১৭ জুন ২০২৬, বুধবার, ০৮:১৭:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :


ক্রমাগত রাজনৈতিক বাহাস কী তিক্ততায় গড়াচ্ছে
মাসউদুর রহমান
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৭-০৬-২০২৬
ক্রমাগত রাজনৈতিক বাহাস কী তিক্ততায় গড়াচ্ছে তিন দলের তিন প্রধান


দীর্ঘ ১৭ বছরের একচ্ছত্র শাসনের অবসান এবং জুলাই বিপ্লবের রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন এক ক্রান্তিকাল চলছে। নতুন সরকারের বয়স সবে চার মাস। এই স্বল্প সময়ে রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার ক্ষত মেরামতের পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ইমেজ পুনরুদ্ধারে সবচেয়ে বেশি অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে। 

বিগত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনে এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন এসেছিল। দেশের অন্তত সিংগভাগ ভাগ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ধরে নিয়েছিল যে, রাজনীতিতে এবার বুঝি এক গুণগত ও পরিশীলিত পরিবর্তন আসবে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলো যখন দেশের মূল রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রকাশ পেল, তখন মানুষের প্রত্যাশা ছিল এখন আর সেই পুরোনো কায়দায় একে অপরের চরিত্রহনন, কাদা ছোড়াছুড়ি বা প্রতিহিংসার রাজনীতি হবে না। সমালোচনা অবশ্যই হবে, তবে তা হবে গঠনমূলক এবং যৌক্তিক।

কিন্তু বিএনপি সরকারের মাত্র চার মাসের মাথায় এসে সেই আশার গুড়ে বালি জমতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের নেতাদের পারস্পরিক কড়া জবানবন্দি, কাদা ছোড়াছুড়ি এবং রাজনৈতিক বাহাস এমন ভাবে বেড়ে চলছে, যা সাধারণ মানুষকে আবারও এক চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

গত ১৩ জুন চট্টগ্রাম লালদিগির ময়দানে এক সমাবেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।’ ‘পরিণতি কিন্তু হবে ৯৬ সনের মত।’ জামায়াত আমিরের এ দুই কথা ইতিমধ্যে বেশ বিশ্লেষণ চলছে রাজনৈতিক মহলে। প্রধানমন্ত্রীও বিরোধী পক্ষের একের পর এক তীর্যক সব বক্তব্য ও মন্তব্যে পাল্টা বক্তব্য রেখেছেন। সেখানে তিনি অতীতের মত মানুষকে কষ্ট দিয়ে হরতাল ধর্মঘটের সুযোগ দেয়া হবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন। 

কী বলেছিলেন তিনি লালদীঘি ময়দানে 

গত ১৩ জুন চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার গণভোটের রায় বা জনদাবি স্বেচ্ছায় মেনে না নিলে শেষ পর্যন্ত ১৯৯৬ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। তিনি বলেন, ‘তৎকালীন বিএনপি সরকার নিজেরাই যেভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল এনে পাস করাতে বাধ্য হয়েছিল, এবারও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তারা বাধ্য হবেন। ভালোয় ভালোয় দাবি মেনে নিন। জনগণকে রাজপথে ঠেলে দেবেন না। সময় খুবই সীমিত। সময় ফুরিয়ে আসছে। এই সময়ের মধ্যে পরিবর্তন না হলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনও সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থী। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও গণরায়ের যথাযথ প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকার যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণই তার জবাব দেবে।’

বর্তমান সরকারের মেয়াদ খুব বেশি হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলীয় নেতার এত ‘কঠোর’ বক্তব্যের কারণ কী রাজনৈতিক অঙ্গনে তা নিয়েও নানা বিশ্লেষণ চলছে। 

নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন কী ভেস্তে যাচ্ছে

একটি দীর্ঘ স্বৈরাচারী বা একচ্ছত্র শাসনের অবসানের পর যেকোনো দেশের রাজনীতিতেই এক ধরনের রূপান্তর বা ‘ট্রানজিশন পিরিয়ড’ আসে। ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানুষ বুক বেঁধেছিল এক “নতুন বাংলাদেশের” স্বপ্নে। যেখানে দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকবে, বাকবিতণ্ডা হবে কেবল নীতি ও সংস্কার নিয়ে, কোনো ব্যক্তির চরিত্র বা অতীত নিয়ে নয়। কিন্তু মাত্র চার মাসের মাথায় এসে দেখা যাচ্ছে, পুরোনো সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের দেয়াল ভাঙা সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে তীব্র রেষারেষি ও কড়া ভাষার আক্রমণ শুরু হয়েছে, তা কোনো সুস্থ্য গণতান্ত্রিক আবহ নির্দেশ করে না।

জনমনে উৎকণ্ঠার মূল কারণসমূহ

আওয়ামী লীগের পতনের পর যে রাজনৈতিক শূণ্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে দলগুলো যেভাবে একে অপরকে আক্রমণ করছে, তাতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে দেশ কি আবার সেই সংঘাতের রাজনীতির দিকেই ফিরে যাচ্ছে? অন্তর্বর্তী সরকারের মূল ম্যান্ডেট হলো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার করা। কিন্তু প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও আচরণে মনে হচ্ছে, সংস্কারের চেয়ে “কে কত দ্রুত ক্ষমতায় যাবে” বা “কাকে মাইনাস করে কে মাঠ দখল করবে” সেই তাড়না অনেক বেশি স্পষ্ট।

