সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন
যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি ব্যবস্থায় ১ জানুয়ারি থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। মূল্যস্ফীতি, আয়ের সীমা, সর্বোচ্চ ভাতা, কাজের ক্রেডিট এবং করযোগ্য মজুরিসহ সব ক্ষেত্রেই নতুন নিয়ম ও হার নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতি ও অবসরজীবনে এর প্রভাব পড়বে আমেরিকানের ওপর। ২০২৬ সালের সোশ্যাল সিকিউরিটির পাঁচটি বড় পরিবর্তন নিচে তুলে ধরা হলো।
প্রথমত, মূল্যস্ফীতি সমন্বয় বা মুদ্রাস্ফীতিভিত্তিক জীবনযাত্রা ব্যয় সমন্বয়: প্রতি বছর মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতায় জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের জন্য সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ২.৮ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় ঘোষণা করেছে। এর ফলে অবসরপ্রাপ্তদের গড় মাসিক ভাতা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৭১ ডলার, যা ২০২৫ সালে ছিল ২ হাজার ১৫ ডলার। অর্থাৎ মাসে গড়ে ৫৬ ডলার বেশি পাবেন ভোগীরা। তবে মেডিকেয়ারে নিবন্ধিতদের ক্ষেত্রে এ বাড়তি সুবিধার বড় অংশ স্বাস্থ্যব্যয়ে চলে যেতে পারে। কারণ ২০২৬ সালে মেডিকেয়ার পার্ট বি প্রিমিয়াম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে মাসে অতিরিক্ত ১৭ দশমিক ৯০ ডলার হয়েছে। ফলে অনেক প্রবীণের জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বৃদ্ধির সুবিধা কার্যত কমে যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, আয়ের সীমা বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্ণ অবসর বয়স-এর আগে সোশ্যাল সিকিউরিটি নেওয়ার পাশাপাশি কাজ করলে নির্দিষ্ট আয়ের সীমা অতিক্রম করলে ভাতা কাটা পড়ে। ২০২৬ সালে সাধারণ আয়ের সীমা বেড়ে হয়েছে ২৪ হাজার ৪৮০ ডলার, যা আগের বছর ছিল ২৩ হাজার ০৪০০ ডলার। এই সীমা ছাড়ালে প্রতি ২ ডলার আয়ের জন্য ১ ডলার সোশ্যাল সিকিউরিটি কেটে রাখা হবে। যারা ২০২৬ সালেই পূর্ণ অবসর বয়সে পৌঁছবেন, তাদের জন্য সীমা বেড়ে হয়েছে ৬৫ হাজার ১৬০ ডলার (আগে ছিল ৬২ হাজার ১৬০ ডলার)। এক্ষেত্রে প্রতি ৩ ডলার আয়ের জন্য ১ ডলার ভাতা কাটা হবে।
তৃতীয়ত, সর্বোচ্চ মাসিক সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা বেড়েছে। ২০২৬ সালে যারা পূর্ণ অবসর বয়সে অবসর নেবেন, তাদের সর্বোচ্চ মাসিক ভাতা বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ১৫২ ডলার, যা ২০২৫ সালে ছিল ৪ হাজার ১৮ ডলার। তবে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, সবার জন্য একক কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই। যারা অবসর গ্রহণ পিছিয়ে দিয়ে ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন, তারা আরো বেশি ভাতা পাবেন। ২০২৬ সালে ৭০ বছর বয়সে সোশ্যাল সিকিউরিটি নেওয়া শুরু করলে মাসিক ভাতা হতে পারে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৫১ ডলার।
চতুর্থত, কাজের ক্রেডিট বা ওয়ার্ক ক্রেডিটসের মূল্যবৃদ্ধি। সোশ্যাল সিকিউরিটির যোগ্য হতে হলে কমপক্ষে ৪০টি কাজের ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। ১৯৭৮ সাল থেকে প্রতি বছরে সর্বোচ্চ চারটি ক্রেডিট পাওয়া যায়। ২০২৬ সালে একটি কাজের ক্রেডিট অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় আয় বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৯০ ডলার, যা আগের বছর ছিল ১ হাজার ৮১০ ডলার। অর্থাৎ যোগ্যতা অর্জনে কর্মজীবীদের কিছুটা বেশি আয় করতে হবে।
পঞ্চমত, করযোগ্য মজুরির ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি পেয়েছে। সোশ্যাল সিকিউরিটি করারোপের জন্য সরকার প্রতি বছর একটি সর্বোচ্চ মজুরি সীমা নির্ধারণ করে। ২০২৬ সালে এই সীমা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার, যা ২০২৫ সালে ছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার ১০০ ডলার। এর মানে হলো, উচ্চ আয়ের কর্মীদের বড় অংশের আয়ের ওপর এখন সোশ্যাল সিকিউরিটি কর দিতে হবে।
সামগ্রিকভাবে ২০২৬ সালের এসব পরিবর্তন অবসরপ্রাপ্ত, কর্মরত প্রবীণ এবং উচ্চ আয়ের করদাতা-সব পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বৃদ্ধিতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও অন্যদিকে মেডিকেয়ার ব্যয় ও করযোগ্য আয়ের সীমা বৃদ্ধিতে আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবসর পরিকল্পনা ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নতুন এই নিয়মগুলো ভালোভাবে বুঝে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।