০৯ জানুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার, ০৮:২০:৫৯ অপরাহ্ন


লেকেন রাইলি আইন
সাড়ে ১৭ হাজারের বেশি অপরাধী অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩১-১২-২০২৫
সাড়ে ১৭ হাজারের বেশি অপরাধী অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি


যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ২৪ ডিসেম্বর জানিয়েছে, লেকেন রাইলি আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৭ হাজার ৫০০-এর বেশি অপরাধী অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার ও আটক করা হয়েছে। ২২ বছর বয়সী জর্জিয়ার নার্সিং শিক্ষার্থী লেকেন হোপ রাইলিকে স্মরণ করে এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে সকালের জগিংয়ের সময় তিনি নিহত হন। হত্যার দায়ে ভেনেজুয়েলার নাগরিক হোসে আন্তোনিও ইবারা অভিযুক্ত হন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার ক্যাম্পাসসংলগ্ন বনাঞ্চলে নিয়মিত জগিংয়ের সময় লেকেন রাইলি নিখোঁজ হন। পরে একই দিন তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে, ২৯ জানুয়ারি, লেকেন রাইলি আইনে স্বাক্ষর করেন। আইন অনুযায়ী, চুরি, দোকানচুরি (শপলিফটিং), ডাকাতি (বার্গলারি) ও লারসেনির মতো অপরাধে গ্রেফতার হওয়া অবৈধ অভিবাসীদের বাধ্যতামূলকভাবে আটক করতে হবে। পাশাপাশি, ফেডারেল অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের ফলে যদি কোনো স্টেটে জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে, তাহলে সংশ্লিষ্ট স্টেট সরকার ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে।

ডিএইচএস জানায়, সম্প্রতি ‘অপারেশন অ্যাঞ্জেলস অনার’ নামে ১৪ দিনের একটি দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়, যা লেকেন রাইলির স্মরণে চালু করা হয়। এই অভিযানে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্মকর্তারা ১,০৩০ জন অপরাধী অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন,১৭টি লারসেনি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এক কিউবান নাগরিক, শিশু নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ও এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর গুরুতর হামলার দায়ে দণ্ডিত এক গুয়াতেমালান নাগরিক, যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত এক জ্যামাইকান নাগরিক এবং অপহরণ ও মাদক মামলায় দণ্ডিত এক মেক্সিকান নাগরিক।

ডিএইচএস দাবি করেছে, লেকেন রাইলির হত্যাকারী ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ নামের একটি ভয়ংকর অপরাধচক্রের সদস্য ছিলেন। এই গোষ্ঠীটিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর ‘ফরেন টেররিস্ট অর্গানাইজেশন’ ও ‘স্পেশালি ডিজনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট’ হিসেবে ঘোষণা করে। ডিএইচএসের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বাইডেন প্রশাসনের সময় গ্রেফতার হলেও পরে মুক্তি পান। নিউইয়র্কে এক শিশুকে আঘাত করার অভিযোগে এনওয়াইপিডি গ্রেফতারের পরও তাঁকে পুনরায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

ডিএইচএস সচিব ক্রিস্টি নোম এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের ক্ষমতায়ন করেছেন, যাতে আমরা সহিংস অপরাধে জড়িত লক্ষ লক্ষ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করে দেশ থেকে সরিয়ে দিতে পারি। আমরা লেকেনকে ফিরিয়ে আনতে পারব না, তবে ভবিষ্যতে এমন নৃশংস অপরাধ ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তবে আইনটি নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে। ট্রাম্প আইনটিতে স্বাক্ষরের আগে এসিএলইউ অভিযোগ করে, লেকেন রাইলির মৃত্যুকে ব্যবহার করে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ভুয়া ও বিদেশি-বিদ্বেষমূলক বয়ান তৈরি করা হচ্ছে।

এসিএলইউ’র সিনিয়র সীমান্তনীতি পরামর্শক সারা মেহতা বলেন, এই আইন অসহিংস অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরও বাধ্যতামূলক আটক করবে-এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি তাদের হুমকি মনে না করে।তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে, ২২ জানুয়ারি, হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইনটিকে দ্বিদলীয় ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, আইনটি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় হাতিয়ার দেবে।ডিএইচএস আরও জানায়, চলতি প্রশাসনের অধীনে ইতোমধ্যে লক্ষাধিক ‘অপরাধী অবৈধ অভিবাসী’কে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন অপহরণকারী, ধর্ষক, মাদক পাচারকারী ও গ্যাং সদস্য। শিকাগো ও মিডওয়েস্ট অঞ্চলে ‘অপারেশন মিডওয়ে ব্লিটজ’-এ সাড়ে ৪ হাজারের বেশি এবং ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে ‘অপারেশন ব্ল্যাক রোজ’-এ ১ হাজার ২৪০-এর বেশি অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় ডিএইচএস।

শেয়ার করুন