২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৪৭:৪৫ পূর্বাহ্ন


বাংলাদেশ ডে প্যারেডে বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০-০৫-২০২৬
বাংলাদেশ ডে প্যারেডে বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি বক্তব্য রাখছেন এম আজিজ


বাংলাদেশি কম্যুনিটির অত্যন্ত পরিচিত মুখ, মূলধারার রাজনীতিবিদ, জেবিবিএর সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মানের আয়োজন ও নেতৃত্বে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ ডে প্যারেড। এর আগেও বাংলাদেশ ডে প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার ধারাবাহিকতা ছিল না। এ নিয়ে টানা দুবার বাংলাদেশ ডে প্যারেডের আয়োজন ফাহাদ সোলায়মানের। সহযোগিতায় ছিল জেবিবিএ, বাপাসহ অন্যান্য সংগঠন। এবারের বাংলাদেশ ডে প্যারেড ছিল অনিন্দ সুন্দর প্যারেডে। এ প্যারেডে পুরো বাংলাদেশকে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ছিল বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐহিত্য এবং শিল্প-সংস্কৃতিকে উপস্থাপন। দিন যত যাচ্ছে বাংলাদেশ ডে প্যারেডের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আকর্ষণ তত বাড়ছে। আবার জৌলসও বাড়ছে।

গত ১৭ মে নিউ ইয়র্কের আবহাওয়া ছিল প্রচণ্ড গরম। সেই গরম আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে বাঙালি সাজে, বাঙালিয়ানায় হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ ডে প্যারেডে। বাংলাদেশ ডে প্যারেডটি বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে অনুষ্ঠিত হয়। জ্যাকসন হাইটসের ৬৯ স্ট্রিট থেকে এই প্যারেড শুরু হয় এবং ৮৭ স্ট্রিটে গিয়ে শেষ হয়। এবারের পুরো আয়োজনটি ছিল চমৎকার। কোথাও কোনো ছন্দপতন দেখা যায়নি। যারা কাজ করেছেন তারা অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। প্যারেডে সাধারণ যা থাকে সবকিছুই ছিল। নানা রঙের পোস্টার, বাংলা নববর্ষের কার্টুন, নৃত্য, সংগীত, ঢাকঢোল সবকিছুর আয়োজন ছিল। ছিল না কি? সোজা উত্তর সবই ছিল। এবারের বাংলাদেশ ডে প্যারেডে ব্যাপক সংখ্যক সংগঠন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। মানুষের রঙিন উপস্থিতি, রঙিন উপস্থাপন পুরো এলাকাকে রাঙিয়ে তোলে। আনন্দে গানে, নৃত্যে- ঢাকঢোলে যখন প্যারেড এগিয়ে যাচ্ছিল, সেই সময় এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছিল। হৃদয়ে ধারণ করা বাংলাদেশটি যেন চোখের সামনে ফুটে ওঠে। অপ্রাপ্তির বেদনা যেন প্রাপ্তিতে ভরে ওঠে। দেখতে পেল প্রবাসে বাংলাদেশ। ফুটে উঠেছে গ্রাম বাংলার চিরায়াত চিত্র, সেই সঙ্গে বাঙালির ঐতিহ্য। প্যারেডে মূলধারার রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও নায়ক নায়িকা এবং শিল্পীরা আসেন। তারা যখন রাস্তা অতিক্রম করছিলেন, তখন ভিন দেশিরা তালি বাজিয়ে তাদের উৎসাহিত করছিলেন।

মেলার সদস্য সচিব ফাহাদ সোলায়মান, কনভেনর গিয়াস আহমেদ, চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এবং সোনিয়া সিরাজের উপস্থাপনায় প্যারেডে গ্র্যান্ড মার্শাল ছিলেন এনওয়াই হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান এম আজিজ, ঠিকানার চেয়ারম্যান এম এম শাহীন। অতিথি হিসেবে ছিলেন গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ। কংগ্রেসম্যান গ্রেস মেং, কংগ্রেসম্যান টম সুয়াজি, অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগা, জেসিকা গাঞ্জালেস রোহাস, চিফ কো-অর্ডিনেটর অল কাউন্ট্রি হোক কেয়ারের প্রেসিডেন্ট আব্দুল কাদের শিশির, চিফ ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর ফেমড রকি, প্যারেড কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান, মার্শাল হিসেবে ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নূরুল আজিম, শাহজাহদী পারভীন সারা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্র নাথ রায়, শাহ গ্রুপের প্রেসিডেন্ট শাহ জে চৌধুরী, বাপার প্রেসিডেন্ট প্রিন্স আলম, পুলিশ অফিসার জামিল সরওয়ার, ফাতেমা প্রিসিলা, অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, সজল, ইমন, কল্লোল, ফ্যাশন ডিজাইনার পিয়াল, অভিনেত্রী মৌসুমী, অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান, তানজিন তিশা, নওশীন, শিল্পী শুভ্র দেব প্রমুখ।

কংগ্রেসম্যান গ্রেস মেয় বলেন, ক্রমবর্ধমান কমিউনিটির সদস্য হিসেবে বাংলাদেশিরা নিউ ইয়র্ক সিটিকে বসবাসের চমৎকার একটি জনপদে পরিণত করতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছেন। তাদের আমি সর্বত্র দেখতে পাই। আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের পথে মার্কিন রাজনীতি ও প্রশাসনের সম্পৃক্ততার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, আপনাদের প্রমাণ করতে হবে স্বপ্নের দেশে নয়, স্বপ্ন বাস্তায়নের দেশে। যদি ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি বলেন, আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং আগামী দিনেও থাকবো।

