ম্যাসাচুসেটসে ভিসা সুবিধা পাওয়ার জন্য জাল ডাকাতির অভিযোগে ১১ ভারতীয় নাগরিকে গ্রেফতার করেছে এফবিআই
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) বোস্টন ডিভিশন ১১ জন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার এবং অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তারা ম্যাসাচুসেটসের কনভিনিয়েন্স স্টোর, লিকার স্টোর এবং ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁতে নাটকীয় কায়দায় বা মঞ্চভিত্তিক অস্ত্রের ব্যবহার করে ডাকাতি চালিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ কৌশলটি করা হয়েছিল যাতে দোকানের কর্মচারী বা মালিকরা ইমিগ্রেশন আবেদনপত্রে ভুক্তভোগী বলে মিথ্যা দাবি করতে পারে এবং ‘ইউ ভিসা’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ সুবিধা পেতে পারে।
অভিযুক্ত অনুযায়ী, এ ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের মার্চে। অভিযুক্তরা অন্তত ছয়টি দোকান ও রেস্তোরাঁতে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতি চালিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিটি ঘটনা স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী পরিচালিত হতো। একজন প্রদত্ত ‘ডাকাত’ দোকানে প্রবেশ করতো, কর্মচারী বা মালিককে অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখাতো, নগদ টাকা নিয়ে পালাতো এবং পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ভিডিওতে রেকর্ড করা হতো। ভুক্তভোগী হিসেবে অংশ নেওয়া কর্মচারী বা মালিকরা ডাকাত পালানোর পর অন্তত পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতেন, যাতে পুলিশ ডাকাতকে ধরতে না পারে এবং ঘটনাটি প্রকৃত মনে হয়।
এ ষড়যন্ত্রে যারা অংশ নিয়েছেন তারা জালিয়াতির মূল সংগঠককে অর্থ প্রদান করতেন। অপরদিকে মূল সংগঠক দোকানের মালিকদেরও অর্থ দিয়ে তাদের ব্যবসাকে ডাকাতির জন্য ব্যবহার করতেন। ইতিমধ্যে মূল সংগঠক, ডাকাত এবং গেটওয়ে ড্রাইভারকে গ্রেফতার ও দণ্ডিত করা হয়েছে। নতুন অভিযোগে ১১ জনকে ভিসা ফ্রড ষড়যন্ত্রের একাধিক অভিযোগের মুখোমুখি করা হয়েছে।
ম্যাসাচুসেটসের ইউএস অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, এই ১১ জনের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বস্টনের ফেডারেল কোর্টে প্রাথমিক শুনানির পর মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বাকি অভিযুক্তরা কেনটাকি, মিসৌরি এবং ওহাইও থেকে গ্রেফতার হয়েছেন এবং পরে বোস্টনে আদালতে হাজির হবেন। অভিযুক্তরা হলেন: জিতেন্দ্রকুমার প্যাটেল, মহেশকুমার প্যাটেল, সঞ্জয়কুমার প্যাটেল, দীপিকাবেন প্যাটেল, রমেশভাই প্যাটেল, অমিতাবাহেন প্যাটেল, রোনাককুমার প্যাটেল, সঙ্গীতাবেন প্যাটেল, মিনকেশ প্যাটেল, সোনাল প্যাটেল এবং মিতুল প্যাটেল।
ভিসা ফ্রড ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্তরা সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড, ৩ বছরের তত্ত্বাবধায়ক মুক্তি এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা পেতে পারেন। আদালত ইউএস সেন্টেন্সিং গাইডলাইন এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণ করবেন। মামলার তদন্তে বিভিন্ন ফেডারেল ও রাজ্য সংস্থা, স্থানীয় পুলিশ এবং ইউএস ইমিগ্রেশন সংস্থা সহায়তা করেছে।
ম্যাসাচুসেটসের ইউএস অ্যাটর্নি লিয়া বি. ফোলি এবং এফবিআই বস্টন ডিভিশনের স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ টেড ই. ডকস জানান, এটি একটি জটিল ইমিগ্রেশন ও ফ্রড কেস, যা ভুক্তভোগী সত্তার শূন্যতা ব্যবহার করে করা হয়েছে। প্রসিকিউটররা আরো বলছেন, মামলার সমস্ত বিবরণ আবেদনমূলক অভিযোগ এবং অভিযুক্তরা আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ ধরা হবে।