০৯ জানুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার, ০৮:১২:১৪ অপরাহ্ন


জামায়াতের জোটে এনসিপির ঢুকে পড়া কৌশল না ফাঁদে পা
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩১-১২-২০২৫
জামায়াতের জোটে এনসিপির ঢুকে পড়া কৌশল না ফাঁদে পা জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির লগো


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি জোট করা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় বইছে। জুলাই’য়ে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া টগবগে তরুণদের নিয়ে গড়া হয় দলটি। এমন দলের জামায়াতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় নিয়ে অনেকে হতভম্ব হয়ে গেছেন। তবে এমনভাবে বিলীন হয়ে যাওয়ায় পতিত ফ্যাসিবাদ শিবিরে উচ্ছ্বাস উৎফুল্লভাব লক্ষ্য করা গেছে। আর এর বিপরীতে জামায়াতে বিলীন হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে এনসিপি পক্ষ থেকে সাদামাটা বক্তব্যকে অনেকে অপরিপক্ষ বলে অভিহিত করেছেন। তেমনি সব ধরনের খেলার পেছনে যে জামায়াতের কলকাটি কাজ করেছে তা ধীরে ধীরে স্পস্ট হয়ে উঠেছে। আবার এনসিপির এমন অবস্থান কেউ কেউ পূর্বপরিকল্পিত বলেও মনে করেন। কারো কারো মতে, ঘরের ছেলে ঘরেই ফিরেছে..। 

জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে গণঅভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বলা হচ্ছে এনসিপি ৩০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার শর্ত মেনে নিয়েছে। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি যে আসলেই কি ৩০টি আসনে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে কি-না..। তবে ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে নির্বাচন করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যে এনসিপির নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে তার-ই ফলশ্রুতিতে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম (শহিদ) নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আবার দেখা গেছে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আসন ভাগাভাগির সমঝোতা হলেও বান্দরবান (৩০০) আসনে দুই দলের দুজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। উভয় দলের প্রার্থী বলেছেন, দলের নির্দেশনা অনুসারে তাঁরা আলাদা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এনসিপির নেতাদের মধ্যে নাহিদ ইসলামকে ঢাকা-১১, আখতার হোসেনকে রংপুর-৪, সারজিস আলমকে পঞ্চগড়-১, হাসনাত আবদুল্লাহকে কুমিল্লা-৪, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঢাকা-৮, আরিফুল ইসলাম আদীবকে ঢাকা-১৮ আসন ছেড়ে দিয়েছে জামায়াত।

ছিল হতাশা আপত্তি ও তীর্ষক মন্তব্য..

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপি’র জোট গঠনের খবরে দলটির ভেতরে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সমঝোতায় আপত্তি জানিয়ে ইতোমধ্যে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ ৩০ নেতা চিঠি দিয়েছেন। অন্যসব দলগুলির মতো দলটির শীর্ষ নেতারা প্রতিবাদ বিক্ষোভ সমাবেশ না করলেও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ঝেড়েছেন, এখনো ঝাড়ছেন। এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন পদত্যাগ করেন। এর আগের দিন দল ছাড়েন ডা. তাসনিম জারা। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিনসহ আরও কয়েক নেতা ক্ষোভ জানিয়েছেন প্রকাশ্যে। এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা তাজনূভা জাবীন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। গণমাধ্যমের খবরে দেখা গেলো ২৮ ডিসেম্বর রোববার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তাজনূভা তাঁর পদত্যাগের কথা জানান। পোস্টে তিনি জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির আসন সমঝোতার প্রসঙ্গ টেনে লিখেছেন, ‘এই জিনিস হজম করে মরতেও পারব না আমি।’ ঢাকা-১৭ আসনে তাজনূভাকে প্রার্থী করেছিল এনসিপি। তাজনূভা তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আজ তিনি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। অত্যন্ত ভাঙা মন নিয়ে জানাচ্ছেন, তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। নির্বাচন করতে মানুষ তাঁকে যে অর্থ অনুদান হিসেবে পাঠিয়েছেন, তা তিনি এক এক করে ফেরত দেবেন। কীভাবে টাকা ধীরে ধীরে ফেরত দেবেন, তা তিনি বিস্তারিত লিখে জানাবেন। সে জন্য তিনি একটু সময় চেয়েছেন। তিনি আরও লেখেন ‘আপনারা অনেকে ভাবছেন, হয়তো জামায়াতের সাথে জোটে ঐতিহাসিক কারণ বা নারী বিষয়ের কারণে আমার আপত্তি। এর চেয়েও ভয়ংকর যে কারণ, সেটা হলো যে প্রক্রিয়ায় এটা হয়েছে। এটাকে রাজনৈতিক কৌশল, নির্বাচনী জোট ইত্যাদি লেভেল দেয়া হচ্ছে। আমি বলব এটা পরিকল্পিত। এটাকে সাজিয়ে এ পর্যন্ত আনা হয়েছে।

