ব্রুকলিনে ৩ জুন ২০২০-এর জর্জ ফ্লয়েড বিক্ষোভে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের গ্রেফতারের পর ব্রিজিড পিয়ার্সের মাথায় আঘাতের চিহ্ন।
ব্রুকলিনে ২০২০ সালের জর্জ ফ্লয়েড বিক্ষোভে গ্রেফতার হওয়া প্রতিবাদকারী ব্রিজিড পিয়ার্স-এর অভিযোগ, নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) অতিরিক্ত বল ব্যবহার করে তার মাথা পেভমেন্টে ঠেলে দিয়ে তাকে স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতির সম্মুখীন করেছে। ফেডারেল আদালত এই মামলায় সম্প্রতি তাকে ২৫.৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দিয়েছে।
ফেডারেল জুরিমন্ডলীর মামলা শুনানির পর নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করেন।.
৩৭ বছর বয়সী ব্রিজিড পিয়ার্স ছিলেন মার্কেটিং ডিরেক্টর এবং লিখেছেন আটটি প্রকাশিত নয় এমন নভেল।তার আইনজীবী ইলান মাজেল বলেন, যেই ব্রিজিড নভেল লিখতেন, ম্যারাথন দিতেন এবং এয়াল সার্কাস করতেন। সেই ব্রিজিড এখন আর নেই। তিনি এখন কম শক্তিশালী, সহজে বিভ্রান্ত হন এবং জিনিস ভুলে যান। তার জীবনে এই ঘটনায় বিশাল পরিবর্তন আসে। তার আইনজীবী জানান, পুলিশের এই আচরণের ফলে পিয়ার্সের দৃষ্টি ও মনোযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মাইগ্রেন ও স্নায়ুর অজ্ঞানতা তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সম্ভবত অকাল ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
জুরি দুই সপ্তাহের বিচার শেষে নিউইয়র্ক সিটিকে আক্রমণ ও ব্যাটারি মামলা-এ দায়ী ঘোষণা করেছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা, জোসেফ রাইডার, যিনি পিয়ার্সকে প্রথমে ধরেছিলেন, জুরি তাকে যথাযথ চিকিৎসা প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার দায়ী ঘোষণা করেছে। তবে রাইডারকে ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ, পিয়ার্সকে আক্রমণ, মিথ্যা গ্রেফতার বা প্রথম সংশোধনী অধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করা হয়নি।
বিচারের সময় দেখানো পুলিশ বডি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, একাধিক “জন ডো” পুলিশ কর্মকর্তা পিয়ার্সকে মাটিতে চেপে ধরে এবং তার মাথা কংক্রিটে ঠেলে দেন। পরে তাকে জিপ-টাই দিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একটি বাসে রাখা হয়, যেখানে তার মাথার রক্তপাতের জন্য চিকিৎসা চাওয়া উপেক্ষা করা হয়।
জুরি তাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫.৫৩ লাখ ডলার ব্যথা ও কষ্টের জন্য, ৯.৪৬ লাখ ডলার আয়ের ক্ষতি, ৭.৬৩ লাখ ডলার জীবনযাত্রার খরচ এবং ৩.০২ লাখ ডলার চিকিৎসা লঙ্ঘনের ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছে।নিউইয়র্ক সিটির আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে পিয়ার্স তার অবস্থার কথা অতিরঞ্জিত করছেন। তবে পিয়ার্স জানান, তার জীবন পরিবর্তনের ঘটনাটি স্বেচ্ছায় নয়, বরং পুলিশের আচরণের ফলাফল।
আইনজীবী মাজেল বলেন, সত্যিই দুঃখজনক ব্যাপার হলো, ব্রিজিড পুলিশ হিংসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছিলেন, আর সেই প্রতিবাদেই পুলিশের কাছ থেকে তিনি বর্বর আচরণের শিকার হন। একেবারেই কিছু না করার জন্যই নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট তার পুরো জীবন পরিবর্তন করেছে।