অভিযুক্ত মাইকেল অ্যাবেল ডোমিঙ্গেজ
নর্থ ফিনিক্সের ইসলামিক সেন্টার অব নর্থ ফিনিক্সে রমজানের তারাবি নামাজ চলাকালীন মসজিদ লক্ষ্য করে গুলি ও নামাজ থেকে ফেরার পথে শিশুদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ছোড়ার অভিযোগে ৩০ বছর বয়সী মাইকেল অ্যাবেল ডোমিঙ্গেজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় মসজিদের পার্কিং এলাকায় মুসলিম পরিবার ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল। হামলার ফলে মুসলিম সম্প্রদায়ে আতঙ্ক এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ৭ মার্চ শনিবার। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডোমিঙ্গেজ একটি গাড়ি থেকে বের হয়ে পার্কিং লটের যানবাহনের দিকে পেইন্টবল গুলি ছুড়েছিলেন। হামলার সময় গাড়িগুলোতে আঘাতের ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং মুসলিম পরিবারের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ডোমিঙ্গেজকে দুদিন পর মার্চ ৯ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় পুলিশ প্যালেট স্টাইলের আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে, যা হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ডোমিঙ্গেজের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে উত্তেজক এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে সম্পত্তি ক্ষতি, ফিলানি ওয়ারেন্ট অনুযায়ী অপরাধ এবং হামলাকে হেইট ক্রাইম হিসাবে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলা ঘটেছে ফিনিক্সের উত্তরাঞ্চলের একটি ইসলামিক সেন্টারে, যেখানে মুসলিম পরিবার ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল। হামলার ফলে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডোমিঙ্গেজ ঘটনার সময় মাদক এবং নেশাজাতীয় ক্যান্ডি খেয়েছিলেন। তিনি মেথামফেটামাইন ব্যবহার করেছিলেন জাগ্রত থাকার জন্য এবং ফেন্টানিল গ্রহণ করেছিলেন স্বাভাবিক অবস্থায় থাকার জন্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডোমিঙ্গেজ তার বন্ধুকে দোষারোপ করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে হামলার জন্য ব্যবহৃত সব অস্ত্র বিবি গান, পেইন্টবল পিস্তল এবং অন্যান্য সামগ্রী তারই ছিল। ডোমিঙ্গেজ পুলিশের কাছে বলেছেন, আমি জানি না আমি গুলি করেছি কি না। হয়তো করেছি, কিন্তু এটি কালো জনগণের জন্য নয়।
পুলিশ এখনো হামলার উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে পারেনি। তদন্তে দেখা গেছে, ডোমিঙ্গেজের নেশা এবং মানসিক অবস্থার প্রভাব হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তারা সমস্ত সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ এবং অস্ত্রের সঙ্গে প্রাপ্ত সামগ্রী পরীক্ষা করছে। ফিনিক্সের মুসলিম সম্প্রদায় এ ঘটনার পরে নিরাপত্তা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের অভিভাবকরা বলেছেন, হামলার পরে তারা রমজান মাসে মসজিদে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রহর বৃদ্ধি এবং নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। এ হামলার ঘটনাটি মুসলিম সম্প্রদায়কে সচেতন করেছে যে, রমজান মাসে নামাজ আদায়ের সময়ও তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।