০৮ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ০৬:২৭:৪১ অপরাহ্ন


জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত সরকারের
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-০৪-২০২৬
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত সরকারের


মধ্যপ্রাচ্য এবং পারস্য উপসাগর এলাকায় চলমান যুদ্ধের ভয়াবহ বিশ্বপ্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে বহুমুখী সংকট সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট বিশেষত গ্রীষ্মের জ্বালানি চাহিদা নিয়ে সমস্যা ছিল চরমে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে থিতু হওয়ার আগেই যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি টালমাটাল হয়ে পড়ে। সরকারি সংস্থাগুলোর দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এবং কিছু তরিঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়ায় জ্বালানি নিয়ে প্যানিক সৃষ্টি হয়।

অশুভ মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার অপপ্রয়াসে জ্বালানি অবৈধভাবে মজুত শুরু করে। সরকার চাপে থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে জ্বালানি মূল্য অপরিবর্তিত রেখে এবং জ্বালানি সাপ্লাই চেনে তদারকি নিবিড় করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে শুরু করে। তবে জ্বালানির অগ্নিমূল্য এবং জ্বালানি আমদানি চেন সংকুচিত হয়ে পড়ায় এবং একই সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন জ্বালানি বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়তে শুরু করায় সরকার কিছু আপতকালীন ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মূল লক্ষ্য হতে হবে জ্বালানি বিদ্যুৎ চাহিদা নিয়ন্ত্রণ, সবক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রতা সাধন এবং জ্বালানি বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতা নিশ্চিত করা। সরকার এগুলো মাথায় রেখে নিম্ন বর্ণিত ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে।

সরকারি বেসরকারি অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা নির্ধারণ। ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠাগুলো ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত চলবে। এক্ষেত্রে সরকার বিবেচনা করেছে কি না, যেসব সরকারি তাদের কাজের জন্য মধ্যপ্রাচ্য, দূরপ্রাচ্য বা ইউরোপের সঙ্গে নিত্য যোগাযোগ করে টাইম ডিফারেন্সের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হবে কি না। আমি ৫০ শতাংশ অফিস ওয়ার্কিং ফ্রম হোম সুপারিশ করবো। বহির্বিশ্বের সঙ্গে সংগতি রেখে সাপ্তাহিক ছুটি শনি, রবি করে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ওয়ার্কিং ফ্রম হোম অন্তত অক্টোবর পর্যন্ত চালু করার সুপারিশ করছি। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শনি-রোববার খোলা রেখে সোম-মঙ্গলবার ছুটি এবং বুধ-বৃহস্পতিবার অনলাইন করার সুপারিশ করছি।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত

দীর্ঘদিন থেকেই সুপারিশ করেছি। বাংলাদেশের মতো জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকটের দেশে মধ্যরাত পর্যন্ত আলো ঝলমলে পরিবেশে বিপণিবিতানগুলো চালু রাখা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য ছিল না। অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশে সপ্তাহে ৬ দিন সন্ধ্যা ৬টা সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান (খাবার এবং ওষুদের দোকান ছাড়া) বন্ধ হয়ে যায়। শুধু বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বাংলাদেশেও শনিবার বিপণিবিতানগুলো রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকতে পারে। মোটকথা সন্ধ্যায় পিক সময়ে লাইটিং লোড কুলিং লোড কমাতে হবে। সেক্ষেত্রে সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সঠিক আছে। বিভিন্ন অভিজাত ক্লাবসমূহেও রাতে আলোকসজ্জা এবং বিদ্যুতের বাড়তি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ফ্লাড লাইট জ্বালিয়ে খেলাধুলো না করে দিনে আয়োজন করতে হবে।

সরকারি যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ জরুরি। মন্ত্রী, সচিব বা সচিব মর্যাদার কর্মকর্তা এবং সংস্থা প্রধান ছাড়া সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার বিধি চালু করলে জ্বালানি ব্যবহার কমে আসবে। ইতিমধ্যে সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গ্রীষ্মের সময় বাংলাদেশে সরকারি কর্মকতাদের স্যুট-টাই ব্যবহার পরিহার করলে অফিস এসি ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হবে। একই সঙ্গে সরকারি কার্যালয়সমূহে অকারণ সভা-সেমিনার সীমিত করা প্রয়োজন।

দেখলাম সরকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এর মাঝেও খবর এসেছে ইংরেজি কথা বলা শিখতে নাকি থাইল্যান্ডের প্রমোদ নগরী পাতাইয়া যাচ্ছে সরকারি কর্মকর্তারা। এগুলো পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। জ্বালানি তেল, গ্যাস, কয়লা কিনতে অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে। কৃষি, শিল্প, বাণিজ্যকে বাঁচাতে সরকারকে জ্বালানি, বিদ্যুৎ আমদানি করতেই হবে। আবার জনস্বার্থে জ্বালানি বিদ্যুতের মূল্য সহনীয় রাখতে হবে। আমি সরকারের ঘোষিত পদক্ষেপগুলোকে সাধুবাদ জানাচ্ছি এবং একই সঙ্গে বাস্তবায়নকালে নিবিড় তদারকির অনুরোধ করছি।

শেয়ার করুন