যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই এখন শেষ পর্যায়ে। জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে অল্পসংখ্যক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের ওপর। গত ২ অক্টোবরের ২৭০টু উইন কনসেনসাস পূর্বাভাসে ১৫টি আসনকে ‘টস আপ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ এসব আসনে কোনো দলকেই নিশ্চিতভাবে এগিয়ে রাখা হয়নি। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩৫টি হাউস আসনে ভোট হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। ফলে কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের ফলই কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।
জাতীয় জনমতের চিত্রও ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত ৫ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্স ও ইপসস জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে কংগ্রেসের জন্য ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ৭ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধান দেখা গেছে। একই জরিপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে। ৪ হাজার ৫০৬ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত জরিপটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্য ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে। তবে জাতীয় জরিপের ব্যবধান সরাসরি হাউসের আসনসংখ্যায় রূপান্তরিত হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা জেলা ভিত্তিক হওয়ায় প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে স্থানীয় প্রার্থী, প্রচারণা, ভোটার উপস্থিতি এবং এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
২৭০ টু উইনের গত ২ অক্টোবরের কনসেনসাস তালিকায় ফ্লোরিডা ১৪, ফ্লোরিডা ২২, আইওয়া ২, মিশিগান ৪, মিশিগান ৭, মিশিগান ১০, নর্থ ক্যারোলিনা ১, নর্থ ক্যারোলিনা ১১, নিউইয়র্ক ১৭, ওহাইও ৭, পেনসিলভানিয়া ১, পেনসিলভানিয়া ৮, টেক্সাস ১৫, ভার্জিনিয়া ১ এবং উইসকনসিন ৩ এই ১৫টি আসনকে টস আপ ধরা হয়েছে।
নিউইয়র্কের ১৭তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টও এই তালিকায় রয়েছে। এখানে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক ললারের সঙ্গে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কেইট কনলির প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশেষভাবে আলোচিত। এমারসন কলেজের ২৭ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বরের জরিপে কনলি ৪৮ শতাংশ এবং ললার ৪৬ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। ৭ শতাংশ ভোটার তখনও সিদ্ধান্তহীন ছিলেন। জরিপে অর্থনীতি, গণতন্ত্র, অভিবাসন ও আবাসনকে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে পাওয়া যায়।
ডেমোক্র্যাটদের প্রচারণা শুধু টস আপ আসনেই সীমাবদ্ধ নেই। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা আরো আটটি ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান আসনকে তাদের নির্বাচনী লক্ষ্য তালিকায় যুক্ত করেছে। এর মধ্যে কানসাস, মিশিগান, নর্থ ক্যারোলাইনা, নিউ জার্সি, ওকলাহোমা, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া ও ওয়াশিংটনের আসন রয়েছে।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসনাল ক্যাম্পেইন কমিটি মনে করছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক চাপকে কেন্দ্র করে আরো বেশি রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা প্রচারণার শেষ পর্যায়ে তাদের অর্থ ও সাংগঠনিক শক্তি সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে কেন্দ্রীভূত করছে। হাউস রিপাবলিকান নেতৃত্বও সীমিত সম্পদকে গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে আরো কৌশলগতভাবে ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে।
হাউসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইয়ে অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, অভিবাসন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিই প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। তবে জাতীয় জনমত ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে থাকলেও ১৫টি টস আপ আসনের ফল কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। বিভিন্ন নির্বাচনী পূর্বাভাসেও একই আসনগুলোকে ভিন্ন মাত্রায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
নির্বাচনের এক মাসেরও কম সময় আগে দুদলই এখন শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় জোর দিচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা হাউসের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে বিস্তৃত আসনে প্রচারণা চালাচ্ছে, আর রিপাবলিকানরা বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে জোর দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ৩ নভেম্বরের ভোটে কয়েকটি জেলার ব্যবধানই নির্ধারণ করতে পারে, পরবর্তী কংগ্রেসে হাউসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে।
