৩১ জানুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ০১:৫৮:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চিয়তা ‘উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিনঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই রয়েছে’ এনসিপির ৩৬ দফার ইশতেহার, কী আছে তাতে? ১২ ফেব্রুয়ারী ধানের শীষের পাশাপাশি হ্যা ভোট দেয়ারও আহ্বান তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের জয়, নাইকোকে ৫১৬ কোটি টাকা জরিমানা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ- ইসি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে- জাহাঙ্গীর তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশের আহ্বান নিরাপদ কর্মপরিবেশের দায়িত্ব নিয়োগকর্তারই `খুব ঠান্ডা শীত এলে এখনো পিঠে ব্যথা হয়, কারাগারে নির্যাতনের ফল'


গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা থেকে ‘পিছু হটা হবে না’ ট্রাম্প
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২১-০১-২০২৬
গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা থেকে ‘পিছু হটা হবে না’  ট্রাম্প


গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন, তা থেকে ‘পিছু হটা হবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।


সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আগে মঙ্গলবার তিনি নেটো মিত্রদের একহাত নেওয়ার পাশাপাশি আর্কটিকের দ্বীপটি জোরপূর্বক দখল না করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিতে রাজি হননি, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।


পরে এক সংবাদ সম্মেলনে রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “আমরা এমন কিছু করতে যাচ্ছি যেখানে নেটোও সন্তুষ্ট হবে, আমরাও সন্তুষ্ট হবো বলে আমার ধারণা।”



সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং এআই দিয়ে বানানো ছবি বা মকআপের সাহায্যে নিজের আকাঙ্ক্ষাকে জোরালভাবে তুলে ধরা ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড আকাঙ্ক্ষা মিত্র ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে; একইসঙ্গে তা দশকের পর দশক ধরে ইউরোপের নিরাপত্তায় ঢাল হয়ে থাকা নেটো জোটকেও নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।


ওয়াশিংটনের এমন ‘জবরদস্তিমূলক চাহিদা’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে নতুন বাণিজ্য যুদ্ধ উসকে দেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করেছে, যা গত বছর আটলান্টিকের এপারের ওপারের বাজার ও কোম্পানিগুলোকে অস্থির করে তুলেছিল।


ট্রাম্পের বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট অবশ্য এ ধরনের কিছু সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ‘অতিরিক্ত আতঙ্ক’ ছড়ানো হচ্ছে।



নেটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে কথা বলার পর মঙ্গলবার ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “গ্রিনল্যান্ড জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অত্যাবশ্যক। এখানে পিছু হটার সুযোগ নেই, এ বিষয়ে সবাই একমত।”


নিজের বার্তাকে জোরালভাবে তুলে ধরতে তিনি একটি এআই দিয়ে বানানো ছবিও পোস্ট করেন, যেখানে তাকে মার্কিন পতাকা হাতে গ্রিনল্যান্ডে দেখা যাচ্ছে। আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তিনি নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন, তার পাশে থাকা মানচিত্রে কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।


গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে তিনি ‘কতদূর যেতে প্রস্তুত’, হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প পরে বলেন, “আপনারা দেখতে পাবেন।”


তিনি জানান, সুইজারল্যান্ডে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে তার অনেকগুলো বৈঠক করার কথা রয়েছে।


“সবকিছু চমৎকারভাবে সমাধান হবে বলেই আমার মনে হয়,” বলেছেন তিনি।


ট্রাম্প এ বিষয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁক্রোসহ অনেকের কিছু বার্তাও ফাঁস করেন। মাঁক্রোর বার্তাতে তাকে ‘গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প কী করতে চান’ সে বিষয়ে প্রশ্ন করতে দেখা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অবশ্য আগেই ফরাসী ওয়াইন ও শ্যাম্পেইনে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে রেখেছেন।


গ্রিনল্যান্ড ছাড়া হবে না, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী


ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের দাবির কাছে মাথা নত করে গ্রিনল্যান্ড ছেড়ে দেবেন না।


