০৮ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ০৬:২৭:৩৫ অপরাহ্ন


বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে অস্বস্তিতে বিএনপি
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-০৪-২০২৬
বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে অস্বস্তিতে বিএনপি


রাজনীতি এখন বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের দিকে। আগামী ৯ এপ্রিল এ আসনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপনির্বাচন। বিএনপির চেয়াররম্যান তারেক রহমান এ আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন। আর এখন এই আসনে নতুন করে ভোটের আয়োজন করা হয়েছে যা এখন ইজ্জতের লড়াই বলে প্রচারণা হচ্ছে। আবার বলা হচ্ছে আসনটি তাদের অস্তিত্ব ও মর্যাদার লড়াই।

এবারের মূল লড়াই হচ্ছে ধানের শীষের রেজাউল করিম বাদশার সঙ্গে শহর জামায়াতের অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের। আরও যারা আছেন তারা হলেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) আল-আমিন তালুকদার। তিনি ফুলকপি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। 

বিভিন্ন সময়ের তথ্য ঘেটে দেখা যাচ্ছে বগুড়া-৬ আসনটি ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা চারবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়াই জয়ী হয়েছিলেন। জয়ের ব্যবধানও ছিল অনেক। তবে ২০০৮ সালের খালেদা জিয়া ৩ লাখ ১২ হাজার ৪৪৪ কাস্টিং ভোটের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯২ ভোট পান। ওই সময়ে যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী-লীগের মমতাজ উদ্দিন পেয়িছিলেন ৭৪ হাজার ৬৩৪ ভোট। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২ লাখ ১৬ হাজার ২৩৪ ভোট পেয়ে বিজয় হন। আর জামায়াত প্রার্থী সোহেল পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। এখানে ভোট বিশ্লেষণ করা হলে দেখা যাবে এই আসনে জামায়াতের ভোট আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। আর এমনই পরিসংখ্যানই নির্বাচনে জামায়াতকে উৎসাহিত করছে অন্যদিকে বিএনপি’র কপালে ঘাম বাড়াচ্ছে। 

মাঠের প্রচারণার বিভিন্ন দিক

এই ক্ষুদ্র একটি ভোট বিএনপির কপালে যেভাবে ভাজ এনে দিচ্ছে তা অনেককে বিষ্ময়ের সৃষ্টি করছে। প্রথমত এই আসনটি ছেড়ে দেওয়াকে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এ-ই আসনের প্রতি বা খোদ বগুড়ার প্রতিই বিএনপি মায়া নেই। বগুড়ার সন্তান হয়েও প্রধানমন্ত্রী আসনটি রাখতে চাইলেন না। তাছাড়া জিয়ার পরিবারের কিংবা আরও ঘনিষ্ঠ কাউকে এখানে মনোনয়ন না দেওয়া নিয়েও নানান ধরনের কথা আছে। তা-ই প্রধানমন্ত্রী তারেকর রহমানই যদি এই আসন ছেড়ে দেন, তার বদলে অন্য কাউকে দিয়ে বগুড়াবাসীর আর উন্নতিরই-বা কি হবে? জানা গেছে, এই আবেগময়ী বক্তব্য দিয়ে নির্বাচনে ভোটের মাঠে বিএনপিকে ঘায়েলের চেষ্টা হচ্ছে। আর এই ধরনের আবেগের কারণে কারো কারো মতে, এই আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে ভোটার উপস্থিতিই কমে যেতে পারে। সে-ই ক্ষেত্রে লাভের ফসল জামায়াত তুলে নেওয়ায় মহাব্যস্ত। যদিও বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি। অন্যদিকে বগুড়া-৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও বগুড়া শহর শাখার আমির। 

উপনির্বাচনটি যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনকে কেউ কেউ বলছেন মর্যাদার লড়াই। কারো কারো মতে, এই লড়াই মূলত বিএনপি ও জামায়াত-কে রাজনৈতিক ময়দানে হয়ত-বা মুখোমুখি লড়াইয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তবে এই নির্বাচনের ফলা একটি মাত্র নির্বাচন একারণে গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এটি হবে বিএনপি সরকারের অধীনে প্রথম নির্বাচন। কেউ কেউ একে এখনই টেস্ট কেইস বলে অভিহিত করতে চান। তবে গুরুত্বপূর্ণ একারণে যে, এতে হারলে বলা হবে বিএনপি’র জনপ্রিয়তায় একমাসেই ধ্বস নামতে শুরু করেছে। আবার এই নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হলে বলা হবে রাজনৈতিক দলের অধীনে আসলে কোনো নির্বাচন নিরপেক্ষ না। আবার এই নির্বাচনে জামায়াত জয়ী হয়ে গেলে বলা তবে এই পুরো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই তাদের বিজয় হতো, যা কেড়ে নেওয়া হয়েছে ইলেকশান ইঞ্জিনিয়ারিং মাধ্যমে। অন্যদিকে জুলাই সনদ কার্যকর ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জুলাই সনদ কার্যকর ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য সংসদের ভেতরের পাশাপাশি রাজপথ কাঁপাতে বদ্ধপরিকর। বলা হচ্ছে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ স্বীকৃত। কিন্তু সেই গণভোটকে উপেক্ষা করছে সরকার। এমন পরিস্থিতিকে কেউ কেউ ’শাঁখের করাত’ এর মতো অবস্থা। তা-ই বিএনপি ক্ষমতায় বসার পরপরই অতি অল্প সময়েই এই নির্বাচন সরকারকে একধরনের অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে দিচ্ছে বলে কারো কারো অভিমত।

শেয়ার করুন