২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৪৭:৪৫ পূর্বাহ্ন


বাংলাদেশী মা-ছেলেকে খুন : জেমসের বিচার শুরু
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০-০৫-২০২৬
বাংলাদেশী মা-ছেলেকে খুন : জেমসের বিচার শুরু সন্তানের সঙ্গে সাবরিনা ও খুনি শেইন জেমস জুনিয়র


টেক্সাসের অস্টিন শহরে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত শেইন জেমস জুনিয়র -এর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও মানসিক সক্ষমতা সংক্রান্ত শুনানির পর আদালত তাকে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য যোগ্য ঘোষণা করেছে বলে জানা গেছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বরে সম্ভাব্য জুরি ট্রায়াল শুরু হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে, যখন অস্টিন ও সান অ্যান্টোনিও এলাকায় একাধিক স্থানে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবরিনা রহমান, যার মৃত্যু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক বিবরণ অনুযায়ী, সাবরিনা নিজের ছোট সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন বলে দাবি করা হয়, যা ঘটনাটিকে আরো হৃদয়বিদারক করে তোলে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে প্রথমে অভিযুক্তকে বিচারের জন্য মানসিকভাবে অক্ষম ঘোষণা করা হয়েছিল এবং তাকে চিকিৎসার জন্য একটি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসা ও মূল্যায়নের পর ২০২৫ সালে তাকে পুনরায় বিচারের উপযুক্ত ঘোষণা করা হয় এবং কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়।

অভিযুক্ত শেইন জেমস জুনিয়র ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর টেক্সাসের অস্টিনে এক ভয়াবহ সহিংসতা চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ছয় জনকে খুন করে। তদন্ত অনুযায়ী, শেইন জেমস জুনিয়র প্রথমে সান অ্যান্টোনিওর কাছে বেক্সার কাউন্টিতে নিজের বাবা-মা ফিলিস জেমস (৫৫) ও শেইন জেমস সিনিয়র (৫৬)কে হত্যা করেন। এরপর তিনি গাড়ি চালিয়ে অস্টিনে আসেন এবং একাধিক জায়গায় হামলা চালিয়ে আরো চারজনকে হত্যা করেন, যাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবরিনা রহমান (২৪), তার প্রতিবেশী ইমানুয়েল পপ বা (৩২) এবং লরেন ও ক্যাথেরিন শর্ট নামের দুই বোন। এ হামলায় একাধিক ব্যক্তি আহত হন এবং দুজন পুলিশ কর্মকর্তাও গুলিবিদ্ধ হন।

প্রসিকিউটরদের মতে, যেহেতু শেইন জেমসের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো ক্যাপিটাল মার্ডার অর্থাৎ একাধিক হত্যাকাণ্ডের, তাই তিনি দোষী প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন।

বর্তমানে টেক্সাসের ট্রাভিস কাউন্টি আদালতে মামলাটির শুনানির প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, জেমসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মার্ডার, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এবং গুরুতর হামলার অভিযোগ। প্রসিকিউশন পক্ষ এখনো মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি বলে জানা গেছে।

আদালত সূত্র আরো জানায়, মামলার সম্ভাব্য জুরি ট্রায়াল আর কোনো আইনি বাধা না থাকলে ২১ সেপ্টেম্বরে শুরু হতে পারে। তবে প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা এখনো মানসিক অসুস্থতার ভিত্তিতে ডিফেন্স কৌশল গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।এই ঘটনায় সাবরিনা রহমানের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে। পরিবার ও স্থানীয়রা দাবি করছেন, এটি ছিল একটি অপ্রত্যাশিত ও নির্মম হামলা, যেখানে একজন মা নিজের সন্তানকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারান।

শেয়ার করুন