১৫টি গুরুত্বপূর্ণ আসনে কারা লড়ছেন
ফ্লোরিডা ১৪: এই আসনে বর্তমান ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ক্যাথি ক্যাস্টরের বিরুদ্ধে রিপাবলিকান মাইক বেলট্রান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আসনটি ২৭০ টু উইনের টস আপ তালিকায় রয়েছে। ক্যাস্টর তার দীর্ঘ কংগ্রেসীয় অভিজ্ঞতা ও পরিবেশ জ্বালানি নীতিকে সামনে রাখছেন। বেলট্রান রিপাবলিকানদের হয়ে আসনটি দখলের চেষ্টা করছেন। ফ্লোরিডা ১৪ এর ফল হাউসের সামগ্রিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ফ্লোরিডা ২২: এটি একটি ওপেন রেস। রিপাবলিকান কেসি আসকার ও ডেমোক্র্যাট পিয়া দানদিয়া মুখোমুখি হয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেয়ার, মেডিকেইড, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বন্দুক নিরাপত্তা এই আসনের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২৭০টু উইন আসনটিকে টস আপ হিসেবে রেখেছে।
আইওয়া ২: রিপাবলিকান জো মিচেল ও ডেমোক্র্যাট লিন্ডসে জেমসের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। এটিও ওপেন রেস। মিচেলের প্রচারে আর্থিক শৃঙ্খলা, অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা গুরুত্ব পাচ্ছে। জেমস জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা ও মেডিকেইড সুরক্ষার বিষয় সামনে রাখছেন। ২৭০টু উইনের হিসাবে আসনটি টস আপ।
মিশিগান ৪: বর্তমান রিপাবলিকান প্রতিনিধি বিল হুইজেঙ্গার বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট শন ম্যাকক্যান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হুইজেঙ্গা তার কংগ্রেসীয় অভিজ্ঞতা ও রিপাবলিকান নীতিকে সামনে রাখছেন। ম্যাকক্যান আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ২৭০টু উইনের টস আপ তালিকায় আসনটি রয়েছে।
মিশিগান ৭: বর্তমান রিপাবলিকান প্রতিনিধি টম ব্যারেটের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট উইলিয়াম লরেন্স প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গ্রিন পার্টির শেন ডেড্রিকও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যু এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ২৭০টু উইন আসনটিকে টস আপ হিসেবে দেখিয়েছে।
মিশিগান ১০: এটি ওপেন রেস। রিপাবলিকান মাইকেল বুশার্ড ও ডেমোক্র্যাট ক্রিস্টিনা হাইনসের মধ্যে লড়াই হচ্ছে। বুশার্ড জ্বালানি উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন। হাইনস পরিষ্কার জ্বালানি, শ্রমিক অধিকার ও প্রজনন অধিকারের মতো বিষয়কে সামনে রেখেছেন। আসনটি টস আপ হিসেবে তালিকাভুক্ত।
নর্থ ক্যারোলিনা ১: বর্তমান ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডোনাল্ড ডেভিসের বিরুদ্ধে রিপাবলিকান লরি বাকহাউট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্থানীয় অর্থনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যু এই প্রতিযোগিতায় গুরুত্ব পাচ্ছে। ২৭০টু উইনের তালিকায় আসনটি টস আপ।
নর্থ ক্যারোলিনা ১১: রিপাবলিকান জেনিফার বালকম ও ডেমোক্র্যাট জেমি এজারের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। এটি ওপেন রেস। অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় দুদলের প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আসনটি টস আপ হিসেবে রয়েছে।
নিউইয়র্ক ১৭: হাডসন ভ্যালির এই আসনে বর্তমান রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক ললারকে চ্যালেঞ্জ করছেন ডেমোক্র্যাট কেইট কনলি। এমারসন কলেজ ও পিক্স১১ এর ২৭ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বরের জরিপে কনলি ৪৮ শতাংশ এবং ললার ৪৬ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। ৭ শতাংশ ভোটার তখনও সিদ্ধান্তহীন ছিলেন। জরিপে অর্থনীতি ৩১ শতাংশ ভোটারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, এরপর গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ ২৩ শতাংশ, অভিবাসন ১৩ শতাংশ এবং আবাসন ব্যয় ১২ শতাংশ।
তবে লড়াইটি এতোটাই ঘনিষ্ঠ যে ললার প্রচারণার পক্ষে করা ম্যাকলাফলিন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের গত ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের অভ্যন্তরীণ জরিপে ললার ৫০ শতাংশ এবং কনলি ৪৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। ওই জরিপে নমুনা ছিল ৪০০ সম্ভাব্য ভোটার এবং ত্রুটিসীমা ৪. ৯ পয়েন্ট। ফলে দুই জরিপে ফল ভিন্ন হলেও উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবধান ত্রুটিসীমার মধ্যে রয়েছে।
