০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৫:০৫:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাসসের নবনিযুক্ত এমডি ও প্রধান সম্পাদককে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবর্ধনা বাসস'র এমডি ও প্রধান সম্পাদক পদে নিয়োগ পেলেন কাদের গনি চৌধুরী কপ সম্মেলনে যোগ দিতে নভেম্বরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নেপাল-তিব্বতে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৩৯২, নিখোঁজ প্রায় ১,৪০০ আফগান-আমেরিকান হিসেবে প্রথমবার মার্কিন কংগ্রেসে আইশা ওয়াহাব আমেরিকানদের গৃহস্থালি ঋণ ১৮.৮ ট্রিলিয়ন, ক্রেডিট কার্ড ১.২৬ ট্রিলিয়ন ওহাইওতে মসজিদে সাত বছরে তৃতীয় হামলা জনপ্রিয় হচ্ছে তিন বছরের কলেজ ডিগ্রি, তবে আছে বিতর্ক মুসলিম নারীকর্মীর বৈষম্যের অভিযোগে ওক পার্ক সিটির বিরুদ্ধে মামলা সশস্ত্র ডাকাতের গুলিতে বাংলাদেশি মহসিন রানা নিহত


হাটবাজার ও এক প্রবাসীর স্মৃতি
আকবর হায়দার কিরন
  • আপডেট করা হয়েছে : ০১-০৫-২০২৫
হাটবাজার ও এক প্রবাসীর স্মৃতি হাটবাজার


জ‍্যাকসন হাইটসের প্রাণ, আমাদের সবার চেনা হাটবাজার। ৩০ এপ্রিলের পর আর থাকছে না! চোখের সামনেই ৭৩ স্ট্রিটে ননী ভাই, বাদল ভাই, বিদ‍্যুৎ দাদার হাত ধরে যখন হাটবাজার রেস্তোরাঁ ও সুপার মার্কেটের যাত্রা শুরু, সেই স্মৃতি আজও জ্বলজ্বল করে। আরও আগে, উল্টোদিকে, মান্নান ভাই খুলেছিলেন প্রথম গ্রোসারী ১৯৯৬ সালে। ননী ভাইকে দেখতাম হারুন ভাইয়ের আলাউদ্দিন থেকে খাবার কিনে আনতে। তারপর একদিন দেখলাম, “হাটবাজার” হয়ে গেলো আমাদের নতুন ঠিকানা।

জ‍্যাকসন হাইটসে এলে হাটবাজারের চা অথবা হালিম না খাওয়া যেন অসম্পূর্ণ ভ্রমণ। সেই নিচতলার মিলনায়তন। যেখানে রোকেয়া হায়দার আপাকে নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান করেছিলাম, যেখানে তারিক মাহবুব ভাইয়ের স্মরণসভায় কান্নায় ভিজেছিলো পুরো সন্ধ্যা। পেছনের দোতলায় ইকবাল বাহার চৌধুরী ভাইয়ের স্মরণে ছোট্ট কিন্তু হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া আসর। আজও স্মরণে।

আমার মোহন দাদা এসেই খুঁজে নিতেন হাটবাজারের আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া। দুই যুগ আগে আলী আজম ভাই আর আমি প্রায়ই ইফতার করেছি এখানে। রোকেয়া আপার প্রিয় ছিলো এখানকার ডালপুরি। আমি প্রায়ই ফেডেক্স করে পাঠাতাম তাঁর কাছে। এস্টোরিয়ার এসটিভিইউএস স্টুডিওতে রেকর্ডিং শেষে, হাটবাজারে চা-নাস্তা করে টিভিতে নিজের অনুষ্ঠান দেখা ছিল এক অন্যরকম আনন্দ।

গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডের সাকিল মিয়ার দোকানে চা হাতে আড্ডা। আনোয়ার ভাই আর গোপাল দাদা হাতে চায়ের কাপ নিয়ে ঢুকতেন। এইসব দৃশ্য আজ চোখে ভাসে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নুরুল আজিম ভাইয়ের সাথে প্রায়ই রাতের খাওয়া,

নিহার ভাই, রিদোয়ান ভাই, হাবিব ভাই। কত হাসি, গল্প, পরিকল্পনা। বাদল ভাইকে বলতাম: কচুর লতি আর চিংড়ি চাই! বিদ‍্যুৎ দাদার সেই চমৎকার হাসি,

ননী ভাইয়ের আন্তরিক মেহমানদারি। সবকিছু আজ এক অনিবার্য মিশিং হয়ে রইলো। হাটবাজারের বিদায় শুধু একটি দোকানের বন্ধ হওয়া নয়, এ যেনো প্রবাসের জীবনের এক বিশেষ অধ্যায়ের শেষ হয়ে আসা।

শেয়ার করুন