০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, রবিবার, ০৯:৪৩:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চিয়তা ‘উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিনঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই রয়েছে’ এনসিপির ৩৬ দফার ইশতেহার, কী আছে তাতে? ১২ ফেব্রুয়ারী ধানের শীষের পাশাপাশি হ্যা ভোট দেয়ারও আহ্বান তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের জয়, নাইকোকে ৫১৬ কোটি টাকা জরিমানা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ- ইসি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে- জাহাঙ্গীর তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশের আহ্বান নিরাপদ কর্মপরিবেশের দায়িত্ব নিয়োগকর্তারই `খুব ঠান্ডা শীত এলে এখনো পিঠে ব্যথা হয়, কারাগারে নির্যাতনের ফল'


কংগ্রেসে বিল পাস : অপরাধ করলেই ডিপোর্ট
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-০১-২০২৫
কংগ্রেসে বিল পাস : অপরাধ করলেই ডিপোর্ট ইউএস কংগ্রেস


কংগ্রেসের প্রথম দিনেই অভিবাসন বিরোধী বিল পাস হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নতুন অধিবেশনের প্রথম দিনেই গত ৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস ’ল্যাকেন রাইলি অ্যাক্ট’ নামে এই বিল পাস হয়। এই বিলের মূল লক্ষ্য হলো অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনা এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িত থাকা সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। বিলটি ২৬৪-১৫৯ ভোটে পাস হয়েছে, যেখানে সব রিপাবলিকান এবং ৪৮ জন ডেমোক্র্যাট বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এই বিল অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসী যারা চুরি, ডাকাতি বা দোকানে চুরির মতো অপরাধে অভিযুক্ত হবেন, তাদের বিচারের সুযোগ না দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে। এই বিল পাসের পক্ষে রিপাবলিকানদের সঙ্গে নিউ ইয়র্কের লরা গিলেন, জন মানিয়ন, জোসেফ মোরেলে, জোশ রাইলি, টম সুয়োজি এবং রিচি টরেস ৬ জন ডেমোক্র্যাট রয়েছেন।

বিলটির মাধ্যমে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন চুরি, লুটপাট ও অন্যান্য অ-হিংসাত্মক অপরাধে অভিযুক্ত অবৈধ অভিবাসীদের হেফাজতে নেয়। এই বিলের নামকরণ করা হয়েছে ল্যাকেন রাইলির নামে, যিনি একজন ২২ বছর বয়সী নার্সিং শিক্ষার্থী ছিলেন এবং গত বছর একজন অবৈধ ভেনেজুয়েলান অভিবাসীর হাতে নির্মমভাবে খুন হন। খুনের মামলায় অভিযুক্ত হোসে ইবারাকে নভেম্বরে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বিল পাসের আগে হাউস স্পিকার মাইক জনসন বলেন, আমাদের সীমান্ত সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি আজ থেকেই শুরু হলো। তিনি আরও বলেন, লেকেন রাইলি অ্যাক্ট এ কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিলের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা: ১. চুরি ও অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্ত অ-নাগরিকদের আটক ও বহিষ্কার। ২. যেসব অঙ্গরাজ্য অভিবাসন নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করবে, তাদের অ্যাটর্নি জেনারেলদের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষমতা প্রদান।

ডেমোক্র্যাট দলের কিছু সদস্য বিলটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও, অনেকেই রিপাবলিকানদের সঙ্গে একমত হয়েছেন। তবে, মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জেমি রাসকিন বিলটিকে ফাঁকা এবং রাজনৈতিকভাবে সুযোগসন্ধানী বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিলটি মূল সমস্যাগুলো সমাধান করতে ব্যর্থ।

তবে, রিপাবলিকানরা সীমান্ত সুরক্ষাকে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন এবং বিলটি দ্রুত সিনেটে পাঠানোর আশা করছেন। সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্য জন ফেটারম্যান এই বিলটির সমর্থনে প্রথমবার সই করেছেন। তিনি বলেন, লেকেন রাইলির গল্প আমাদের সিস্টেমের ব্যর্থতার করুণ স্মারক। রিপাবলিকানরা এই বিলটিকে ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করেছে। যদিও ডেমোক্র্যাটরা এই বিলের বিরোধিতা করে বলছে, এটি অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা আনবে। সিনেটে বিলটি আগামী ১০ জানুয়ারি শুক্রবার ভোটাভুটির জন্য তোলা হবে বলে জানা যায় ।

বিলটি পাস হওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা দাবি করছেন, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। এখন সিনেটে ভোটাভুটির পর দেখা যাবে, এই বিতর্কিত বিলটি বাস্তবায়িত হবে কি না এবং এটি অভিবাসন ব্যবস্থায় কতটা প্রভাব ফেলবে।

শেয়ার করুন