে ফেলছে।

দেশ পরিচালনায় সরকারের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন এটা বাস্তব কথা। আমরা বার বার বলছি, এই সরকারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, সবাই দুর্নীতিবাজ। এমনকি আপনার যারা প্ল্যানিং করছে, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা করছে, বাজেট তৈরি করছে সবক্ষেত্রে দেখবেন দুর্নীতির ব্যাপারটা প্রধান। এতো বেশি দুর্নীতি করেছে যে এখন ডেট ট্র্যাপে পড়ে যাচ্ছে আরকি- ঋণের যে ট্র্যাপ সেই ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে। সেই ফাঁদে পড়ে যাওয়ার কারণে এখন তারা চতুর্দিক থেকে একটা ঋণ নিয়ে আরেকটা ঋণ শোধ করা, আরেকটা ঋণ নিয়ে আরেকটা ঋণ শোধ করা- এভাবে চলছে। তিনি বলেন, একটা ঋণ নিয়ে আরেক ঋণ শোধ করা এটা কারা করে? দেখবেন যারা সব জায়গাতে ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে, ঠিক মতো চালাতে পারছে না তাদেরকে কিন্তু এই কাজটা করতে হয়।

বিএনপি মহাসচিব সরকারের দেয়া বিভিন্ন তথ্যের ভুল উপস্থাপনার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘ভুল তথ্য দিচ্ছে সরকার’। তিনি বলেন, ‘মারাত্মক, ভুল তথ্য তারা দিচ্ছে। আজকের পত্রিকায় দেখলাম যে, রপ্তানি আয় ৬৪ বিলিয়ন বেশি দেখিয়েছে। ইট ইজ নট ট্রু (এটা সত্য নয়)। ওদের হিসাবেই এসব ভুল বেরুচ্ছে।’

ওবায়দুল কাদের 

চলমান শিক্ষার্থীদের কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন ও পেনশনের বিষয়ে শিক্ষকদের কর্মসূচি নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কোটা বাতিলের আন্দোলন চলছে। পাশাপাশি পেনশনের বিষয়ে শিক্ষকরা একটা আন্দোলন ও কর্মসূচি পালন করছেন। এই দুটি কর্মসূচিকে আমরা সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক যৌথসভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, অশুভ শক্তি যেন উসকানি দিয়ে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে তার জন্য রাজধানীসহ সারা দেশের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে সজাগ থাকতে হবে।

শেয়ার করুন