মানুষ বিভিন্ন ভাবে অবলোকন করছে যে, আদর্শিক বা নীতিগত সমালোচনা বাদ দিয়ে আবারও ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং চরিত্রহননের যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, তা জুলাই বিপ্লবের মূল স্পিরিট বা ভাবাদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তরুণ প্রজন্ম, যারা জীবন দিয়ে এই পরিবর্তন এনেছে, তারা এই ধরণের নোংরা রাজনৈতিক বাহাস দেখে চরমভাবে আশাহত হচ্ছে।

দলগুলোর পারস্পরিক দূরত্বের নেতিবাচক প্রভাব

বিএনপি ও জামায়াতের মতো বড় দলগুলো স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মাঠপর্যায়ে একসাথে কাজ করলেও, এখন তাদের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব রাজপথে ও মিডিয়ায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এর ফলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের।

বিগত সরকারের ১৭ বছরের জঞ্জাল ও প্রাতিষ্ঠানিক ধ্বংসযজ্ঞ পরিষ্কার করতে যেখানে সব দলের ইস্পাতকঠিন ঐক্য প্রয়োজন ছিল, সেখানে এই পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি কেবল ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনর্বাসনের পথকেই সুগম করতে পারে। চড়া সুদে বিদেশি ঋণ, ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মতো মৌলিক সমস্যাগুলো থেকে নজর সরে গিয়ে রাজনৈতিক বাহাসই এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

অথচ যারা এ দুই দল ও সমমনার বাইরের দলের সাপোর্টার সে সকল দলও প্রত্যাশা করছে বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র চার মাস। এই সময়ে যেকোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অতি-আক্রমণাত্মক অবস্থান নেওয়াটা আত্মঘাতী হবে। দলগুলোকে সংযম প্রদর্শন করতে হবে। কারণ সবার আগে ক্ষমতা নয়, সবার আগে দেশ। একটা স্থিতিশিল পরিস্থিতি। 

যেকোনো দলেরই নীতি বা অবস্থানের সমালোচনা করার গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। কিন্তু তা হতে হবে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং মার্জিত ভাষায়। কিন্তু সেটার ব্যাতিক্রম দেখা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত আক্রমণ বন্ধ না হলে জনবিচ্ছিন্নতা বাড়বে।

জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে অন্তত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি মিনিমাম ‘জাতীয় সমঝোতা’ বা ‘ঐকমত্য’ থাকা জরুরি। অন্যথায়, তৈরি হওয়া এই বিশৃঙ্খলা খোদ গণতন্ত্রের ফেরার পথকেই রুদ্ধ করে দিতে পারে।

ড. শফিকুর রহমানের বক্তব্য 

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি সরকারের বয়স মাত্র চার মাস। এই চার মাসের মাথায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সরকারকে বেশি দিন সুযোগ বা সময় দেওয়া হবে না এ জাতীয় বক্তব্য ও “সময় ফুরিয়ে আসছে” এমন মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে।

চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে ১১-দলীয় জোটের সমাবেশে তাঁর দেওয়া এই বক্তব্যের গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য, উদ্দেশ্য এবং জনমনে এর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি মূল বিষয় সামনে আসে:

অন্তর্নিহিত অর্থ ও প্রেক্ষাপট

বিগত সরকারের পতনের পর দেশের মানুষ রাজনীতিতে যে গুণগত পরিবর্তন এবং পরমতসহিষ্ণুতা আশা করেছিল, তা চার মাসের মাথায় এসে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত তিনটি বিষয় বোঝাতে চেয়েছেন। তার প্রথমটি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ ও জনরায়ের প্রশ্ন- 

জামায়াত আমিরের ক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ফলাফল এবং একই সাথে হওয়া গণভোটের রায়। তিনি সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, নির্বাচনের ফলাফল সুন্দর হয়নি এবং এতে কারসাজি করা হয়েছে। সরকারের দাবি অনুযায়ী তারা ৫১% ভোট পেয়ে সরকার গঠন করেছে, কিন্তু জামায়াত আমিরের পাল্টা যুক্তি ৭৬% মানুষ যে গণভোটে রায় দিল, সরকার তা মানছে না কেন? তাঁর মতে, সরকার জনগণের ম্যান্ডেট বা প্রকৃত জনরায়কে উপেক্ষা করছে।

২. মাঠপর্যায়ের সুশাসনের অভাব (চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি)

বিরোধীদলীয় নেতার অন্যতম বড় অভিযোগ হলো, আওয়ামী সরকারের পতনের পর জনগণ আশা করেছিল দেশে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও দুর্নীতি বন্ধ হবে। কিন্তু তাঁর দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে এগুলো বন্ধ তো হয়ইনি, বরং আরও বেড়েছে এবং “দুর্নীতিকে জাতীয়করণ” করা হয়েছে। এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং জনঅসন্তোষকে পুঁজি করেই তিনি সরকারকে সময় না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন।

৩. রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি ও মাঠ ধরে রাখা

রাজনীতিতে চার মাস অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটা সময়। অতীতে যেকোনো সরকারের ক্ষেত্রে অন্তত ৩ বছর এক ধরনের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বা সুযোগ দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। নির্বাচনের পরপরই বিরোধী দল যদি সম্পূর্ণ চুপ হয়ে যায়, তবে সরকারি দল একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে পারে এই কৌশলগত চিন্তা থেকেই জামায়াত ও তার সমমনা ১১-দলীয় জোট শুরু থেকেই সরকারকে তীব্র চাপের মুখে রাখতে চাচ্ছে।

দেশে কি আবারও বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে? 