জামায়াতের সঙ্গে জোট করার ঘটনার খবরে এনসিপি থেকে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন বলে জানালেন তাসনিম জারা। তিনি লেখেন, ‘বিভিন্ন পত্রিকায় নানান খবর প্রকাশিত হচ্ছে। আমি মনোনয়ন হারানোর ভয়ে জোটের বিরোধিতা করছি। আমি কিছুদিন আগে লিখেও ছিলাম আমার আসনে নেগোনিয়েশন হলে আমি নির্বাচন করব না, যত কঠিন প্রতিপক্ষ হোক আমি ফাইট দেব। দিলো না। তাদের গোষ্ঠীর ভাইরা তাদের পক্ষে দিস্তায় দিস্তায় লিখে ভরায় ফেলছে কেন আর কীভাবে এই জোট। কিন্তু কোনো জেনারেল, ইসি মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত এ রকম ছিল না জোট হলে বাকি আসনে প্রার্থীকে বসে যেতে হবে। আবার বাকি আসনগুলোতে জামায়াতের হয়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা করতে হবে। জামায়াতের সাথে চরমোনাই পীরের ৭০টা আসনে সমঝোতা হচ্ছে। আর গণ-অভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেয়া দলের ৩০টা আসনে।

এদিকে জামায়াতের সঙ্গে গেলে কঠিন মূল্য দিতে হবে এনসিপিকে বলে অভিমত জানিয়েছেন সামান্তা শারমিন। তিনি লেখেন, ‘এই লেখার পরে আমার ওপর অনেক আক্রমণ আসবে। আমার অনেক ব্যর্থতার ঢালি সাজানো হবে। চরিত্রহননের চেষ্টা হবে। কিন্তু নিজের কাছে নিশ্চিত। আমি এদের সাথে রাজনীতি করতে এসেছিলাম, এদের বিরুদ্ধে না। আমার আজকে মনোনয়ন জমা দেয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করার কথা, আর আমি এখানে বসে এসব লিখছি। জোট নাকি হবে দেড় মাসের, তারপর তারা মধ্যপন্থায় ব্যাক বাউন্স করবে। ট্রু। ব্যাক করে আবার দ্বিচারিতা, ভন্ডামি শুরু করবে। যে জবাবদিহির কথা বলে এরা মুখে ফেনা তোলে, সেটা নিজেদের কেউ করলে তাকেই মাইনাস করে।

এদিকে এত্তোসব ঘটনার মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে ‘আনুষ্ঠানিক সম্পর্কচ্ছেদের’ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ও মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দৌহিত্র আজাদ খান ভাসানী। এমন সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তও স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনসিপির প্রত্যাশিত সাফল্য দেখা যায়নি। জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় এনসিপি যুক্ত হওয়ার পর রোববার দিবাগত মধ্যরাতে এক ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন আজাদ খান ভাসানী, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আজাদ খান ভাসানী, এনসিপির কে›ন্দ্রীয় সংগঠকের (উত্তরাঞ্চল) পাশাপাশি দলের কৃষক উইং প্রস্তুতি কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এনসিপি’র আত্মপক্ষ সমর্থন..

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তবে তিনি বলেছেন, জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে তাঁদের কোনো আদর্শিক ঐক্য হয়নি। এটি একটি নির্বাচনী সমঝোতা।

বিশ্লেষণে কি বলে?

