২৮ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০২:১০:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অ্যাডভান্সড প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি ইসলামবিদ্বেষী গ্রাফিতি ঘিরে মুসলিম কম্যুনিটিতে আতঙ্ক যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ সুদের হার ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ইসরায়েল ডে প্যারেড বর্জনের ঘোষণা জোহরান মামদানির ওজনপার্ক মসজিদ আল-আমানের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে ভিসা ও অভিবাসন ব্যবস্থা, বললেন রুবিও নিউইয়র্কে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এক্সেলসিয়র স্কলারশিপ আবেদন শুরু ৪ লাখ সাশ্রয়ী আবাসনের পরিকল্পনা ঘোষণা মেয়রের উপকূলের ১৯ জেলার প্রাণ-প্রকৃতি ঝুঁকিতে মাহমুদ খলিলকে ডিপোর্ট ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি


ভারতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৮-০৫-২০২৬
ভারতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন শাহ শহীদুল হক


ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান সহিংসতা, ধর্মীয় নিপীড়ন, মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনের আয়োজনের করে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএ ইনক। 

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশন ফর বেটার ওয়ার্ল্ডের প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান এবং সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্টের প্রেসিডেন্ট শাহ শহীদুল হক। তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালোভাবে আহ্বান জানাই, যেন ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়। 

প্যাটিয়টস বাংলাদেশের আব্দুল কাদের বলেন, ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা, ভয়ভীতি ও সহিংসতার পরিবেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার পরিপন্থী। বিশ্ব বিবেককে আজ জাগ্রত হতে হবে। 

বিশেষ অতিথি প্রফেসর শেখ মিজান বলেন, ধর্মীয় সহাবস্থান ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় আন্তর্জাতিক সমাজের নীরব থাকা উচিত নয়। শান্তি ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে মানবতার পক্ষে দাঁড়াতে হবে। 

অ্যাকটিভিস্ট রহমত উল্যাহ বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ভীতির রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। মানবাধিকার রক্ষা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি মানবতার প্রশ্ন।’

হাজি আনোয়ার হোসেন লিটন বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্ববাসীর কাছে আহ্বান জানাই-ভারতে সব ধর্মের মানুষের সমঅধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।’

বিশেষ অতিথি তারিকুল হোসাইন বাদল বলেন, বিশ্বের যেকোনো স্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার থাকতে হবে। ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য। 

সরওয়ার আহমেদ বলেন, ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতি কখনো শান্তি বয়ে আনতে পারে না। সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। 

প্রধান বক্তা আজিজুর রহমান বলেন,মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও ধর্মীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। 

আব্দুল আমিন বলেন, বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। 

তাজকের আলী বলেন, নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা শান্তি, ন্যায়বিচার ও সহাবস্থানের পক্ষে। 

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক অ্যাকটিং প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহিম হাওলাদার। তিনি বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন এলাকায় মুসলিম নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর নির্যাতন, মসজিদে অগ্নিসংযোগ এবং মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটছে। আমরা এসব নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বিজেপি সরকারের কর্মকান্ডেরও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা মোদি সরকারের কাছে মুসলমানদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাই। 

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সাবরিনা শেখ বলেন, খুন, ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন এবং স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতা দিন দিন বেড়ে চলছে। আমরা সাম্প্রতিক রামিসা আখতারের ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে পড়াশোনা করতে পারে। 

দীপন গাজী বলেন, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। 

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রেজাউল করিম, আবুল বাতেন, করিম টুটুল, আল-আমিন, রোচি আলীসহ আরো অনেকে। 

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে শাহ শহীদুল হক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘ এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান, যেন মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। 

শেয়ার করুন