এই ধরণের আগাম রাজনৈতিক বাহাস এবং “সময় ফুরিয়ে আসার” আলটিমেটাম সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই জ্বালাও-পোড়াও, হরতাল বা সংঘাতের পুরোনো দিনগুলোর স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। 

ক্ষমতার ভারসাম্য ও রাজনৈতিক আধিপত্য ধরে রাখার এই লড়াই যদি কেবলই কাদা ছোড়াছুড়ি এবং একে অপরকে রাজপথে প্রতিহত করার দিকে রূপ নেয়, তবে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

বাংলাদেশের সিংগভাগ মানুষ এখন যেকোনো মূল্যে শান্তি, অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থেকে মুক্তি চায়। রাজনৈতিক দলগুলো যদি জনগণের এই পালস বুঝতে না পেরে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে আবার দেশকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেয়, তবে মানুষ এবার যেকোনো দলের সংঘাতাত্মক রাজনীতিকেই বর্জন করবে।

ডা. শফিকুর রহমান নিজেও বলেছেন, “দুঃশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরেকটি বিপ্লব হবে।” কিন্তু প্রশ্ন হলো, চার মাসের একটি নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে এত দ্রুত চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক দিলে তা কি দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে না?

এনসিপি সহ জামায়াত জোটের গতিপথ স্বাধারনত জামায়াতের মতই। যা বলবে, করবে তা দুই দল সহ অন্যরা তাদের প্রিপ্লান শেষ করছে। ফলে ধর্ইে নেয়া যায় জামায়াত যা বলছে সে কথার বাস্তবতায় এনসিপি সহ অন্যরাও একমত, এক পথে। 

প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা 

দেশের মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা নিজেদেরকে সতর্ক রাখব, যাতে আর কেউ এই দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে।

গত ২৭ এপ্রিলে যশোরে এক বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে সজাগ থাকার পাশাপাশি বলেন, জনগণের শান্তি নষ্ট করে ১৭৩ দিন হরতাল করবে, সেই সুযোগ আমরা কাউকে দিব না। বিভিন্ন রকম জুজু বুড়ির ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে পিছিয়ে রাখা যাবে না, বাংলাদেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না।’

যারা বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়, তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরো বলেছেন, ‘বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্তি ছড়াবে, আমরা দেশ গঠনের কাজ করব। কারণ, বাংলাদেশের মানুষ ১২ (ফেব্রুয়ারি ’২৬) তারিখের নির্বাচনে ম্যান্ডেট আমাদেরই দিয়েছে। বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন করবে এবং একই সাথে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে।’ 

সবশেষ 

বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্য মূলত একটি আগাম রাজনৈতিক শক্তির মহড়া এবং সরকারকে সতর্ক করার কৌশল। তবে মাত্র চার মাসের মাথায় এমন কড়া আলটিমেটাম দেশের সাধারণ নাগরিক ও সুশীল সমাজ ভালো চোখে দেখছে না। মানুষ চায় সমালোচনা হোক যৌক্তিক এবং গঠনমূলক। সরকারকে অন্তত রাষ্ট্র পরিচালনার ন্যূনতম সময় না দিয়ে যদি এখনই “হটানোর” বা “সময় না দেওয়ার” রাজনীতি শুরু হয়, তবে তা দেশের দীর্ঘমেয়াদী গণতান্ত্রিক যাত্রাকে আবারও এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে পারে। 

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আর কোনো সংঘাত, কারফিউ বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অন্ধকার যুগে ফিরে যেতে চায় না। রাজনৈতিক দলগুলোকে সেই জনআকাঙ্খাকে সম্মান জানাতে হবে। চার মাসের মাথায় এসে বিরোধী দলের আক্রমণাত্মক বক্তব্য, আবার সরকার দলের পাল্টা বক্তব্য যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে, তা দূর করার দায়িত্ব দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের। একে অপরের প্রতি শহনশীলতা, সামান্য ইস্যুতে বক্তব্য বা ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো ও মানুষকে উৎকন্ঠায় রাখা কথায় কথায় বিভিন্ন মাধ্যমে নিজস্ব লোকজন দ্বারা চরিত্রহননের খেলা বন্ধ করা না যায়, তবে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না এবং সাধারণ মানুষ আবারও তাদের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলবে। এখন সময় কাদা ছোড়াছুড়ির নয়, বরং ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশটাকে টেনে তোলা এটাই তো!

শেয়ার করুন