জামায়াতে ইসলামী সাথে অন্য কার জোট বেধেছে তা-র চেয়ে বড়ো কথা হলো জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া অংশটি যুক্ত হয়েছে। এতে সাধারণ ছাত্র-জনতা যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীদের ধরে নিয়েছিল তারা কোনো দল বা মতের কারণে কোটাবিরোধী আন্দোলনে শরিক হয়নি। প্রকৃতপক্ষে গত বছর জুলাই কোটা বাতিলের দাবিতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ ব্যানারে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল অংশ নেন তারা সবদলমতের শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা। একারণে সারাদেশে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে থাকে কোটাবিরোধী আন্দোলন, যাতে ছাত্র-জনতা, শ্রমিক, শিক্ষক, শিল্পী, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ সব পেশার মানুষেরা। ঘুণাক্ষরেও সেদিন নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীদের মনে করা হয়নি তারা জামায়াতে ইসলামী বা তাদের ভাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠনে শিবির বা অন্যকেনো রাজনৈতিক দরেল ছত্রচ্ছায়ায় ছিল বা এখনো আছে। তা-ই সর্বস্তরের সাধারণ ছাত্র-জনতা জামায়াতে ইসলামী সাথে এনসিপির গাটবাধাকে ভালোভাবে নেবে বলে মনে করেন না। এক্ষেত্রে এনসিপি আসলে জামায়াতের শরিক সংখ্যা বাড়িয়েছে এর পাশাপাশি দলটিকে একটি বড়ো দলের মর্যাদাবান করতে কাজ করেছে। কারো কারো মতে, সংসদে জামায়াতকে টেনে টুনে বিরোধী দলের আসরে বসানোর একটি কৌশলে এনসিপি পা দিয়েছে। 

এটা কি পূর্বপরিকল্পিত?

জামায়াতে ইসলামী সাথে এসসিপির জোট বাধাকে এখন মনে করা হচ্ছে পূর্বপরিকল্পিত। এমটাইতো আভাস দিয়েছেন এনসিপির এক নেতা। তার মত হচ্ছে এনসিপি এভাবেই একসময়ে জামায়াতের আরেকটা দোকান হয়ে উঠবে, যা তারা আগেও বুঝতেন। তাই তারা প্রশ্ন তুলেছেন তা না হলে কেন এনসিপি আগে নিজের স্বকীয়তা, নিজের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জামায়াতকে বেছে নিতে মরিয়া হয়ে যাচ্ছে? তিনজন মন্ত্রী ছিল না ক্ষমতায়? পারে নাই তো।

ধরি মাছ না ছুই পানি..

জামায়াতের সাথে ঐক্য নিয়ে এনসিপি ধরি মাছ না ছুই পানি কৌশল নিয়েছে বলে মনে করেন কেউ কেউ। কেননা জামায়াতের মতো ধর্মভিত্তিক দলের সঙ্গে আদর্শিক পার্থক্যের বিষয়ে নাহিদ বলেছেন, নির্বাচনী সমঝোতা-সামগ্রিক আদর্শিক ঐক্য নেই। এনসিপি তার নিজস্ব লক্ষ্য ও আদর্শ অনুযায়ী কাজ করবে। সংস্কার, ন্যায়বিচার এবং আধিপত্যবাদ বিরোধিতায় ন্যূনতম কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। এনসিপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেবে। এদিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমাদের ন্যূনতম কিছু বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। সামগ্রিক বিষয়ে বা আদর্শিক ঐক্য হয়নি। এটা একটা নির্বাচনী সমঝোতা। ন্যূনতম কিছু বিষয়ে আমরা ঐকমত্য পোষণ করেছি, আমরা একত্রে নির্বাচনী সময়টা পার করব। এই সমঝোতা একদিকে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য, অন্যদিকে আমাদের সংস্কার, বিচার এবং আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী ন্যূনতম কর্মসূচিও থাকবে।’ প্রশ্ন হচ্ছে দলের তথাকথিত বিপদের কথা বলে জামায়াতের ছায়াতলে আশ্রয় নেওয়া, আবার পরে একে বলা আদর্শিক না? তাহলে অন্যরা যে জামায়াতকে স্বাধীনতা বিরোধী দল বলে অভিহিত করে থাকেন তা-তে এনসিপির আপত্তি নেই। জামায়াতের সে-ই আদর্শের সাথে কি তাহলে এনসিপির সমর্থন নেই না মসে যাচ্ছেন না? নাহিদ ইসলামের এই ধরণের মন্তব্য কি জামায়াতের ভোটাররা এনসিপি’র প্রার্থীর পক্ষে আদর্শিকভাবে ভৈাট দিতে ভরসা পাবে? এটা কি এনসিপির একধরণের প্রতারণামূলক বক্তব্য না? বা দুই কুল রক্ষার প্রতারণামুলক বক্তব্য না? এনসিপির এমন অবস্থানে জনই কি একসময়ে আন্দোলনে সম্পৃক্তরা পিছু হটেনি? তা না হলে জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতা হিসেবে পরিচিত মাহফুজ আলম কেনো এমন সাহসী মন্তব্য করলেন? কেনো জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনীয় সমঝোতার আওতায় প্রার্থী হতে প্রস্তাব তাঁকেও দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে মাহফুজ আলম বলেছেন যে, তিনি এই এনসিপির অংশ হচ্ছেন না। এমন মন্তব্যে কি এনসিপির স্বকীয়তা বিলীন হয়ে গেছে বলে আভাস মিলছে না?

