০৮ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ০৬:২৮:২৬ অপরাহ্ন


বাদানুবাদের পর তিন সদস্যের ওয়াকআউট
বাংলাদেশ সোসাইটির ৭ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠিত
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-০৪-২০২৬
বাংলাদেশ সোসাইটির ৭ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের


প্রবাসের অন্যতম মাদার সংগঠন হিসাবে পরিচিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনী পালে হওয়া লেগেছে। আগামী অক্টোবর মাসে এ সংগঠনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরি কমিটি কম্যুনিটির অত্যন্ত পরিচিত মুখ আবু নাসেরকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা হলেন বদরুল হোসেন খান, আহবাব চৌধুরী খোকন, রুহুল আমিন সরকার, শামসুদ্দীন আজাদ, মিয়া মোহাম্মদ দুলাল ও মিঠু হামিদ।

বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরি কমিটির নিয়মিত মাসিক সভা গত ৫ এপ্রিল রোববার বিকেল বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর পরিচলনায় সভায় অন্যান্যের মধ্য উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ভুঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভুইয়া (রুমি), সাংগঠনিক সম্পাদক ডিউক খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক রাজ, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, সাহিত্য সম্পাদক মোহাম্মদ আখতার বাবুল, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক আশ্রাব আলী খান লিটন, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান (জিলানী), কার্যকরী সদস্য-হারুন উর রশিদ (চেয়ারম্যান), জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মোহাম্মদ সিদ্দিক পাটোয়ারী, আবুল কাশেম চৌধুরী, মুনসুর আহমদ ও হাসান খান।

৭ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করতে গিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান কার্যকরী কমিটি বিভক্ত হয়ে পড়ে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনে কারো কোনো বিরোধিতা ছিল না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আবু নাসেরের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানান। সমস্যা তৈরি হয় কুমিল্লা এবং ব্রঙ্কস থেকে সদস্য নির্বাচন করতে গিয়ে। বাগবিতণ্ডার পর ব্রঙ্কস থেকে শেষ পর্যন্ত আহবাব চৌধুরী খোকনের নাম চূড়ান্ত করা হয়। তিনি গত নির্বাচনেও বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের সদস্য ছিলেন এবং ব্রঙ্কস কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করেন। ব্রঙ্কস থেকে মাহবুব আলমের নাম লিস্টের প্রথমে থাকলেও শেষ পর্যন্ত দেরদরবারে, বুদ্ধিপরামর্শে আহবাব চৌধুরী জয়যুক্ত হন। এ নিয়ে ব্রঙ্কস কম্যুনিটিতে গত নির্বাচনে যারা একটি প্যানেলের পক্ষে কাজ করেছিলেন তাদের মধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে কুমিল্লা থেকে সদস্য নির্বাচন করতে গিয়ে কমিটিতে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। প্রচন্ড বাদানুবাদের পর কুমিল্লার তিনজন সদস্য ওয়াক আউট করেন। যার মধ্যে ছিলেন কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ভূইয়া, কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূইয়া রুমি ও কার্যকরী সদস্য এ কি সিদ্দিক পাটোয়ারি। তারা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, কার্যকরী কমিটির আমরা কুমিল্লার তিন জস সদস্য। কিন্তু সভায় আমাদের কোনো মতামতকে গ্রাহ্য করা হয়নি, উল্টো পিআর পদ্ধতিতে কুমিল্লা থেকে নির্বাচন কমিশনের সদস্য করা হয়েছে। তাদের প্রশ্ন কথায় বাংলাদেশ সোসাইটি চলছে? কার্যকরী কমিটির তিনজন সদস্যের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বাইরের প্রেসক্রিপশনকে। তারা বলেন, আমেরিকার মতো জায়গায় যেন আমরা স্বৈরাচারের একটি রূপ দেখতে পেলাম। তাই আমরা ওয়াকআউট করে চলে এসেছি। আমরা জানি ভোটাভুটি হলে আমরা পারবো না। তাই ভোটাভুটিতে না গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াক আউট করেছি। বলতে পারবো অনিয়মের প্রতিবাদ করেছি। তারা আরো বলেন, আমরা আমাদের আত্মসম্মানকে বিসর্জন দিইনি। তারা বলেন, অন্যায়, নিয়ম দেখলেই আমরা প্রতিবাদ করবো। অন্যদিকে মিয়া মোহাম্মদ দুলালের সদস্য পদ নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, তিনি সদস্য নন। এ ব্যাপারে মিয়া মোহাম্মদ দুলাল বলেন, আমি সদস্য। সাধারণ সভায় আমি স্বাক্ষর করে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন আগামী অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হবে। সোসাইটির আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে বা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হলে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সদস্য নিবন্ধন সম্পূর্ণ করতে হবে।

এক নজরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার

আবু নাসের অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ সোসাইটি ইউএসএ ইনকের তিনবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসাবে এবং কয়েকবার ট্রাস্টি বোর্ডের মেম্বার হিসেবে এবং পিকনিক কমিটির চেয়ারম্যান ও অডিট কমিটির প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির তিনবারের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসাবে ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির নির্বাচনে সালামত-নূর হোসেন পরিষদের এবং পরবর্তী সময়ে ওবায়দুল হক-তাজু মিয়া পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশ সোসাইটির কমিশনার কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-আজম পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে, পরবর্তী সময়ে নয়ন-আলী পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসাবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

শেয়ার করুন