০২ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:৪৪:৫৪ পূর্বাহ্ন


ব্রুকলিনে শিশুসহ ৩ মুসলিমের ওপর হামলায় মেগান অভিযুক্ত
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০২-০৪-২০২৬
ব্রুকলিনে শিশুসহ ৩ মুসলিমের ওপর হামলায় মেগান অভিযুক্ত


ব্রুকলিনের বেইরিজে ১২ বছর বয়সী একটি মেয়েসহ তিন মুসলিম ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বহুবার হামলার জন্য স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ৩৪ বছর বয়সী মেগান হর্নিকে গ্রেফতার ও গ্র‍্যান্ড জুরি দ্বারা অভিযুক্ত করা হয়েছে। ব্রুকলিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, এই হামলাগুলিকে হেট ক্রাইম বা ধর্ম বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

ব্রুকলিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি এরিক গঞ্জালেজ ঘোষণা করেছেন যে, ৩৪ বছর বয়সী মেগান হর্নিকে ব্রুকলিন সুপ্রিম কোর্টে হেট ক্রাইম মানদণ্ডে মারধর, হুমকি, গুরুতর হেনস্তা ও শিশুকল্যাণ বিপন্ন করাসহ একাধিক অভিযোগে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। হর্নির বিরুদ্ধে তৃতীয় ডিগ্রির হেট ক্রাইম মারধর, তৃতীয় ডিগ্রির মারধর, তৃতীয় ডিগ্রির হেট ক্রাইম চেষ্টামূলক হামলা, তৃতীয় ডিগ্রির চেষ্টামূলক হামলা, তৃতীয় ডিগ্রির হেট ক্রাইম হুমকি, দ্বিতীয় ডিগ্রির গুরুতর হেনস্থা এবং শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার মতো গুন্ডামি মূলক অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাকে ২৭ মে আদালতে ফিরে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে সুপারভাইজড রিলিজে (পর্যবেক্ষণে মুক্তি) রয়েছেন।

পুলিশ ও তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এসব ঘটনা ৩০ জানুয়ারির বিকাল প্রায় ২টা ২৫ মিনিট থেকে ২টা ৩৬ মিনিটের মধ্যে ঘটে। সব একটানা মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে।

প্রথম হামলা ঘটে ৮৯০২ ফিফথ অ্যাভিনিউর সামনে, যেখানে একজন মহিলাকে ঠেলা ও লাথি মারা হয় এবং অভিযুক্ত ইসলামবিরোধী মন্তব্য করে। তার কয়েক মিনিট পর, ৯২ স্ট্রিটের কাছে একটি বাসে ওঠার সময় ৩৯ বছর বয়সী আরেক মহিলাকে পেছন থেকে ঠেলাঠেলি করা হয়। প্রায় তৎক্ষণাত, প্রায় ২টা ৩৬ মিনিটে ১২ বছর বয়সী এক মেয়েকে একই অভিযুক্ত কাছে আকস্মিকভাবে এগিয়ে এসে মুখে আঘাত করে। পুলিশ জানিয়েছেন, তিনজনই হামলার সময় ধর্মীয় পোশাক পড়ছিলেন, এবং কেউই চিকিৎসা নিতে রাজি হননি। প্রত্যেক ঘটনায় অভিযুক্ত পালিয়ে যায় এবং প্রাথমিকভাবে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

হর্নিকে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট হামলাগুলোর তদন্তের পরে গ্রেফতার করে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেই রিজের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায় এবং সিটি ও স্টেট স্তরের রাজনীতিক নেতারা এই হামলাগুলোর কঠোর নিন্দা জানান।

এ মামলাটির বিচার চালানো হচ্ছে হেট ক্রাইমস ব্যুরোর সিনিয়র সহকারী জেলা অ্যাটর্নি শারমালী ব্রুকস‑গর্ডন কর্তৃক, ব্যুরো প্রধান কেলি এম মিউজের তত্ত্বাবধানে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এ মামলার তদন্ত এখনো চলমান এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সাক্ষ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়সহ নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এ ঘটনাটি একটি গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবাসিক এলাকায় এ ধরনের হামলা মুসলিমদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি প্রশ্ন তুলেছে। অনেকে বলছেন, এ ধরনের নাশকতা শুধু ব্যক্তিগত হামলা নয়। এটি একটি সংগঠিত বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাবের প্রতিফলন, যা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাবকে উৎসাহিত করে। স্থানীয় অভিভাবকরা জানিয়েছেন, তারা এখন তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে অতিরিক্ত সতর্ক, বিশেষ করে ইসলামী পোশাক বা ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে।

নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য নিয়মিত প্যাট্রোলিং করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করেছে। তবে নাগরিক অধিকার সংস্থাগুলো বলছে, শুধু গ্রেফতার করা যথেষ্ট নয়। তারা মনে করেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষার প্রসার, আইনশৃঙ্খলার মানসিকতা পরিবর্তন এবং বিদ্বেষভিত্তিক অপরাধ প্রতিরোধের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবাদকারীরা বলেন, ইসলাম বা মুসলিম সম্প্রদায়ের নির্বিশেষে যে কোনো ধর্ম, জাতি বা সম্প্রদায়ের মানুষকে তাদের ধর্মীয় পরিচয় বা বিশ্বাসের কারণে হামলার শিকার হওয়া উচিত নয়।

শেয়ার করুন