ঘরের ছেলে ঘরে ফিরলো..

এদিকে এনসিপির গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের শরিক এবি পার্টি গত বুধবার থেকে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার আলাপে যোগ দেয়। দলটিকে তিনটি আসন ছাড়তে রাজি হয়েছে জামায়াত। তবে এবি পার্টি চেয়েছে ১০টি আসন। তবে কয়টা দেবে তা এখনো স্পস্ট না। 

শেষ কথা..

জামায়াতের লাভের খাতা পূর্ণ? বাকিরা কি ফাঁদে আটকালো? বিএনপির জোট থেকে বেড়িয়ে আসা এলডিপিও নতুন জোটটিতে যোগ দিয়েছে। অন্যদিকে গত সোমবার সমঝোতায় যুক্ত হয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। এর ফলে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটটিতে দলের সংখ্যা বেড়ে হলো ১১। বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এককভাবে নির্বাচন করবে বলে ঘোষণা দিলে দলটির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদও জামায়াতের জোটে যোগ দিয়েছেন। এতেও জামায়াত এধরনের লাভ ঘরে তুলে নিয়েছে। এদিকে এবি পার্টির পক্ষ থেকে জামায়াতের দিকে ঝুঁকে পড়া কারো কারো মতে, এতে জামায়াতের ইসলামীরই লাভ হয়েছে। তাদের ঘরের ছেলে ঘরে পুরোপুরি না ফিরলেও এখন যে তার আশে পাশে উঁকি, ঝুঁকি মারা শুরু করেছে তাতেই বা ক্ষতি কি? ২০২০ সালের মে মাসে আত্মপ্রকাশ করে এই দলটি। জামায়াত থেকে বেরিয়ে আসা ও বহিষ্কৃতদের সমন্বয়ে রাজনৈতিক উদ্যোগ ‘জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ নামে সংগঠনটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’ বা এবি পার্টি হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। ‘মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কোর্ধ্ব জাতীয় অর্জন’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুকে বলেছিলেন, ‘ধর্ম ও স্বাধীনতাকে সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাবে এবি পার্টি।’ সে-ই এবি পার্টিরও এখন ঘরের ছেলে ঘরে ফেরা কি-না সময় বলে দেবে। তবে জামায়াতের ঝোলায় এত্তো লাভ কি দলটিকে খুব লাভবান করবে? তাদের মতে, একদিক থেকে দেখলে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবি পার্টি কিংবা এনসিপি এখন আর জামায়াতের মাথা ব্যথার কারণ হবে না। তবে কারো মতে, জামায়াতের এই ‘মহালাভ’ থেকে প্রকৃত লাভ তারা কতটা সাফল্যের সঙ্গে মোকাবেলা করতে পারবে তা-ও দেখার বিষয় বলে মনে করেন। কারণ এনসিপি ৩০ আসনে নিজ পকেটে রাখা সম্ভব হলেও, জামায়াতের পুরোনো মিত্র ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন এবং নেজামে ইসলাম পার্টি এখন অসন্তুষ্ট বলে খবর বেরিয়েছে। শেষ মৃহূর্তে এমন জগাখিুচুড়িমূলক আচরণে জামায়াত কতো ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে এবং বাকিদেরও কোন পথে নিয়ে যাচ্ছে বা ফাদে আটকিয়ে ফেললো কি-না তা সময় বলে দেবে।

শেয়ার করুন