“দুর্ভাগ্যজনকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা খারিজ করেননি। যে কারণে আমরাও এটা উড়িয়ে দিতে পারছি না,” সাংবাদিকদের তিনি এ কথাই বলেছেন।


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিকের নিরাপত্তার যৌথ দায়িত্ব নিয়ে একটি চুক্তির কথা ভাবা হচ্ছে বলে দাভোসে সুইস স্কি রিসোর্টে রয়টার্সকে বলেছেন লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নসেদা।


দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে মঞ্চে ওঠা ইউরোপীয় নেতারা তাদের মহাদেশীয় শক্তির বিষয়টি বারবার উপস্থাপন করছেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) কীভাবে জবাবে দেবে এখন পর্যন্ত তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।


মাক্রোঁ বলেছেন, ‘জোরের আইনের’ কাছে মাথা নত করা ইইউ-র উচিত হবে না।


“আমাদের আরও বিকাশ দরকার, বিশ্বে আরও স্থিতিশীলতা দরকার বলে আমরাও বিশ্বাস করি। গুণ্ডামির বদলে আমরা সম্মানকেই বেছে নিই,” দাভোসে বৈঠকে বলেছেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট।


এই আয়োজনে অনেক নেতাই ইউরোপের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন এক ‘প্রচণ্ড পরিবর্তন’ ঘটার কথা বলেছেন, যার দরুন ‘নতুন ধরনের ইউরোপীয় মুক্তি’ নির্মাণ প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


দাভোসে দেওয়া বক্তৃতায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে যে কোনো মার্কিন শুল্কের তিনি তীব্র বিরোধী।


যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পাল্টায় ইউরোপ যেসব প্রতিক্রিয়ার কথা ভাবছে, তার মধ্যে থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ৯ হাজার ৩০০ কোটি ইউরোর পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ, ছয় মাসের স্থগিতাদেশ শেষে যা আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চালু হতে পারে।


অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে আছে কখনো কাজে না লাগানো ‘জোর-জবরদস্তিবিরোধী ব্যবস্থা’ বা ‘অ্যান্টি-কোয়েরশন ইন্সট্রুমেন্ট’ (এসিআই) সক্রিয় করা, যা সরকারি দরপত্র, বিনিয়োগ ও ব্যাংকিং কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার সীমিত করবে কিংবা ডিজিটালসহ সব ধরনের সেবা খাতমূলক বাণিজ্যে বিধিনিষেধ আরোপ, যে খাতে ইইউর সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক লাভ থাকে।


ইউরোপের নেতারা এমনকী চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের কথাও ভাবছেন।


গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের যে হুমকি দিয়েছেন তার বৈধতা মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিলে কী করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, “তাহলে আমরা অন্য কিছুকে কাজে লাগাবো। আমাদের হাতে অন্য বিকল্পও আছে, কিন্তু এখন আমরা যেটা করছি সেটা হলো সবচেয়ে সেরা, সবচেয়ে শক্তিশালী, সবচেয়ে দ্রুতগতির, সবচেয়ে সহজ ও কম জটিলতাসম্পন্ন।”


এদিকে দাভোসে থাকা বেসেন্ট বলেছেন, এমন এক সমাধান খুঁজে নেওয়া হবে যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।


গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের দাবি নিয়ে প্রশ্ন রাশিয়ার


আর্কটিক দ্বীপটি নিয়ে রাশিয়ার ‘কোনো আগ্রহ নেই’ বলে জানালেও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, “গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের স্বাভাবিক অংশ নয়।”


স্বায়ত্তশাসিত এ দ্বীপটির দিকে রাশিয়া ও চীনের ‘চোখ আছে’ বলে ট্রাম্প বারবারই দাবি করে আসছেন। মস্কো ও বেইজিংয়ের হুমকি দূর করতেই যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের ‘দখল চায়’ বলেও যুক্তি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।


মিত্রদের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির পর বাজার অস্থির হয়ে পড়তে পারে এ শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন শেয়ার বাজারে শেয়ার বিক্রির ধুম পড়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।


স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৭০০ ডলারের নতুন উচ্চতায়। 

শেয়ার করুন