২৯ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ০৫:৫৬:০০ অপরাহ্ন


পাঁচ লাখ ডাকা অভিবাসীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৯-০৪-২০২৬
পাঁচ লাখ ডাকা অভিবাসীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস বা ডাকা


যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলস একটি নতুন নজির স্থাপনকারী সিদ্ধান্তে জানিয়েছে, ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস বা ডাকা প্রোগ্রামের আওতায় থাকা অভিবাসীদের শুধু এ স্ট্যাটাস থাকলেই নির্বাসন থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে না। ২৪ এপ্রিল প্রকাশিত এ রায়ে বলা হয়, ডাকা প্রাপ্ত হওয়া কোনোভাবেই অভিবাসন আদালতে স্থায়ী বা স্বয়ংক্রিয় আইনি সুরক্ষা হিসেবে গণ্য হবে না। এ সিদ্বান্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় পাঁচ লাখ ডাকা প্রাপকের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। 

এ সিদ্ধান্তটি আসে কাতালিনা এক্সোচিটল সান্তিয়াগোর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে। সান্তিয়াগো, যিনি ডাকা প্রোগ্রামের সুবিধাভোগী, তাকে এল পাসো বিমানবন্দরে ডোমেস্টিক ফ্লাইটে ওঠার সময় আটক করে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন। পরে তাকে অভিবাসন হেফাজতে রাখা হয়, যদিও এক ফেডারেল আদালত পরে তাকে মুক্তি দেয়। তার বিরুদ্ধে চলমান নির্বাসন প্রক্রিয়ায় ইমিগ্রেশন জজ মাইকেল প্লেটার্স মামলাটি খারিজ করেছিলেন এ যুক্তিতে যে ডাকা স্ট্যাটাস থাকায় তাকে রক্ষা দেওয়া উচিত, কিন্তু হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট আপিল করলে বিষয়টি বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলসে পাঠানো হয়। 

তিন সদস্যের আপিল প্যানেল শেষ পর্যন্ত সরকারের অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়ে জানায়, শুধু ডাকা স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে নির্বাসন প্রক্রিয়া বন্ধ করা আইনি ভুল। ফলে মামলাটি নতুন করে অন্য ইমিগ্রেশন জজের কাছে পাঠানো হয়েছে। যদিও এ সিদ্ধান্ত সরাসরি সান্তিয়াগোকে নির্বাসনের নির্দেশ দেয় না, তবে এটি ভবিষ্যতে ডাকা প্রাপকদের জন্য আদালতে প্রতিরক্ষা দুর্বল করে দিতে পারে বলে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। 

ডাকা প্রোগ্রামটি ২০১২ সালে চালু করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল শিশু বয়সে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের সাময়িকভাবে নির্বাসন থেকে রক্ষা করা এবং কাজের অনুমতি প্রদান করা। বর্তমানে এ প্রোগ্রামের আওতায় প্রায় ৫ লাখের বেশি মানুষ রয়েছে, যাদের ড্রিমার্স নামেও পরিচিত। তবে এটি কোনো স্থায়ী নাগরিকত্ব, গ্রিনকার্ড বা দীর্ঘমেয়াদি আইনি অবস্থান দেয় না এবং প্রতি দুই বছর পরপর পুনর্নবায়ন করতে হয়। 

নতুন এ রায় ঘিরে মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউনাইটেড উই ড্রিমের উপ-পরিচালক জুলিয়ানা মেসেডো দো নাসিমেন্টো বলেন, ডাকা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার এবং এ সিদ্ধান্ত সেই সুরক্ষাকে ধীরে ধীরে দুর্বল করছে। তার মতে, এটি প্রোগ্রামটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল না করেও কার্যত এর সুরক্ষা কমিয়ে দিচ্ছে, যা অভিবাসী পরিবারগুলোর ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে। 

এ পরিবর্তন এমন এক সময়ে এলো যখন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে অভিবাসন নীতি আরো কঠোর করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রশাসন ইতোমধ্যে ডাকা প্রাপকদের কিছু ফেডারেল সুবিধা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার করেছে। পাশাপাশি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কিছু নথিতে ডাকা প্রাপকদের স্বেচ্ছায় স্বদেশে ফিরে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। 

অন্যদিকে অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট আইনজীবীরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশিসংখ্যক মামলায় বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলসে আপিল করছে। একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত বছরে বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলস প্রায় ৯৭ শতাংশ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছে, যা গত ১৬ বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এ পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান কঠোরতার ইঙ্গিত দেয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। 

বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলসের সিদ্ধান্তগুলো অভিবাসন আদালতের পুরো কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রে এখন অভিবাসীদের জামিন পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে এবং নির্বাসন আরো দ্রুত কার্যকর করা সহজ হচ্ছে। কিছু প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী ভবিষ্যতে অভিবাসন আপিল প্রক্রিয়াও আরো কঠিন হতে পারে। অভিবাসন আদালতগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অধীনস্থ হলেও এগুলো বিচার বিভাগের অংশ নয়, বরং নির্বাহী শাখার অন্তর্ভুক্ত অফিস অফ ইমিগ্রেশন রিভিউ দ্বারা পরিচালিত হয়। ফলে রাজনৈতিক প্রশাসনের পরিবর্তন সরাসরি আদালতের সিদ্ধান্ত এবং নীতিতে প্রভাব ফেলে। 

এ সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, বিশেষ করে ডাকা প্রোগ্রাম নিয়ে চলমান বিতর্ক আরো তীব্র হলো। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এটি হাজারো অভিবাসীর জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করবে এবং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী তরুণ অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে ফেলবে। 

শেয়ার করুন