১৫ জানুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৬:২৯:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইমাম নিহতের ঘটনায় টার্নারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন ম্যানহাটনে মুসলিম মহিলাকে ছুরিকাঘাত, আলবার্টকে ১১ বছরের কারাদণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত, প্রতিবাদে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ ট্রাম্পের কড়াকড়িতে অভিবাসী শ্রমিক কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শ্রমিকদের বেকারত্ব বেড়েছে ওয়াশিংটনের ন‍্যাশনাল প্রেসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে সভা মধ্যবর্তী নির্বাচন পরিচালনার নিয়ম বদলাতে মরিয়া ট্রাম্প জামায়াতের সাথে মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠক নিয়ে নানা গুঞ্জন এক বাসায় অনেক পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল, ব্যবস্থা চায় বিএনপি বাংলাদেশ গাজার জন্য ট্রাম্প প্রস্তাবিত বাহিনীতে থাকতে চায় বাংলাদেশের সঙ্গেও ক্রিকেটে ভারতীদের ভূ-রাজনীতি


তবু বাংলাদেশকেই ভালোবাসি
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৮-০৩-২০২৩
তবু বাংলাদেশকেই ভালোবাসি মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে একটি মুহুর্ত


২০০৫ থেকে  ২০২৩ আঠারো বছর প্রবাসী। থাকি বসবাসের জন্য পৃথিবীর অন্যতম সেরা দেশ অস্ট্রেলিয়ায়। ঘুরেছি দুনিয়ার ৫ টি মহাদেশের অন্তত ৫০ টি সেরা শহরে। মেলবোর্ন, এডিলেড ,ব্রিসবেন ,সিডনি ,পার্থ , ক্যানবেরা ,  লুজার্ন ,প্যারিস , এথেন্স ,রোম , আমস্টার্ডাম , ব্রাসেলস, ওয়াশিংটন, ক্যালগারি ,মেক্সিকো সিটি, দারেসালাম , টোকিও, কুয়ালামপুর , বালী , সিঙ্গাপুর ,ব্যাংকক, ইয়াঙ্গুন , কাঠমুন্ডু , দিল্লী ,কলকাতা , জয়পুর,আগ্রা,  কাবুল, দুবাই ,আবুধাবি , দোহা, মস্কো কত শহরে সময় কেটেছে। হয়তো গুনে ,মানে,পরিবেশ,পরিস্থিতির তুলনায় ঢাকা বা বাংলাদেশ তুলনীয় নয়। তবু বাংলাদেশ আমার দেশ, ঢাকা আমার প্রিয় শহর। আমি বাংলাদেশকেই ভালোবাসি। 

২০০৫ স্থায়ী ভাবে প্রবাসী হবার পর থেকে ২০০৯ পর্যন্ত যাওয়া হয় নি বিদেশে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করার সংগ্রামে। ২০১০ থেকে প্রতিবছর বাংলাদেশে অন্ত দুইবার গেছি কখনো দাফতরিক কাজে ,কখনো আত্মীয় ,পরিজনদের সান্নিগ্ধে সময় কাটাতে।  দেখেছি নানা সমস্যায় জর্জরিত বাংলাদেশের কঠিন সংগ্রাম।  ২০১৯-২০২২ যাওয়া হয় নো করোনা অতিমারীর কারণে। ২০২২ ,২০২৩ দুই দফায় ৪ ম্যাশ কাটিয়েছি। ঘুরে বেড়িয়েছি কুয়াকাটা থেকে দিনাজপুর ,সাতক্ষীরা থেকে সিলেট।  স্বাধীনতার ৫২ বছরে বাংলাদেশ অনেক পাল্টে গেছে।


১৭ কোটি বিপুল জনগোষ্ঠীর দেশ অনেক প্রতিকূল পরিবেশে নিরন্তর সংগ্রাম করছে। হয়তো নানা কারণে বিপুল সম্ভাবনা নিয়েও কাঙ্খিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারে নি।  কিন্তু আশাহত হবার কারণ দেখি না. উন্নয়নের ভিত্তি রচিত হয়ে গেছে। ২০২৩ -২০২৫ কঠিন সময় সামাল দিতে পারলে নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশকে চটপটে বাংলাদেশে পরিণত করবে দৃঢ় বিশ্বাস রাখি।

জানি বাংলাদেশ ভীষণ ভাবে দুর্নীতি গ্রস্থ , বিপুল সম্পদ পাচার হয়ে গেছে দেশের বাইরে। জানি বিপুল জনগোষ্ঠী নিয়ে ঢাকা  এখন যান জট ,জল  জট ,বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ নিয়ে দুনিয়ায় বসবাসের জন্য অন্যতম নিকৃষ্ট নগরী। অপরিকল্পিত নগরায়ন ,জনসচেতনার অভাবে ঢাকা এখন নিত্য মরণঘাতী গ্যাস দুর্ঘটনার শঙ্কায়। জানিনা মেট্রো রেল, এলেভেটেড এক্সপ্রেস বা বাস রেপিড ট্রানজিট কতটা স্বস্তি দিবে। হয়তো একসময় ৫০% জনগোষ্ঠী ঢাকার বাইরে রিভার্স মাইগ্রেশন হয়ে স্বস্তি মিলবে। আমার প্রিয় ঢাকা শহর তিলোত্তমা হয়তো হবে না কোনো দিন। তবু ঢাকা ভালোবাসি। বার বার ফিরে যেতে চাই। 

আমাকে যদি বলেন এই মুহূর্তে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জগুলো কি,সংক্ষেপে বলবো 

ক ক : কিছু মৌলিক বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা। আর সমঝোতার ভিত্তিতে যতটা সম্ভব নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের মাদ্ধমে জনতা বান্ধব সরকার নির্বাচন 

খ খ : সমাসন্ন আর্থিক সংকট ,জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আমলা কামলাদের মেলবন্ধন। কঠোর হাতে দুর্নীতি দমন। জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য নিজেদের জ্বালানি গ্যাস ,কয়লা উত্তোলন ,সৌর বিদ্যুৎ সহ সকল ধরণের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন। 

গ গ : চলমান মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করে সুফল অর্জন। 

ঘ ঘ : আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মেধাবী তরুণদের দেশে আকৃষ্ট রাখার মতো পরিবেশ সৃষ্টি।

সর্বোপরি রাজনীতি রাজনীতিকদের হাতে ফিরিয়ে দেয়া। 

প্রতিনিয়ত লিখছি , যখনি বাংলাদেশে যাই বিভিন্ন মিডিয়ায় স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে কথা বলি. স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তরুণদের প্রশিক্ষণ দেই।  স্বভাবনা আর চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলি. ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম হিসাবে দেশের জন্য দায়বদ্ধতা অনুভব করি।  


শেয়ার করুন