টম সুয়াজি বাংলাদেশিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ সব আয়োজনের মাধ্যমে মূলত আমেরিকাকেই সমৃদ্ধ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার বাবা মা ইতালি থেকে এ দেশে এসেছে। আমি জানি ইমিগ্র্যান্টদের সংগ্রাম। আমি সব সময় তোমাদের পাশে আছি। তিনি আরো বলেন, যেখানেই থাকেন না কেন আপনার শিকড়কে ভুলে যাওয়া চলবে না।

গ্র্যান্ড মার্শাল এম আজিজ বলেন, আমরা সব সময় ভালো কাজের সঙ্গে আছি এবং আগামীতেও থাকবো। তিনি বলেন, আজকে আমরা সবাই ভিন্ন একটি দেশে আমাদের বাংলাদেশকে তুলে ধরেছি। বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং কৃষ্টি কালচার তুলে ধরেছি। তিনি বলেন, আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে আগামী দিনে আরো বিশাল আকারে বাংলাদেশ ডে প্যারেড করতে পারবো।

চিফ অ্যাডভাইজার গিয়াস আহমেদ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজকে আমরা নতুন ইতিহাস তৈরি করেছি। ঐক্যবদ্ধভাবে জন্মভূমি বাংলাদেশকে তুলে ধরেছি।

শাহ নেওয়াজ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ডে প্যারেডের সঙ্গে আমরা আছি এবং আগামীতেও থাকবো। তিনি বলেন, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে আগামীতে আরো বড় পরিসরে প্যারেড করতে পারবো।

চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী বাংলাদেশ ডে প্যারেড সফল এবং সার্থক করার জন্য যারা সহযোগিতা করেছেন, অংশগ্রহণ করেছেন তাদের ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মেম্বার সেক্রেটারি ফাহাদ সোলায়মান সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং আগামীর আয়োজনে এবারের মতো সবার সহযোগিতা কামনা করেন। যদিও আয়োজকদের সবার মুখে ছিল হাসির ঝিলিক এবং তৃপ্তি ঢেকুর। জয়তু! আয়োজকরা।

বাংলাদেশ ডে প্যারেডে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম ফজলুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর প্রেসিডেন্ট শাকিল মিয়া, ঢাকা জেলা সমিতির সভাপতি দুলাল বেহেদু, সাধারণ সম্পাদক কাজী আমিনুল ইসলাম স্বপন, নূরুল আমিন, লায়নস ক্লাবের সভাপতি জেফ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা তপন, লায়নস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব, জেবিবিএর সাবেক সভাপতি আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম, জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নিজামুল হক, কম্যুনিটি অ্যাকটিভিস্ট নাসির আলী খান পল, আইনবিশেষজ্ঞ রফিক আহমেদ, মনির হোসেন, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের সদস্য মিয়া মোহাম্মদ দুলাল, প্রবাসী মতলব সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কবীর রতন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি কাজী আজম, বর্তমান সভাপতি আবু তাহের, কামাল হোসেন মিঠু, আরিফ হোসেন, আবুল কাশেম, আহসান হাবিব, জাবেদ উদ্দিন, আবুল কাশেম, খলিলুর রহমান, মামুন মিয়াজি, এবি সিদ্দিক পাটোয়ারি, সাহিত্যিক হুমায়ুন কবীর ঢালি, শিল্পী কামরুজ্জামান বকুল, আফতাব জনি, শাহ মহাবুব, মঈনুজ্জামান চৌধুরী, পুলিশ অফিসার এরশাদুল বারী, আহসান হাবিব, মফিজুল ইসলাম ভূইয়া রুমি, সৈয়দ এনায়েত আলী, খুলনা সমিতির সভাপতি ওয়াহেদ কাজী এলিন, বক্সার সেলিম, মোহাম্মদ সোহেল হোসেন, মূলধারার রাজনীতিবিদ আমিন মেহেদী, আনিসুল কবীর জাসির, নওশাদ হোসেন, আব্দুর রশিদ বাবু, নূরে আলম জিকো, অরিফুর রহমান, আবুল কাশেম চৌধুরী, মজিবর রহমান, রেজওয়ান হক, লিটন আহমেদ, মাবহবুবুর রহমান, দেওয়ান কাউছার, সওেয়ার খান বাবু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, অ্যাসেম্বলিম্যান প্রার্থী শামসুল হক, হায়রাম মনসুরাত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও লায়ন মফিজুর রহমান, বগুড়া সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, জাকির হোসেন বাচ্চু, এস এম সোলায়মান পাটোয়ারি, সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণ, শো টইমের খায়রুল কবীর খোকন, মনিরুল ইসলাম, একেএম রফিকুল ইসলাম ডালিম, জহির মোল্লা, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের সদস্য রুহুল আমিন সরকার, ডা. বর্ণালী হাসান, মূলধারার রাজনীতিবিদ দিলীপ নাথ, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা ফারুক হোসেন মজুমদার, মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর সমিতির সভাপতি কাজী সেলিম খান, সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

এছাড়াও বাপা, প্রবাসী মতলব সমিতি, মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর সমিতি, পোস্টাল অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন অংশগ্রহণ করে।

শেয়ার করুন