২২ জুন ২০১২, শনিবার, ০৪:৩১:৪০ অপরাহ্ন


মধ্যবিত্তের যাতায়াতে বাইসাইকেল এখন ক্রয় ক্ষমতার বাইরে
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-০৬-২০২৩
মধ্যবিত্তের যাতায়াতে বাইসাইকেল এখন ক্রয় ক্ষমতার বাইরে


উচ্চ মূল্যে জ্বালানি তেল কেনার কারণে যানবাহনের ভাড়া অত্যাধিক বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ফলশ্রুতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় মধ্যবিত্তের দৈনন্দিন যাতায়াতে বাইসাইকেল হতে পারত একটি ভাল সমাধান। কিন্ত আমাদের রাজস্ব নীতির কারণে সাশ্রয়ী পরিবেশবান্ধব বাহন বাইসাইকেলের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

“বাইসাইকেলের উপর কর প্রত্যাহার করুন”দাবিতে ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে রাজধানীতে র‌্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে এসব কথা উঠে আসে। ঢাকার শংকর বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে জিগাতলা, সাইন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত মোড়, জাতীয় শহীদ মিনার হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত এই র‌্যালী ও অবস্থ’ান কর্মসূচির আয়োজন করে গত শুক্রবারে। র‌্যালীতে প্রায় শতাধিক সাইক্লিস্ট অংশগ্রহণকারীরা এই কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ বাহনটিকে সবার ক্রয় ক্ষমতার মাঝে নিয়ে আসার দাবি জানান। 

এতে আয়োজকরা বলেন, বৈশিক কারণে বেশ কিছু দিন ধরে বাংলাদেশে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যের উর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তারা বলেন, বাইসাইকেল তৈরির খুচরা যন্ত্রাংশের উপর শতকরা ৫৮ শতাংশ কর আরোপ তো আছেই, বর্তমানে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও নতুন করে মূল্য সংযোজন কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই করের কারণে বাইসাইকেলের দাম অস্বাভাবিক হারে আরও বৃদ্ধি পাবে। যার ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ সাশ্রয়ী এই বাহনটি কিনতে সামর্থ্য হবে না। 

এই প্রেক্ষাপটে বাইসাইকেল তৈরির খুচরা যন্ত্রাংশের উপর আরোপিত কর হ্রাসের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ, বৈদেশিক মুদ্রা আয়কারী এবং সাশ্রয়ী বাহনটিকে সবার ক্রয় সীমার মাঝে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে র‌্যালীর আয়োজকরা অবস্থান কর্মসূচি থেকে বক্তব্য রাখেন। র‌্যালীর পর আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি আমিনুল ইসলাম টুব্বুস বলেন, সাইকেল নিরাপদ ও সাশ্রয়ী একটা বাহন। বর্তমানে বাংলাদেশ একটা কঠিন সময়ে পার করছে। দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে মানুষ অনেক কষ্টে আছে। প্রতিদিন অনেক টাকা খরচ করতে হচ্ছে যাতায়াতে। সাইকেল ব্যবহার করে মানুষ প্রতিদিন অনেক অর্থ সাশ্রয় করতে পারত। এ পরিস্থিতিতে সাইকেলের উপর হতে কর হ্রাস এখন সময়ের দাবি এবং নারীদেরকে সাইকেল চালনায় উদ্ভুদ্ধ করার লক্ষ্যে সাইকেল লেন বাস্তবায়ন করা হলে সকল সাইক্লিস্টরাই সুবিধা পাবে।

গ্রীণ পেইজ এর প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, সাইকেল ব্যবহার যত বাড়বে, গণপরিবহন যেমন বাস, রিক্শার মত বাহনগুলোতে চাপ তত কমবে। ফলে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা গণপরিবহনে আরো স্বা”ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবে। সর্বপরি আমাদের গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, এতে করে সাইক্লিস্টরাও সহজে সাইকেলে যাতায়াত করার সুবিধা পাবে।

ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ এম. এ. মান্নান মনির বলেন, ঢাকা মহানগরীতে ব্যায়ামের খুব কম সুযোগ আছে। এক্ষেত্রে সাইকেল চালনা হতে পারে একটা ভাল সমাধান। কিন্তু অতি উচ্ছহারে কর আরোপ করার কারণে মানুষ এখন আর সাইকেল কিনতে পারছে না। ফলে ব্যায়ামের সুযোগ হতে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হ”েছ। তাই অবিলম্বে সাইকেলের খুচরা যন্ত্রাংশের উপর হতে আরোপিত কর হ্রাস করার মাধ্যমে এই বাহনটিকে সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসুন।  এছাড়াও ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এর প্রজেক্ট ম্যানেজার বরনী দালবত ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর কমিউনিকেশন অফিসার শানজিদা আক্তার বক্তব্য রাখেন। ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ কর্তৃক যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত র‌্যালীতে আয়োজক হিসাবে ছিলেন স্কেটিং ৭১, কারফ্রি সিটিস এলায়েন্স বাংলাদেশ, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এং সহ-আয়োজক হিসাবে অংশগ্রহণ করেন ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল, ধানমন্ডি ট্যুরিস্ট সাইক্লিস্ট, সূর্য শিশির, বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদ, গ্রীণ পেইজ। এছাড়াও ইসলামিক ইউনিভাসির্টি অব টেকনোলজি, ব্র্যাক ইউনিভাসির্টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়সহ আরো অন্যান্য বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই র‌্যালীতে অংশগ্রহণ করেন।


শেয়ার করুন