০৭ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৩৮:৩০ অপরাহ্ন


ট্রাম্প প্রশাসনের গণ-নির্বাসন নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরোধ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৬-০৫-২০২৬
ট্রাম্প প্রশাসনের গণ-নির্বাসন নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরোধ সাবেক আইসিই অ্যাক্টিং ডিরেক্টর ক্যালেব ভিটেলো ও ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কমিশনার রডনি স্কট।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প -এর প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসন-বিরোধী অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধের তথ্য সামনে এসেছে। নতুন বই আনডিউ প্রসেস: দ্য ইনসাইড স্টোরি অফ ট্রাম্পস মাস ডিপোর্টেশন প্রোগ্রাম-এ এই উত্তেজনাপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সংঘাতের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন প্রথম বছরেই ১০ লাখ মানুষকে দেশ থেকে বহিষ্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। এই লক্ষ্য পূরণে একটি তথাকথিত “মাস্টার প্ল্যান” প্রস্তাব করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের (সিবিপি) কমিশনার রডনি স্কট এবং তৎকালীন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোয়েম।

এই পরিকল্পনার মূল অংশ ছিল একটি ন্যাশনাল ইনসিডেন্ট কমান্ড সেন্টার গঠন, যেখানে আইস, সিবিপি এবং প্রতিরক্ষা দপ্তর যৌথভাবে কাজ করে দেশের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক অভিবাসন অভিযান চালাবে। এতে পূর্বে বহিষ্কারের আদেশপ্রাপ্ত অভিবাসীদের লক্ষ্য করে তাদের বাসায় বিচারিক পরোয়ানা ছাড়াই অভিযান চালানোর প্রস্তাব ছিল। তবে এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেন তৎকালীন আইস -এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ক্যালেব ভিটেলো। তিনি সতর্ক করে বলেন, পুরনো ঠিকানার ভিত্তিতে অভিযান চালালে ভুলবশত মার্কিন নাগরিকদেরও গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া বিচারিক পরোয়ানা ছাড়া বাড়িতে প্রবেশ নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের শঙ্কা তৈরি করতে পারে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক বৈঠকে এই মতবিরোধ চরমে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বৈঠকে উত্তেজনা এতটাই বাড়ে যে পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্মকর্তাদের ঘর খালি করে বৈঠক বন্ধ করতে হয়। এর কিছুদিন পরই ভিটেলোকে তার পদ থেকে সরিয়ে অন্য দায়িত্বে পাঠানো হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হন টড লায়ন্স। যদিও পুরো “মাস্টার প্ল্যান” বাস্তবায়িত হয়নি, এর কিছু অংশ কার্যকর করা হয়, যার মধ্যে প্রশাসনিক পরোয়ানার ভিত্তিতে বাসা থেকে আটক করার নির্দেশনাও ছিল। পরবর্তীতে লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন শহরে এই ধরনের অভিযান চালানো হলে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয় এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মিনিয়াপোলিসে অভিযানের সময় দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার পর জনমত আরও নেতিবাচক হয়ে ওঠে।

চাপের মুখে ট্রাম্প নিজেও কৌশল কিছুটা নরম করার ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, কিছুটা কোমল পন্থা নেওয়া যেতে পারে, তবে কঠোরতাও বজায় রাখতে হবে। বর্তমানে প্রশাসন তাদের লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে মার্চ মাসে নোমকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তার স্থলাভিষিক্ত হন মার্কওয়েন মুলিন, যিনি অভিবাসন নীতিতে তুলনামূলক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির কঠোরতা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে গভীর বিভাজনের প্রতিফলন।

শেয়ার করুন