০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, রবিবার, ১১:৫১:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চিয়তা ‘উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিনঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই রয়েছে’ এনসিপির ৩৬ দফার ইশতেহার, কী আছে তাতে? ১২ ফেব্রুয়ারী ধানের শীষের পাশাপাশি হ্যা ভোট দেয়ারও আহ্বান তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের জয়, নাইকোকে ৫১৬ কোটি টাকা জরিমানা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ- ইসি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে- জাহাঙ্গীর তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশের আহ্বান নিরাপদ কর্মপরিবেশের দায়িত্ব নিয়োগকর্তারই `খুব ঠান্ডা শীত এলে এখনো পিঠে ব্যথা হয়, কারাগারে নির্যাতনের ফল'


বৈধ ইমিগ্রেশন বন্ধের কারণে ৬৮ লাখ ওয়ার্ক ফোর্স কমে যাবে
মঈনুদ্দীন নাসের
  • আপডেট করা হয়েছে : ২১-০১-২০২৬
বৈধ ইমিগ্রেশন বন্ধের কারণে ৬৮ লাখ ওয়ার্ক ফোর্স কমে যাবে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস


ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজত্বে গত এক বছরে ৬ লাখেরও বেশি ইমিগ্র্যান্ট কম আনা হয়েছে। এ সংখ্যা বৈধ ইমিগ্র্যান্টদের। এতো বেশিসংখ্যক ইমিগ্র্যান্ট এ দেশে আসা বন্ধ করার অর্থ হছে-এ প্রক্রিয়া আরো চলবে এবং তা আমেরিকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে শ্লথ করে দেবে। ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসি (এনএফএপি) এ তথ্য দিয়েছে। প্রশাসন বছরে এক লাখ রিফিউজি আগমনও কমিয়েছে। অর্থাৎ আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে ৪ লাখ রিফিউজি কম প্রবেশ করবে আমেরিকায়। গত ১৬ ডিসেম্বের ট্রাম্প প্রশাসন এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে ৭৯টি দেশ থেকে (বাংলাদেশসহ) আত্মীয়স্বজনদের বৈধ ইমিগ্রেশন দুই লাখেরও বেশি কমিয়েছে। আমেরিকায় সিটিজেনশিপ ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশসহ ৩৯টি দেশের লোকদের যাদের আবেদন ২০ জানুয়ারি ২০২১ সাল থেকে অনুমোদিত হয়েছে তাদের অনুমোদন পুনরায় খতিয়ে দেখবে।

হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ‘কমজাত’খ্যাত স্টিফেন মিলারের নেতৃত্বে চলছে ইমিগ্র্যান্ট হ্রাসের তৎপরতা। তার নেতৃত্বে চলছে শ্রমবাজারে শ্রমিক স্বল্পতার কারিগরি প্রয়াস। যদিও অর্থনীতিবিদরা বলেছেন যে, আমেরিকায় অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং উচ্চতর স্ট্যান্ডার্ডের জীবন-জীবিকা আহরণে আরো শ্রমিক প্রয়োজন। শ্রমিক কমানো চলবে না। তাছাড়া রিফিউজিদের প্রবেশের সংখ্যা কমানো এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির ইমিগ্রেশন কমানোর ঘোষণা ছাড়াও প্রশাসন বছরে এক মিলিয়ন বা ১০ লাখ ইমিগ্র্যান্ট বিতাড়নের ঘোষণা দিয়েছে। ঘোষণা করেছে টেম্পোরারি প্রটেক্ট্রেড স্ট্যাটাস কমানোর এবং স্বাভাবিক ইমিগ্র্যান্ট কমানোর মতো ভিন্ন ভিন্ন পদক্ষেপের। তাছাড়া প্রায় সব দেশ থেকে মানবিক পেরোলের মতো ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে কয়েক লাখ টেম্পেরারি প্রটেকটেড স্ট্যাটাসে আমেরিকায় অবস্থানরতদের ফেরত পাঠানোর ক্ষমতা দিয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্রমিকদের সংখ্যা বৃদ্ধির উপর নির্ভর করে। তাছাড়া উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য চাই প্রয়োজনীয় শ্রমিক। তাছাড়া প্রয়োজন বৃদ্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমিকদের স্থান পূরণে নতুন শ্রমিক। এতে করে দেখা যায় ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে বৈধ ও অবৈধ ইমিগ্রেশন ৬.৮ মিলিয়ন বা ৬৮ লাখের ট্রার্গেট পূরণ সম্ভব নয়।

এদিকে এনএফএপি (ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসি) ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ইমিগ্রেশন বন্ধ করার বিষয়ে কোনো প্রকার আলোকপাত করেনি। এদিকে বিভিন্ন খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদদের কথায় দেখা যায়, গত ২০ বছরে আমেরিকায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূলে রয়েছে বিদেশি পেশাদারদের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল খাতে আগমন। কিন্তু ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিক্সে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ট্রাম্পের ক্ষমতারোহণের পর মার্চ পর্যন্ত পেশাদারদের আগমন বাড়লেও ১৫ লাখ লোক কম এসেছে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস ও সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে এতে প্রায় ২০ লাখ ওয়ার্কারের ব্যাপক গ্যাপ সৃষ্টি হয়েছে।

তারপরও দেখা যায়, আমেরিকায় জন্ম নেওয়া ওয়ার্কাররা বিদেশ থেকে দক্ষ ওয়ার্কার না আসার কারণে কোনো প্রকার উপকার পায়নি। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আমেরিকায় জন্ম নেওয়া ওয়ার্কারদের মধ্যে বেকারত্ব ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ ২০২৪ সালের নভেম্বর এ হার ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। আর একই সময়ে শ্রমবাজারে আমেরিকান লেবার ফোর্সের অংশগ্রহণ ছিল ৬১ দশমিক ৬ শতাংশ।

আগামী বছর প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নতুন করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে ইমিগ্রেশনের খাতে। তারা খারাপ সংবাদের ওপর ভিত্তি করে তা করছে। অথচ সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে না। তারা বলছে ধীরগতিতে চাকরি বাড়ছে। কিন্তু তা যত না অন্য কারণে তার চেয়ে বেশি কারণ হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাণিজ্য, ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য ইস্যু। 

প্রশাসন গত বছর ডাইভারসিটি ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে হত্যাকাণ্ডের পর। কিন্তু গৃহীত ব্যবস্থা কেন তার কোনো সঠিক বিশ্লেষণ নেই। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে দেশে খারাপ কিছু ঘটলেই তার জন্য প্রশাসন বসে থাকে এর প্রতিবারই ইমিগ্রেশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে।

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইমিগ্রেশন ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় হলেও ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার তা অগ্রাহ্য করে নিজের মতো করে রুল বানায়। এ ব্যক্তি নীরবে ইমিগ্রেশন বন্ধ করে দেওয়ার যন্ত্রণা দিয়ে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন