২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৪৮:১০ পূর্বাহ্ন


অভিবাসীকে গুলির ঘটনায় আইস এজেন্টের বিরুদ্ধে মামলা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২১-০৫-২০২৬
অভিবাসীকে গুলির ঘটনায় আইস এজেন্টের বিরুদ্ধে মামলা প্রতীকী ছবি


মিনেসোটা স্টেটে ভেনেজুয়েলান এক অভিবাসীকে গুলি করার ঘটনায় ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর এক এজেন্টের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত এজেন্ট ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রো (৫২)-এর বিরুদ্ধে চারটি সেকেন্ড ডিগ্রি অ্যাসল্ট এবং একটি মিথ্যা অপরাধ রিপোর্ট দাখিলের অভিযোগ এনেছে মিনেসোটার হেনেপিন কাউন্টি অ্যাটর্নি অফিস। ১৮ মে সোমবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হেনেপিন কাউন্টির অ্যাটর্নি মেরি মরিয়ার্টি বলেন, তার ফেডারেল ব্যাজ তাকে মিনেসোটায় সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় থেকে রক্ষা করতে পারে না। আদালত কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে এবং তার জামিন নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ডলার।

ঘটনাটি ঘটে গত ১৪ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে। ওই রাতে আইস এজেন্টরা ভেনেজুয়েলান নাগরিক হুলিও সোসা সেলিস এবং আলফ্রেদো আলেহান্দ্রো আলহোরনাকে লক্ষ্য করে একটি অভিবাসন অভিযান পরিচালনা করছিল। কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, সোসা সেলিস ও তার সহযোগী নিজেদের বাসার দিকে দৌড়ে গেলে কাস্ত্রো বাড়ির সামনের দরজার দিকে গুলি চালান। গুলিটি দরজা ভেদ করে সোসা সেলিসের পায়ে লাগে। পরে সেটি একটি ক্লোজেট ভেদ করে একটি শিশুর শোবার ঘরের দেয়ালে গিয়ে আটকে যায়।

প্রসিকিউটর মরিয়ার্টি বলেন, কাস্ত্রো জানতেন যে দরজার ভেতরে মানুষ ছিল, তবুও তিনি গুলি চালান। তারা কারও জন্য হুমকি ছিল না। তিনি আরো বলেন, তিনি কোনো শারীরিক আক্রমণের শিকার হননি। তাকে কোদাল বা ঝাড়ু দিয়ে আঘাত করা হয়নি। বাস্তবে তাকে কেউ স্পর্শও করেনি।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) প্রথমদিকে দাবি করেছিল, দুই ভেনেজুয়েলান ব্যক্তি কোদাল ও ঝাড়ু নিয়ে এজেন্টদের ওপর হামলা করেছিলেন। সেই অভিযোগে সোসা সেলিস ও আলহোরনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তবে পরে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি হাতে কোদাল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও পরে সেটি ফেলে দেন এবং আরেকজন খালি হাতে বাড়ির দিকে দৌড়ে যান। ভিডিওতে কোনো সময়েই এজেন্টদের ওপর হামলার দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি।

নতুন ভিডিও প্রমাণ সামনে আসার পর মিনেসোটা প্রসিকিউটররা বলেন, আগের অভিযোগের সঙ্গে ভিডিওর তথ্য গুরুতরভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। পরে দুই অভিবাসীর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ স্থায়ীভাবে খারিজ করে দেওয়া হয়। মরিয়ার্টি আরো জানান, সোসা সেলিস ও আলহোরনা দুজনই মিনেসোটায় বৈধভাবে অবস্থান করছিলেন এবং পুরো ঘটনাটি ছিল ভুল পরিচয়ের ফল। এই মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন অভিযানের কার্যক্রম নিয়ে।

ঘটনার পর ফেডারেল সংস্থাগুলোর অসহযোগিতার কারণেও তদন্ত বিলম্বিত হয়। রাজ্য তদন্তকারীরা অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট দুই এজেন্টের নামসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ সময় অস্বীকৃতি জানায়। শেষ পর্যন্ত ১৮ মে প্রথমবারের মতো অভিযুক্ত এজেন্টের পরিচয় প্রকাশ করা হয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে ডিএইচএসের ভারপ্রাপ্ত আইসিই পরিচালক টড লায়নস এক বিবৃতিতে বলেন, ভিডিও পর্যালোচনায় দেখা গেছে দুই কর্মকর্তা শপথের অধীনে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, শপথের অধীনে মিথ্যা বলা গুরুতর ফেডারেল অপরাধ। তদন্ত শেষ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।

এদিকে কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের মাত্র এক মাস আগে মিনেসোটায় অপারেশন মেট্রো সার্জ-এ অংশ নেওয়া আরেক আইসিই এজেন্ট গ্রেগরি ডনেল মরগান জুনিয়রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি চিহ্নবিহীন একটি এসইউভি চালিয়ে হাইওয়ের কাঁধ দিয়ে বেআইনিভাবে গাড়ি চালিয়ে অন্য একটি গাড়ির পাশে গিয়ে দুই সাধারণ নাগরিকের মাথায় বন্দুক তাক করেন। পরে আতঙ্কিত ভুক্তভোগীরা ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। হেনেপিন কাউন্টি অ্যাটর্নি অফিস বলেছে, কোনো ফেডারেল এজেন্টের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করলে তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে মিনেসোটায় প্রায় ৩ হাজার ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন করা হয়। অপারেশন মেট্রো সার্জ নামে পরিচালিত এই অভিযানের সময় একের পর এক সহিংস ঘটনার অভিযোগ উঠে আসে।

এ অভিযানের মধ্যেই মিনিয়াপোলিসে পৃথক ঘটনায় দুই মার্কিন নাগরিক ৩৭ বছর বয়সী রেনি গুড এবং ৩৭ বছর বয়সী অ্যালেক্স প্রেট্টিফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে নিহত হন। রেনি গুড ছিলেন ছোট শিশুদের জননী এবং অ্যালেক্স প্রেট্টি স্থানীয় ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের নার্স। ঘটনাগুলোর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব ঘটনাকে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের ভয়াবহ উদাহরণ বলে আখ্যা দেয়। ডেমোক্র‍্যাটদের পাশাপাশি কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। মিনেসোটার এই ঘটনাগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং ফেডারেল এজেন্টদের আইনি দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

শেয়ার করুন