১১ জানুয়ারী ২০২৬, রবিবার, ০৩:১১:৫৫ পূর্বাহ্ন


ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে ২৫৮২ মনোনয়পত্র দাখিল, চলছে বাছাই
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩১-১২-২০২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে ২৫৮২ মনোনয়পত্র দাখিল, চলছে বাছাই


এয়োদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমসমূহ এগিয়ে চলছে যথারীতি। তফসিল ঘোষণা থেকে শুরু করে সব প্রস্তুতি ঠিকঠাক মতোই চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও বারবার বলা হচ্ছে, যথাসময়ে নির্বাচন হবে এবং এটা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে কোনো প্রস্তুতি বাকি নেই। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেও যে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে যা যা প্রয়োজন তার কিছুই বাকি রাখা হবে না। 

দেশের অন্যতম বৃহৎ দল আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে ঐতিহ্যবাহী ও নির্বাচনমুখী দলটি। তাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ এনে ওই সিদ্ধান্ত। জাতীয় পার্টি কেউ অংশ নিচ্ছে, কেউবা করছে বর্জন। যদিও তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার দাবি প্রচণ্ড। 

এরই ধারাবহিতায় প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল গত সোমবার। ইসি সূত্রে জানা গেছে, এদিন সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে মোট ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে বলে। এর মধ্যে ঢাকা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে, ৪১টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে ৪৪৪টি। 

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে তিনটি আসনে নির্বাচন করার কথা, সব কটিতে বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত রেখেছে দলটি। দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি বিকল্প প্রার্থী, যাদের দলের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তারাও মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

এর মধ্যে দিনাজপুর-৩ আসনে দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, বগুড়া-৭ আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম মিল্টন ও ফেনী-১ আসনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু সোমবার মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার শেষ দিনে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি নিজেদেরও মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, অসুস্থতাজনিত কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে তার জন্য এসব আসনে বিকল্প প্রার্থীও রেখেছে দলটি। আর যদি বেগম জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পরবর্তীতে এসব প্রার্থী তাদের মনোনয়ন ফরম প্রত্যাহার করে নেবেন।

গত সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক এই তথ্য নিশ্চিত করেন। 

রুহুল আমিন মল্লিক জানান, সারা দেশে ৩০০টি সংসদীয় আসনে মোট ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা অঞ্চলে ৪১টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে ৪৪৪টি, ফরিদপুর অঞ্চলে ১৫টি আসনের বিপরীতে ১৪২টি, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২৩টি আসনের বিপরীতে ১৯৪টি, কুমিল্লা অঞ্চলে ৩৫টি আসনের বিপরীতে ৩৬৫টি, রাজশাহী অঞ্চলে ৩৯টি আসনের বিপরীতে ২৬০টি, খুলনা অঞ্চলে ৩৬টি আসনের বিপরীতে ২৭৬টি, বরিশাল অঞ্চলে ২১টি আসনের বিপরীতে ১৬৬টি, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৩৮টি আসনের বিপরীতে ৩১১টি, সিলেট অঞ্চলে ১৯টি আসনের বিপরীতে ১৪৬টি, রংপুর অঞ্চলে ৩৩টি আসনের বিপরীতে ২৭৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। তিনি আরো জানান, মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম চলবে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

এর আগে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় নির্ধারিত ছিল গত রোববার পর্যন্ত। ওই সময় পর্যন্ত সারাদেশে ২ হাজার ৭৮০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। 

তারও আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদান, জামানত জমা, প্রস্তাবকারী-সমর্থনকারীর যোগ্যতা, রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনয়ন, মনোনয়নপত্র বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এবার মনোনয়ন ফরম জমা দিতে যেসব তথ্য লেগেছে 

নির্বাচন কমিশন থেকে প্রকাশিত নির্দেশিকার তথ্য অনুযায়ী, প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে তার ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য যেমন প্রার্থীর নাম, ঠিকানা, বৈবাহিক অবস্থা, জন্মতারিখ, ভোটার নম্বর, ভোটার তালিকায় ক্রমিক নম্বর, ভোটার এলাকার নাম, উপজেলা, জেলার তথ্য দিতে হয়। এর সঙ্গে আরো যেসব তথ্য দিতে হয় তা হলো- 

১. প্রার্থীর পক্ষে প্রস্তাবকের নাম ও ভোটার নম্বর, সমর্থকের নাম ও ভোটার নম্বর, প্রস্তাবক ও সমর্থকের সই। মনোনয়ন ফরমের সঙ্গে হলফনামা দিতে হবে। হলফনামার মধ্যে প্রার্থী নিজের এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের আয়ের উৎস ও দায়ের বিস্তারিত তথ্য, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণ, দায়ের হিসাব, এর আগে নির্বাচনে জয়লাভ করে থাকলে ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং তার কী পরিমাণ অর্জন করা হয়েছে তার বিস্তারিত বর্ণনা, ঋণের হিসাবের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করতে হয়।

এছাড়া হলফনামার মধ্যে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সেসম্পর্কিত নথি, বর্তমানে বা অতীতে কোনো ফৌজদারি মামলা থাকলে সেসম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যও হলফনামায় তুলে ধরতে হবে।

২. নির্বাচনে ব্যয় নির্বাহ করার জন্য অর্থের উৎসের বিবরণ, নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও ব্যাংকের নাম, আয় করের তথ্য, সম্পদ ও দায় এবং বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের হিসাব, সম্পদের বিবরণী সংবলিত রিটার্ন দাখিলের সর্বশেষ কপি এবং কর পরিশোধের প্রমাণপত্রের কপি সংযুক্ত করতে হবে।

৩. একই সঙ্গে ওই প্রার্থী যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন পাবেন সেই দলের মনোনয়নের কপি সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে।

৪. আর স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে ১৯৭২-এর ১২(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় দলিলাদি সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে। এসব নথির মধ্যে রয়েছে, তিনি সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যাবসায়িক কোনো সম্পর্ক বা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন কি না সে বিষয়ক তথ্য।

৫. জামানত হিসেবে জমা করা ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালান বা রশিদের কপি জমা দিতে হবে।

৬. এর আগে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন কি না এবং নির্বাচিত হয়ে থাকলে সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। যেমন তিনি কততম সংসদ নির্বাচনে কোনো নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন তার নাম ও নম্বর উল্লেখ করতে হবে।

৭. আগে নির্বাচিত হয়ে না থাকলে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তিনি যে নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রার্থিতা করবেন তার নাম ও নম্বর উল্লেখ করে ওই এলাকার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন সংবলিত স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা সংযুক্ত করতে হবে। 

এসবের আলোকেই এখন চলছে বাছাই প্রক্রিয়া। এ বাছাই চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।

শেয়ার করুন