ওহাইও ৭: বর্তমান রিপাবলিকান প্রতিনিধি ম্যাক্স মিলারের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট ব্রায়ান পয়েনডেক্সটার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অর্থনীতি, কর, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন ও জাতীয় নিরাপত্তা প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২৭০টু উইনের কনসেনসাসে আসনটি টস আপ।
পেনসিলভানিয়া ১: বর্তমান রিপাবলিকান প্রতিনিধি ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৭০টু উইনের তালিকায় আসনটি টস আপ। ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর চূড়ান্ত নাম নিয়ে নির্ভরযোগ্য সাম্প্রতিক তথ্য নিশ্চিত না হওয়ায় এখানে কোনো নাম অনুমান করে যোগ করা হচ্ছে না।
পেনসিলভানিয়া ৮: বর্তমান রিপাবলিকান প্রতিনিধি রব ব্রেসনাহানের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট পেইজ কগনেটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ব্রেসনাহান স্থানীয় অর্থনীতি, কৃষক ও করদাতাদের বিষয় সামনে রাখছেন। কগনেটি স্বচ্ছতা, স্থানীয় উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন। আসনটি টস আপ।
টেক্সাস ১৫: বর্তমান রিপাবলিকান প্রতিনিধি মনিকা দে লা ক্রুজের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট ববি পুলিডো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক ইস্যু এখানে গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ টেক্সাসের এই আসনটি টস আপ হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় দুদলই প্রচারণা জোরদার করেছে।
ভার্জিনিয়া ১: বর্তমান রিপাবলিকান প্রতিনিধি রব উইটম্যানের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট শ্যানন টেলর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উইটম্যান প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয়। টেলর স্থানীয় আইন প্রয়োগের অভিজ্ঞতা সামনে রেখে প্রচারণা চালাচ্ছেন। স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি, গর্ভপাত ও জাতীয় নিরাপত্তা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আসনটি টস আপ।
উইসকনসিন ৩: বর্তমান রিপাবলিকান প্রতিনিধি ডেরিক ভ্যান অর্ডেনের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট রেবেকা কুক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনীতি এ আসনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২৭০টু উইনের কনসেনসাসে এটিও টস আপ।
জরিপ বনাম নির্বাচনী মডেল
এ ১৫টি আসন নিয়ে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রার্থীভিত্তিক জরিপ এবং নির্বাচনী মডেল এক নয়। নিউইয়র্ক ১৭ এ সরাসরি ভোটার জরিপে কনলি ৪৮ ৪৬ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও ললার প্রচারণার অভ্যন্তরীণ জরিপে ললার ৫০ ৪৭ ব্যবধানে এগিয়ে। ফলে কোনো একটি জরিপকে চূড়ান্ত চিত্র হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
অন্যদিকে ২৭০টু উইনের ‘টস আপ’ কোনো ভোটের শতাংশ নয়। এটি আসনটির প্রতিযোগিতার রাজনৈতিক শ্রেণিবিন্যাস। গত ২ অক্টোবরের কনসেনসাসে ১৫টি আসন টস আপ হলেও আরো কয়েকটি আসন ‘লিন ডেমোক্র্যাট’ বা ‘লিন রিপাবলিকান’ হিসেবে রয়েছে।
শেষ মাসে অর্থনীতি ও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা
জাতীয় পর্যায়ে অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন ও আবাসন নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। গত ৫ অক্টোবরের রয়টার্স ও ইপসস জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন ৩২ শতাংশ এবং নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের ৭ পয়েন্ট জাতীয় সুবিধা দেখা গেছে। একই জরিপে হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
এদিকে গত ৫ অক্টোবরের ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকান সমর্থিত এলাকায়ও প্রচারণা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে রিপাবলিকানরা তাদের অর্থ ও সংগঠনকে বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ আসনে কেন্দ্রীভূত করছে। ফলে জাতীয় জরিপে একটি দলের সুবিধা থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে ফলাফল ভিন্ন হতে পারে।
৩ নভেম্বরের ভোট যত ঘনিয়ে আসছে, হাউসের নিয়ন্ত্রণের লড়াই ততই কয়েকটি নির্দিষ্ট ডিস্ট্রিক্টে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। ২১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে দুই দলেরই স্থানীয় প্রার্থী, ভোটার উপস্থিতি, আগাম ভোট, প্রচারণার অর্থ এবং শেষ সপ্তাহের বার্তার ওপর নির্ভর করতে হবে। তাই জাতীয় ব্যালটে ব্যবধান থাকলেও হাউসের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ এখনো নির্ধারিত নয়। ১৫টি টস আপ আসনসহ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ডিস্ট্রিক্টগুলোর ফলই শেষ হিসাব বদলে দিতে পারে।